চড়-কাণ্ডে হয়নি মামলা, ক্ষোভ মালদহে

চড় কাণ্ডে ইংরেজবাজারের বিডিও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার ২৪ ঘন্টা পরেও রুজু হয়নি মামলা। পুলিশের বিরুদ্ধে তা নিয়েই ক্ষোভ জানাল আক্রান্ত যুবকের পরিবার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০১৫ ০১:৫৮
Share:

চড় কাণ্ডে ইংরেজবাজারের বিডিও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার ২৪ ঘন্টা পরেও রুজু হয়নি মামলা। পুলিশের বিরুদ্ধে তা নিয়েই ক্ষোভ জানাল আক্রান্ত যুবকের পরিবার।

Advertisement

কানের যন্ত্রণা নিয়ে এখনও মালদহ মেডিক্যালে ভর্তি মালদহ কলেজের অস্থায়ী কর্মী সহদেব রায়। এদিন তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘আমরা গরিব মানুষ বলে পুলিশ ঠিক মতো তদন্ত করছে না।’’ এ দিনও ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেননি ইংরেজবাজারের বিডিও পার্থ দে। তিনি বলেন, ‘‘অফিসে যা হয়েছে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এই বিষয়ে যা বলার তাঁরাই বলবেন।’’ পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তেরই পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

বৃহস্পতিবার ইংরেজবাজার ব্লক অফিসে কাডি পঞ্চায়েতে আধার কার্ডে ছবি তোলার কাজ চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাজিগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের মোহজমাপুর গ্রামের বাসিন্দা, মালদহ কলেজের অস্থায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মী সহদেব রায়ও। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু মাত্র বৃহস্পতিবার করে ছবি তোলার কাজ হয়। প্রতিদিন মাত্র ১২০ জনের ছবি তোলা হয়। ওইদিন ছবি তোলার জন্য হাজির ছিলেন প্রায় ৩০০ জন। যাঁরা এসেছেন তাঁদের প্রত্যেকের ছবি কেন তোলা হবে না তা জানতে বিডিও পার্থ দের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, এরপরেই বিডিও তার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এমনকি বিডিও সপাটে চড় মারেন সহদেববাবুকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সহদেববাবুকে।

Advertisement

দিন রাতে আক্রান্ত যুবকের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আহতের দাদা যুধিষ্ঠির রায় বলেন, ‘‘ভাইকে মারার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। তবুও পুলিশ ঘটনার তদন্তের জন্য একবারও গ্রামে যায়নি। ভাইকেও দেখতে আসেনি। পুলিশ প্রথম থেকে ঘটনাটি লঘু করে দেখার চেষ্টা করছে।’’ কলেজের আক্রান্ত কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কালাম মহম্মদ আনুয়ারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘এমন ভাবে মারা ঠিক হয় নি। পুলিশের উচিত ঘটনার সঠিক এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা।’’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মালদহ কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী।

ব্লক অফিসের কর্মীদের একাংশও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলেন, ‘‘বিডিও পার্থবাবু অনেক সময় আমাদের বিভিন্ন কারণে বকাবকি করে থাকেন। তিনি একটুকুতেই খুব রেগে যান। তবে ঘরের মধ্যে কী হয়েছে তা আমরা বলতে পারব না।’’ এই বিষয়ে জেলা শাসক শরদকুমার দ্বিবেদী বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। তদন্তের পরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement