দম্পতি খুনে ধৃত তিন

দম্পতি খুনের ঘটনার ১২ দিনের মাথায় মোবাইলের সূত্র ধরে দুই সন্দেহভাজন-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে নকশালবাড়ির তোতরাম জোত থেকে বাকি দু’জনকে ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মহম্মদ নাজির, মহম্মদ জাব্বর এবং নাজিরের স্ত্রী তনজমা বেগম।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৩০
Share:

থানায় ধৃতেরা। নিজস্ব চিত্র।

দম্পতি খুনের ঘটনার ১২ দিনের মাথায় মোবাইলের সূত্র ধরে দুই সন্দেহভাজন-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে নকশালবাড়ির তোতরাম জোত থেকে বাকি দু’জনকে ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মহম্মদ নাজির, মহম্মদ জাব্বর এবং নাজিরের স্ত্রী তনজমা বেগম। সকলের বাড়িই নকশালবাড়ি তোতারাম জোতে। তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে লুঠপাট করে দম্পতিকে খুনের আগে মহিলার উপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়।

Advertisement

রবিবার সন্ধেয় দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার অমিত জাভালগি বলেন, ‘‘চুরির মালপত্র নাজিরের স্ত্রীর হেফাজত থেকে পাওয়ায় তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ পুলিশ সুপার জানান, বিহার, খড়িবাড়ি, নেপাল-সহ এই জেলাতেও নাজিরের বিরুদ্ধে নানা মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর ঘোষপুকুর টোলগেট এলাকায় ওই দম্পতিকে খুন করে তাদের দু’বছরের শিশু পুত্রকে ফেলে পালায় দুষ্কৃতীরা। বাচ্চাটির চিৎকারে ভোর নাগাদ প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি টের পান।

পুলিশ জানিয়েছে, নাজির এবং জব্বর উত্তরবঙ্গ, নেপাল ও বিহারে গরু এবং বাইক চুরির বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। ঘটনার দিন রাতে খড়িবাড়ির দুধগেট এলাকা থেকে ধৃতেরা একটি বাড়ির গেট ভেঙে বাইক চুরি করে। ফেরার পথে ঘোষপুকুর এলাকার ওই দম্পতির বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করে। প্রথমে রাজু কর্মকার নামে ওই ব্যক্তিকে ঘুমের মধ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে এলসিডি টিভি নিয়ে পালায়। পাশের ঘরে রাজুবাবুর স্ত্রী অজ্ঞতা খালকো দু’বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন।

Advertisement

পুলিশকে জেরায় ধৃতরা জানায়, পালানোর সময়ে একটি টুপি ওই বাড়িতে ফেলে যায় তারা। আধঘণ্টা পরে টুপি নিতে নাজির ও জব্বর ওই বাড়িতে ঢোকে। তখনই তারা আলামারি ভেঙে টাকা, সোনার গয়না এবং রাজুবাবুর মোবাইলটি নিয়ে পালায়। সেই সময় রাজুবাবু আহত অবস্থায় পাশে স্ত্রী ও ছেলের ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফের তাঁকে লোহার রড থেকে মেরে খুন করা হয়। আওয়াজে অজ্ঞতাদেবী উঠে পড়লে তাঁকেও খুন করা হয় বলে জানায় তারা। ওই মহিলার দেহ বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নও মেলে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে ওই ‘অপারেশন’ চালিয়ে তারা বাড়িটিতে বসে মদ্যপানও করে বলে স্বীকার করেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, রাজু কর্মকার ঘোষপুকুর টোলগেটে কাজ করতেন। পাশেই তাঁর বাড়ি। বড় রাস্তা থেকেই বাড়িটি দেখা যায়। চোরাই মোটরবাইকটি চোপড়া হয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হয়। কয়েক বছর আগে নকশালবাড়িতে নাজিরের সঙ্গে তার দলের লোকজনের গুলির লড়াই হয়েছিল। তার পেটে ও পিঠে গুলির দাগ রয়েছে। নাজির উত্তর দিনাজপুরে রাজুবাবুর মোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে গেলেও এক দফায় সেটিতে নিজের সিম ব্যবহার করে। স্থানীয় সার্কেল ইন্সেপেক্টর (নকশালবাড়ি-বাগডোগরা) সৌম্যজিৎ রায় এবং ওসি কেনিথ ফোনিং আলাদা দল গড়ে তদন্ত চালাতে থাকেন। নাজিরের খোঁজে নেমে তার দলের সদস্য অন্যতম জাব্বরের সন্দেহজনক গতিবিধি জানা যায়। তাকে ধরার পর নাজিরের কথা সে জানিয়ে দেয়। শেষে মোবাইলের সূত্র ধরে ইসলামপুরের একটি বাড়ি থেকে নাজিরের হদিস মেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement