চায়ের দোকানে কাজ করুন, পরামর্শ মমতার

চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ১০০ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে বেকারদের মাটি কাটার কিংবা চায়ের দোকানে কাজ করার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মাদারিহাটের এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, “বেকার ভাইদের অনুরোধ করব, চাকরি আপনাদের নিশ্চয়ই হবে। তবে, হাতের কাছে যা কাজ পান, তাই করুন। তাতে মাসে ৪-৫ হাজার টাকা অন্তত উপার্জন হবে। মনে রাখবেন, কোনও কাজ ছোট নয়।”

Advertisement

নিলয় দাস

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০১৪ ০১:৫৮
Share:

মাদারিহাটে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তরফে উপহার মুখ্যমন্ত্রীকে।

চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ১০০ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে বেকারদের মাটি কাটার কিংবা চায়ের দোকানে কাজ করার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মাদারিহাটের এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, “বেকার ভাইদের অনুরোধ করব, চাকরি আপনাদের নিশ্চয়ই হবে। তবে, হাতের কাছে যা কাজ পান, তাই করুন। তাতে মাসে ৪-৫ হাজার টাকা অন্তত উপার্জন হবে। মনে রাখবেন, কোনও কাজ ছোট নয়।”

Advertisement

দু’বছর আগে দুর্গাপুরে হস্তশিল্পের স্থায়ী মেলা কেন্দ্র ‘দুর্গাপুর হাট’-এর উদ্বোধন করতে গিয়েও মমতা রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের ‘কাজ খুঁজে নেওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “শুধু সরকারি চাকরিই চাকরি? চাকরি না পেলে কী করবেন! চা বিক্রি করুন।” এ দিনও মমতা বেকারদের চায়ের দোকানে কাজ করার পরামর্শ দেন। সেই কাজ করতে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে বেকারেরা কী জবাব দেবেন, তা-ও বাতলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান সেক্ষেত্রে বেকারদের যুক্তি হবে, “চুরি করি না। ডাকাতি করি না। চায়ের দোকানে কাজ করি। এটাই আমার গর্ব। বাড়িতে বাসন ধুই না?”

মাটি কাটার কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি, “কেউ যদি আমাকে বলে, দিদি আপনি মাটি কাটার কাজ করবেন? বলব, নিশ্চয়ই করব। কেন করব না! মাটি আমার জন্মভূমি, মাটি আমার কর্মভূমি, মাটি আমার মাতৃভূমি।” একই সঙ্গে চাকরির জন্য বসে না থেকে বাড়িতে রান্না করে অফিসে সরবরাহ করার পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “আমার বাড়ির কাছে একজন রাস্তার ধারে তেলেভাজা বিক্রি করতেন। তিনি এখন তিন তলা বাড়ি তৈরি করেছেন।” তাই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “হাতের খাবার ফেলতে নেই। হাতের সামনে যে কাজ পাব, সে কাজ করব।”

Advertisement

ডুয়ার্সের মাদারিহাটের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর ওই পরামর্শ নিয়ে সভাস্থলেই শুরু হয়ে যায় নানা আলোচনা। সভায় উপস্থিত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশকে বলতে শোনা যায়, গত ৩ বছরে রাজ্য সরকার কয়েক লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে এবং আগামীতে আরও বেকার যুবক-যুবতীদের কর্ম সংস্থানের সুযোগ হবে বলে বহু বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এত সবের পরে এখন চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত মাটি কাটার জন্য এলাকার বেকারদের বলা কিংবা বেকার যুবতীদের বাড়িতে রান্না করে অফিসে সরবরাহের জন্য উৎসাহ দিতে গেলে কী হবে, তা নিয়ে ভাবছেন তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের অনেকেই। তবে জোর করে জমি না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় মমতা ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যে কোনও ভারী শিল্প গড়ে ওঠেনি। আশু তেমন কোনও সম্ভাবনাও দেখছেন না শিল্পপতিরা। আর ভারী শিল্প না হলে এক সঙ্গে বহু জনের চাকরির সুযোগ হওয়া শক্ত। সে কারণেই বেকারদের লক্ষ্য করে দুর্গাপুরে যে কথা বলেছিলেন, অনেকটা সেই পরামর্শই এ বার মাদারিহাটেও দিলেন তিনি, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

দেশের অন্যতম ক্ষুদ্র জনজাতি গোষ্ঠী টোটো সম্প্রদায়ের বেকার যুবকরা মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে খোলাখুলিই হতাশা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ৬ জন টোটো যুবক স্নাতক হয়ে বেকার বসে। ২০১১ সালে আলিপুরদুয়ার কলেজ থেকে স্নাতক প্রকাশ টোটোর প্রশ্ন, “মাটি কাটতে হলে পড়াশোনার কী মূল্য থাকল?”

বুধবার সন্দীপ পালের তোলা ছবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement