করণদিঘিতে কর্মিসভায় শুভেন্দু অধিকারী। নিজস্ব চিত্র।
আগে নানা ভাবে কংগ্রেস নেতাদের আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের নেতারা। এ বারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, রায়গঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত ও প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ দীপা দাশমুন্সিকে তরমুজ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দুপুরে রায়গঞ্জ, করণদিঘি ও গোয়ালপোখর বিধানসভা কেন্দ্রে চারটি কর্মিসভায় যোগ দেন শুভেন্দুবাবু। রায়গঞ্জের বিদ্যাচক্র হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত ওই কর্মিসভায় শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘‘দীপা, অধীর ও মোহিত এঁরা সকলেই তরমুজ। বাইরে সবুজ ভিতরে লাল।’’ তাঁর দাবি, কংগ্রেস যে সিপিএমের বি টিম তা কিছু দিন আগে মোহিতবাবু শিলিগুড়ি পুর কর্পোরেশনের সিপিএমের মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে প্রমাণ করে দিয়েছেন।
শুভেন্দুবাবুর বক্তব্য, কংগ্রেস নেতারা বাম আমল থেকেই সিপিএমের সহাবস্থান ভালবাসেন। তার জন্যই ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোহিতবাবুরা জোটধর্ম পালন না করে জেলার একাধিক আসনে তৃণমূলকে হারাতে গোঁজ প্রার্থী দিয়েছিলেন বলে সাংসদের দাবি।
রায়গঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক মোহিতবাবুর পাল্টা দাবি, কংগ্রেস বিরোধী দলের সঙ্গে কোলাকুলি করে না। সৌজন্যতার খাতিরেই তিনি অশোকবাবুর সঙ্গে খোলামেলা বৈঠক করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেসকে যে তৃণমূল ভয় পাচ্ছে, তা শুভেন্দুবাবুর কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাসের সৌজন্যে তৃণমূল ২০১৬ সালে এরাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে পারবে না।’’
শুভেন্দুবাবুর দাবি, গোপন রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে ধারাবাহিক উন্নয়নের সাফল্যে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আড়াইশোর বেশি আসন পেয়ে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাও নিশ্চিত। তাঁর দাবি, অতীতের সমস্ত বিধানসভা, লোকসভা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার বেশিরভাগ বাসিন্দা তৃণমূলকে সমর্থন করেননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র না করে জেলায় দুটি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভবন তৈরির কাজ শুরু করিয়েছেন। মেডিক্যাল কলেজেরও ঘোষণা হয়েছে। শুভেন্দুবাবুর প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে যখন রাজ্য জুড়ে উন্নয়নযোগ্য চলছে, তখন জেলা সদর রায়গঞ্জে কেন কংগ্রেসের বিধায়ক থাকবেন? তাঁর দাবি, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় তৃণমূলের যা ফল হবে, তা দীপা-মোহিতরা ভাবতে পারবেন না। আগামী পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেস রায়গঞ্জে প্রার্থী খুঁজে পাবে না।
এ দিন করণদিঘির ওই কর্মিসভায় জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি গৌতম পালের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস পরিচালিত আলতাপুর-১ ও ২ এবং লাহুতারা গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন।