কলেজের ‘লকার’-এর চাবি অধ্যক্ষের কাছে রয়েছে। আর তিনি ছুটি নিয়ে বাইরে ঘুরতে গিয়েছেন। বেতনের টাকার চেক হিসাবরক্ষককে দিয়ে গেলেও তিনি তা অধ্যক্ষকে না জানিয়ে লকারে রেখে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ওই কারণে শনিবার শিলিগুড়ি কলেজের শিক্ষক-কর্মীদের বেতন মিলল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ উজ্জ্বল চন্দ্র সরকার ছুটিতে থাকায় তার জায়গায় দায়িত্বে রয়েছেন রাজু গুপ্ত। তাঁকে কেন তিনি লকারের চাবি দিয়ে গেলেন না? ফোনে যোগাযোগ করা হলে উজ্জ্বলবাবুর দাবি, ‘‘লকারে নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থাকায় চাবি ও ভাবে দিয়ে যেতে পারি না।’’ দুটি চাবি ব্যবহার করে লকারটি খুলতে হয়। একটি চাবি থাকে উজ্জ্বলবাবুর কাছে। অপরটি হিসাবরক্ষক কৌশ্ক দেব রায়ের কাছে। উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘‘আমি ছুটিতে থাকলে যাতে সমস্যা না হয় তাই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলাম। বেতনের চেক সই করে হিসাবরক্ষককে দিয়ে আসা হয়েছিল। অথচ তিনি আমাকে না জানিয়ে চেকগুলি আবার লকারে রেখে দিয়েছেন। তাতেই সমস্যা হয়েছে। তবে আমি রবিবার ফিরছি। ওই দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ। ১ জানুয়ারি ছুটি ছিল। শনিবার বেতন না হলেও সোমবারে তা হয়ে যাবে।’’ কৌশিকবাবু জানান, চেক তৈরি হয়েই রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘অত টাকার চেক লকারেই তো রাখা হয়। বাইরে রাখলে কিছু হলে তা নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তবে লকারের চাবিটা রাখা হয়নি। তা নিয়েই সমস্যা হয়েছে।’’
বছরের প্রথম দিন ছুটি থাকায় এ দিন বেতন মিলবে বলেই অনেকে আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওই গোলমালের জেরে বেতন না মেলায় অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। কলেজ সূত্রেই জানা গিয়েছে, বর্তমানে ৫৯ জন শিক্ষক এবং ১৮ জন শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। তা ছাড়া আছেন আরও ৩৫ জনের মতো অস্থায়ী শিক্ষক। সকলেরই বেতন আটকে পড়েছে। সরকারি তরফে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের তিন মাসের বেতনের টাকার ‘পে প্যাকেট’ পাঠানো হয়। সেই মতো অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের টাকা সরকারের তরফে আগেই পাঠানো হয়েছে। সেই টাকা কলেজ তহবিলে রয়েছে। তহবিলের থেকে বেতনের চেক এবং শিক্ষক-কর্মীদের নামের তালিকা ব্যাঙ্কে পাঠানো হলে সেই মতো ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-কর্মীদের আমানতে টাকা দিয়ে দেন। উজ্জ্বলবাবুর দাবি, শিক্ষকদের বেতনের চেকে পরিচালন কমিটির সভাপতি এবং অধ্যক্ষ হিসাবে তাঁর সই দরকার হয়। ২ জানুয়ারি এ দিন কলেজের বর্তমান পরিচালন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। সেই সঙ্গে তিনি ছুটিতে যাচ্ছেন বলে অধ্যক্ষ সভাপতি দু জনেই বেতনের চেক প্রস্তুত করেন এবং হিসাবরক্ষক কৌশিক দেব রায়কে বুঝিয়ে দেন। পরিচালন কমিটির সভাপতি প্রতুল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এ দিনের পর যেহেতু পরিচালন কমিটির মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে তাই আগাম বেতনের চেক তৈরি করে রাখতে বলেছিলাম। সেই হিসাবে সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। শনিবারই বেতন হয়ে যেতে পারত। এখন আরও এক দিন বেতনের জন্য. অপেক্ষা করতে হবে।’’