ট্রেড লাইসেন্স ফি নিয়ে হইচই শিলিগুড়ি পুরসভায়

ট্রেড লাইসেন্স ফি নিয়ে ৩ ঘণ্টা চাপান-উতোর চলল শিলিগুড়ি পুরসভার ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশের বৈঠকে। শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার সভাকক্ষে বেলা ১টা থেকে তা নিয়ে কার্যত নাটক চলে। পুরনো হারে ট্রেড লাইসেন্স ফি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হলেও কেন বর্ধিত হারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তা নেওয়া হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলে মেয়র ব্যর্থ, তাঁকে ভর্ৎসনা করা হল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০১৪ ০১:২২
Share:

ট্রেড লাইসেন্স ফি নিয়ে ৩ ঘণ্টা চাপান-উতোর চলল শিলিগুড়ি পুরসভার ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশের বৈঠকে।

Advertisement

শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার সভাকক্ষে বেলা ১টা থেকে তা নিয়ে কার্যত নাটক চলে। পুরনো হারে ট্রেড লাইসেন্স ফি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হলেও কেন বর্ধিত হারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তা নেওয়া হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলে মেয়র ব্যর্থ, তাঁকে ভর্ৎসনা করা হল, তাঁর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনা হচ্ছে, মেয়রের পদত্যাগ করা উচিত বলে চিৎকার জুড়ে দেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। তাঁদের প্রশ্নের সদুত্তর না দিলে ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন। যদিও নিয়মমাফিক কোনও নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়নি। মেয়র জানান, বৈঠকে এ রকম আচরণ ঠিক নয়। পুরনো হারে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বর্ধিত হারে তা নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী বামেরাও। শেষ পর্যন্ত মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত জানিয়ে দেন, ১ মার্চ কাউন্সিলররা বসে পুরনো হারে ট্রেড লাইসেন্স ফি নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগামী সোমবার থেকেই তা কার্যকর করা হবে। তবে যে ব্যবসায়ীরা বর্ধিত হারে ফি জমা দিয়েছেন তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত এ দিন হয়নি। ডান, বাম কোনও পক্ষই সে ব্যাপারে তৎপরতা দেখাননি। বাড়তি যে টাকা তাঁরা জমা দিয়েছেন তা ফেরতের দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত বলেন, “ফি কমাতে বিশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নিয়ম জানতে চাওয়া হলে কমিশনার মেয়র পারিষদ দেবশঙ্কর সাহাকে জানিয়েছিলেন নির্বাচনী বিধি নিষেধের জেরে তা করা যাবে না। সেই মতো বর্ধিত হারে ফি নেওয়া হচ্ছিল। তবে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আমি সহমত, নির্বাচনের দিণক্ষণ ঘোষণার আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই সকলেই যখন চাইছেন সোমবার থেকেই তা কার্যকর হবে।” উল্লেখ্য, ৫ মার্চ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হলে নির্বাচনী বিধিনিষেধ লাগু হয়। অথচ তার আগেই পুরনো হারে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর না করা অনুচিত হয়েছে বলে স্বীকার করেন মেয়র।

Advertisement

তৃণমূলের তরফে প্রাক্তন মেয়র পারিষদ কৃষ্ণ পাল, প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন শীলশর্মার প্রশ্ন, ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের দরজায় ব্যবসায়ীদের মুচলেকা লিখে বর্ধিত হারে ফি জমা দিতে নোটিশ দেওয়া হল কেন? কে নোটিশ দিয়েছে মেয়র এবং দেবশঙ্করবাবুরা তা জানেন না বললে হইচই শুরু করেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। বিরোধী দলনেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম এবং তাঁদের কাউন্সিলররা পুর কমিশনারকে এর জন্য দায়ী করেন। কেন না তাঁরা ২৬ মার্চ বিষয়টি তাঁর নজরে এনেছিলেন। সেই কারণে পুর কমিশনার সোনম ওয়াংদি ভুটিয়াকেও সভায় জবাব দিতে বলা হয়। তিনি নির্বাচনী বিধি নিষেধ থাকাকে কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন। তবে কাউন্সিলররা তা মানতে চাননি।

শেষ পর্যন্ত পুরনো হারে ফি সংগ্রহ চালু করতে মেয়র আশ্বাস দিলে তাঁকে ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করতে দেওয়া হয়। এ দিন আগামী ৩ মাসের আয়- ব্যায়ের ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকার ঘাটতি ভোট অন অ্যাকাউন্ট পাশ হয়। ৩ মাসে ৩৮ কোটি ৮৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭০০ টাকা খরচের প্রস্তাব দেন তিনি। বিরোধী দলনেতা নুরুলবাবু বলেন, “বর্ধিত হারে ট্রেড লাইসেন্স ফি সংগ্রহ করার বিরুদ্ধে প্রথমে আমরাই প্রশ্ন তুলেছি। তৃণমূল আমাদের প্রশ্ন কেড়ে হাওয়া গরম করতে চাইছে। বাস্তবে পুরসভায় কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের বোর্ডের সময় ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ানো হয়েছিল।” কৃষ্ণবাবুর দাবি, ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ানো নিয়ে তারাই প্রথমে আন্দোলনে নামেন। উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর ব্যবসায়ীক সংগঠন ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স, নর্থবেঙ্গল (ফোসিন)-এর সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস জানান, ২০১২ সালের ১ অগস্ট ট্রেট লাইসেন্স ফি মাত্রাতিরিক্ত বাড়ালে তাঁরা প্রতিবাদ করেন। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, “পুরনো হারে ফি নেওয়া চালু করা এবং যাঁরা সেই সময় থেকে বর্ধিত ফি দিয়েছেন সেই ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত দিতে হবে।”

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement