সহকর্মী মহলে প্রচণ্ড জেদি বলে পরিচিত চাঁচল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঘেরাওয়ের ৩৪ ঘণ্টায় খেয়েছিলেন শুধু জল আর একটা চ্যুইংগাম। এমনকী সুগার ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলেও ঘেরাও হয়ে থাকার সময় ওষুধও খাননি।
একটা সময়ের পর বেশ অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে চিকিত্সক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলে গিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতি তাতে যে কোনও সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওষুধও দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গী শিক্ষাকর্মী ওষুধ কিনে আনতে চাইলেও তাকে যেতে দেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। যা কিছু ঘটুক, নিজে পুলিশ ডাকবেন না বলেও পণ করেছিলেন। ফলে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের হাত থেকে যে সহজে নিস্তার মিলবে না তাও বুঝে গিয়েছিলেন।
সঙ্গী শিক্ষাকর্মীকে বলেছিলেন, ‘‘ব্যাগে একটা চিঠি লিখে রেখেছি। আমার যা শরীরের অবস্থা। তেমন কিছু হলে চিঠিটা নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দিও।’’ ঘেরাও করা না হলেও ওই সময় প্রায় টানা তাঁর কাছে কাছেই ছিলেন অধ্যাপক অজিত বিশ্বাস ও শিক্ষাকর্মী পঙ্কজ কর্মকার। তিনজনের কাছ থেকেই উঠে এসেছে ৩৪ ঘন্টার কাহিনি।
প্রতিদিন গঙ্গারামপুর থেকে চাঁচলে যাতায়াত করেন তপেশবাবু। বৃহস্পতিবার দুপুর দু’টো থেকে শুরু হয়েছিল ঘেরাও। ঘণ্টা ছয়েক ঘেরাও হয়ে থাকার পর প্রথম দিন রাত আটটা নাগাদ চেয়ারে বসেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন শিক্ষাকর্মী পঙ্কজবাবু তাঁর পকেটে থাকা একটি চ্যুইংগাম তপেশবাবুর মুখে পুরে দেন। কিছুক্ষণ বাদেই ধাতস্থ হয়ে টেবিলে মাথা রেখে বসে থাকেন। রাতে তপেশবাবুর জন্যও ভাত, ডাল, সব্জি নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু জোরাজুরি করেও খাওয়ানো যায়নি।
তারপর সারারাত চেয়ারে বসেই কাটিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনের অবশ্য দাবি, তারা অধ্যক্ষকে বেঞ্চে ঘুমোনোর কথা বললেও আমল দেননি তিনি। শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই ফের শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। তপেশবাবুও ব্যস্ত হয়ে পড়েন ফর্ম পূরণ সংক্রান্ত কাজকর্ম নিয়ে। চেয়ারে বসেই কর্মীদের নির্দেশ দিতে থাকেন। বিক্ষোভও চলতে থাকে। একসময় রক্তচাপ বেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে দেখে যান হাসপাতালের চিকিত্সক দীপাঞ্জন দাস। তারপর শুক্রবার গোটা দিনটাও এভাবেই কেটে যায়। সেদিনও যে ছাড়া মিলছে না তা বুঝে গিয়ে রাতে চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়েছিলেন তপেশবাবু। সামনের চেয়ারে ছিলেন পঙ্কজবাবু। হঠাৎ পুলিশ এসে তপেশবাবুকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠায়।
কাকে চিঠি লিখেছিলেন? হাসতে হাসতে এ দিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘আমি তো একেবারে ঠিক আছি। তাই চিঠির আর দরকার হয়নি।’’