ছোলা-চিনির দাম বেশি রেশনে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা

চিনি, ছোলা, ময়দা, সর্ষের তেল। রমজানের সময়ে প্রতি বছর এই সবই সস্তায় মেলে রেশনে। কিন্তু এ বছর উলটপুরাণ। রেশনে এগুলির যা দাম, তার চাইতে কম দামে মিলছে খোলা বাজারে। ক্ষুব্ধ রেশন গ্রাহক, বিপাকে রেশন ডিলাররা। রেশন ডিলারদের বক্তব্য, গ্রাহকদের ক্ষোভ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

Advertisement

নিলয় দাস

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৫ ০১:৫২
Share:

চিনি, ছোলা, ময়দা, সর্ষের তেল। রমজানের সময়ে প্রতি বছর এই সবই সস্তায় মেলে রেশনে। কিন্তু এ বছর উলটপুরাণ। রেশনে এগুলির যা দাম, তার চাইতে কম দামে মিলছে খোলা বাজারে। ক্ষুব্ধ রেশন গ্রাহক, বিপাকে রেশন ডিলাররা।

Advertisement

রেশন ডিলারদের বক্তব্য, গ্রাহকদের ক্ষোভ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। রেশন ডিলারদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল এমআর ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক খইরুল আলম জানিয়েছেন, দু’সপ্তাহ আগে রমজান উপলক্ষে রেশনে চিনি, সরষের তেল, ছোলা, ময়দা সরবরাহ করে খাদ্য দফতর। কিলো প্রতি যে মানের ছোলা ৫৭ টাকা ৫১ পয়সাতে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করার নির্দেশ এসেছে, সে ছোলার দাম উত্তরবঙ্গের খোলা বাজারে ৫১ থেকে ৫৩ টাকার উপর নয়। রেশনে এপিএলদের জন্য বরাদ্দ চিনির দাম কিলো প্রতি ২৮ টাকা। সেই মানের চিনি খোলা বাজারে ২৪-২৫ টাকায় মিলছে। ৫০০ মিলি লিটার সর্ষের তেলের দাম রেশনে ৫১ টাকা। বাজারে সে মানের তেলের দাম ৪৫ টাকা।

তিনি বলেন, ‘‘খোদ খাদ্যমন্ত্রী ও খাদ্য দফতরের ডিরেক্টরকে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানিয়ে আসি। তাতে ফল মেলেনি। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। মাল বিক্রি হচ্ছে না। সম্ভবত পরে তা কেনা দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হবে অথবা অবিক্রীত অবস্থাতেই পড়ে থাকবে।’’

Advertisement

ফালাকাটার ব্যবসায়ী রমেশ অগ্রবালের কথায়, ‘‘ভাল মানের চিনি শিলিগুড়ির পাইকারি বাজার থেকে ২৫ টাকায় কিনে খুচরো বিক্রি করে প্রতি কিলোগ্রামে ১ টাকা লাভ করছি।’’ তাঁর দাবি, জয়পুর থেকে আনা প্যাকেটজাত সর্ষের তেলও রেশনের তুলনায় কম দামে তাঁরা বিক্রি করছি। এখানে উৎপাদিত সরষের তেল ৫০০ মিলিলিটারের দাম ৪৫ টাকা। আমরাই তো রেশনের থেকে কম দামে বিক্রি করছি।’’

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক যুক্তি দিয়েছেন, ‘‘চিনি ছাড়া ছোলা বা সর্ষের তেলের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে না। দু’মাস আগে টেন্ডারে আমরা ৫৬ টাকার ছোলা নিয়েছিলাম। রমজান উপলক্ষে বাজারে যদি ছোলার দাম বেড়ে যায়, সে সময় যাতে মানুষজন রেশন থেকে তা বাজারের তুলনায় কম দামে পান, সে জন্য আমরা রেশনে তা সরবরাহ করেছি।’’ তবে চিনির দামের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর যুক্তি, ‘‘শিলিগুড়ির পাইকারি বাজারে যে দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে, খুচরো খদ্দেররা তা পাবেন না।’’

Advertisement

কিন্তু রেশনের দাম যদি বেশি হয়, তা হলে সরকারি ভর্তুকির টাকা গেল কোথায়, সে প্রশ্ন উঠেছে। ফালাকাটা মসজিদের ইমাম একরামুল হক বলেন, ‘‘রমজানের সময় আশা করেছিলাম রেশনে অন্তত কম দামে ছোলা, তেল, চিনি মিলবে। এখন দেখছি বাজারে এর থেকে কম দামে তা মিলছে। বিষয়টি সরকারের আগেই দেখা উচিত ছিল।’’

গ্রাহকদের এই ক্ষোভকে পুঁজি করেই আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বামেরা। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশ অধিকারী বলেন, ‘‘রমজান ও পুজোর সময় আমরা বিশেষ খাদ্যসামগ্রী বণ্টন করেছি। তবে তা কোনও দিন খোলা বাজার দরের তুলনায় বেশি ছিল না। রীতিমতো ভর্তুকি দেওয়া হতো আমাদের সময়। এ নিয়ে আন্দোলনে নামব বলে ঠিক করেছি।’’

আরএসপি-র রাজ্য নেতা অশোক ঘোষ এই সমস্ত ঘটনার পেছনে বড় ধরনের দুর্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এ নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ভর্তুকি দিয়ে সরকার সরবরাহ করবে এটাই নিয়ম হওয়া উচিত।’’ এ নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনিও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement