সচেতনতায় প্রচার প্রশাসনের

ডাইনি অপবাদে খুনে কঠোর শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে ডাইনি অপবাদে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার ওই গ্রামে সচেতনতার প্রচারে যান কুমারগঞ্জের বিডিও ইশে তামাং, বিএমওএইচ পুষ্পেন্দু ভট্টাচার্য, থানার ওসি গণেশ শর্মা এবং গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান রাজকুমার রায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৪২
Share:

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে ডাইনি অপবাদে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার ওই গ্রামে সচেতনতার প্রচারে যান কুমারগঞ্জের বিডিও ইশে তামাং, বিএমওএইচ পুষ্পেন্দু ভট্টাচার্য, থানার ওসি গণেশ শর্মা এবং গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান রাজকুমার রায়। এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে তাঁরা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার করেন। ওই সভায় উপস্থিত আদিবাসী সমাজের পক্ষে প্রাক্তন সৈনিক সুফল হেমব্রম দাবি করেন, ‘‘কেবল সচেতনতার প্রচার নয়। ডাইনি অপবাদ দিয়ে অসহায় বৃদ্ধাকে খুনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’’ প্রতিবার সচেতনতার প্রচারের পর দোষীরা ছাড় পেয়ে যায় বলে সুফলবাবু অভিযোগ করেছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে কুমারগঞ্জ থানার সাফানগর অঞ্চলের পারা এলাকায় মায়া হেমব্রম (৬৫) নামে অসহায় বিধবাকে পিটিয়ে খুন করা হয়। কুমারগঞ্জ থানার ওসি গণেশ শর্মা বলেন, ‘‘ওই দিন সকালে এলাকার বিপিয়া মার্ডি (৬০) নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধা মারা যান। তার মৃত্যুর জন্য অসহায় বৃদ্ধা মায়াদেবীকে ডাইনি আখ্যা দিয়ে মৃত বিপিয়ার স্বামী বাবুরাম সরেন এবং তাঁর তিন ছেলের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে হামলা চালিয়ে মায়াদেবীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ।’’ পুলিশ খুনে অভিযুক্ত বিপিয়ার এক ছেলে মনিরাম সরেনকে গ্রেফতার করে ১১ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। এদিন অভিযুক্ত মনিরামকে বালুরঘাটের সিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক পুলিশের আবেদন মেনে ধৃতকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এদিন আদিবাসী অধ্যুষিত ওই এলাকায় গ্রামবাসীদের নিয়ে সভায় প্রাক্তন প্রধান দানিয়া হেমব্রম অভিযোগ করেন, ‘‘ডাইনি অপবাদ দিয়ে যারা ওই বৃদ্ধাকে মেরেছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে ‘এলাকায় তিনজন ডাইন রয়েছে। তার মধ্যে একজনকে মেরেছি। বাকিদের মারতে হবে।’ অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে ভয়ঙ্কর খাণ্ড হয়ে যাবে।’’ আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে সুফল হেমব্রম আদিবাসী ভাষায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘‘প্রাথমিক স্তর থেকে সাঁওতালি ভাষায় পঠনপাঠন চালু না হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ছাত্রছাত্রীদের বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। এতে ড্রপ আউটের সংখ্যাও বাড়ছে। এবং এই ধরনের কুসংস্কার থেকেও তারা বের হতে পারছে না।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement