শেষ হওয়ার মুখে আটকে গেল সংস্কারের কাজ। নিজস্ব চিত্র।
একসময় সারা বছর টলটল করত দিঘির কালো জল। দু’পাশে বিরাট এলাকা জুড়ে ছিল গাছগাছালিতে ভরা বাগান। গরমে সখীদের নিয়ে দিঘিতে নেমে স্নান করতেন রানি। দিঘির জলে গা ভাসাতেন রাজাও। দিঘি ও লাগোয়া বাগানে শীত কালে মেলা বসত পরিযায়ী পাখিদের। এখন সে সব ইতিহাস।
রাজা নেই, রাজবাড়ি এখন মহকুমা আদালত। আর কচুরিপানায় মুখ ঢেকেছে দিঘি। শোনা যায় না পরিযায়ী পাখিদের কিচিরমিচির। কিন্তু কচুরিপানায় ভরা ওই দিঘি থেকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আর আগাছার জঙ্গলে ভরা বাগান হয়েছে সাপ-খোপের আস্তানা। তাই দিঘি সংস্কার-সহ বাগানে সৌন্দর্যায়নের দাবি তুলেছিল বার অ্যাসোসিয়েশন। কেননা আদালতে আসা লোকজনের বসার ব্যবস্থাও আদালত চত্বরে নেই। সেই দাবি মেনে প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে কাজও শুরু করেছিল। কিন্তু কাজ শেষের মুখে আদালতের নির্দেশে ওই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পার্ক তৈরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমস্যা মেটানোর দাবিতে তাই উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার ও জোনাল বিচারপতির দ্বারস্থ হচ্ছে চাঁচল বার অ্যাসোসিয়েশন।
চাঁচল বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘‘সরকারি জায়গায় সরকারি উদ্যোগে ওই কাজ যখন শেষের মুখে তখন তা বন্ধ হওয়ায় আমরা হতাশ। কেননা আবর্জনায় ভরা জলাশয় ও লাগোয়া এলাকা ঝোপঝাড়ে ভর্তি হয়ে গিয়ে আদালতের পরিবেশকেই নষ্ট করছে।’’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচল রাজবাড়ির একাংশে চাঁচল কলেজ। পরে আইন দফতর আদালত তৈরির জন্য বাকি অংশ কিনে নেয়। সেখানেই চালু হয়েছে মহকুমা আদালত। উঁচু সীমানা পাঁচিল ঘেরা রাজবাড়ির পিছনেই রয়েছে ওই দিঘি। ১০ বিঘার ওই দিঘি ছাড়াও রয়েছে ১২ বিঘার বাগান। চারপাশের খালবিল শুকিয়ে গেলেও কখনও ওই দিঘির জল শুকোয় না বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেই দিঘি কচুরিপানায় ভরে দূষণ ছড়াচ্ছিল। লাগোয়া বাগানও ঝোপঝাড়ে ভরে পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছিল।
তাই বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাব পাওয়ার পর রাজবাড়ি ও ঠাকুরবাড়ি দেখতে আসা মানুষদের বিশ্রামের কথা ভেবে জলাশয় সংস্কার সহ বাগানে পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে বসার জায়গা ও দিঘিতে বোটিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হয়েছিল। কেন না প্রায় প্রতিদিন রাজবাড়ি ও ঠাকুরবাড়ি দেখতে অনেক দর্শনার্থীই ভিড় করেন। ফলে দিঘিকে ঘিরে সৌন্দর্যায়ন হলে রাজবাড়ি ও ঠাকুরবাড়ি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের পাশাপাশি আদালতে আসা লোকজনদেরও বসার জায়গার সমস্যা মিটত।
ফলে দিঘি সংস্কার ও পার্ক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন প্রাক্তন মহকুমাশাসক জয়ন্ত মণ্ডল। দিঘি সংস্কার শেষে পার্ক তৈরির কাজ চলছিল। তিনি কয়েকদিন আগে বদলি হয়ে গিয়েছেন। কেন কাজ বন্ধ হল সে প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি চাঁচলের নতুন মহকুমাশাসক পুষ্কর রায়।
যদিও বার অ্যাসোসিয়েশন ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি চাঁচল আদালতের তরফে ওই কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয় প্রশাসনকে। আদালতের জায়গায় ওই কাজ করা হচ্ছে কি না তা জানতে মাপজোক করার কথা বলা হয়।
ওই দিঘি সংস্কার করে প্রশাসন পার্ক গড়ার উদ্যোগ নেওয়ায় শহর জুড়েই খুশীর আবহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষের মুখে তা বন্ধ হওয়ায় মুষড়ে পড়েছেন তাঁরা। তবে বার অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগী হওয়ায় ফের ওই পার্ক চালু হওয়ার আশায় দিন গুনছেন বাসিন্দারা।