নামের বিভ্রান্তি কাটাতে উদ্যোগ বাগডোগরায়

জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে বিমানবন্দরের দিকে ঢোকার মুখে প্রশস্ত লোহার গেট। তাতে রাজ্য পযর্টনের নানা বিজ্ঞাপন। মাঝে লেখা ‘বাগডোগরা এয়ারপোর্ট’। কয়েকশো মিটার এগিয়ে গেলে মুখোমুখি সিআইএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের নজরদারি আউপোস্ট বা চেকপোস্ট।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:২০
Share:

বিমানবন্দরে টার্মিনালে নাম বদলের কাজ চলছে।—নিজস্ব চিত্র।

জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে বিমানবন্দরের দিকে ঢোকার মুখে প্রশস্ত লোহার গেট। তাতে রাজ্য পযর্টনের নানা বিজ্ঞাপন। মাঝে লেখা ‘বাগডোগরা এয়ারপোর্ট’। কয়েকশো মিটার এগিয়ে গেলে মুখোমুখি সিআইএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের নজরদারি আউপোস্ট বা চেকপোস্ট। শ’য়ে শ’য়ে গাড়ি সারি দিয়ে সেখানে পরীক্ষার পরেই বিমানবন্দরে ঢোকে। পুলিশের আউটপোস্টগুলির দেওয়ালে বড় বড় করে লেখা, ‘বাগডোগরা ইন্টারন্যাশনাল কাস্টমস এয়ারপোর্ট।’

Advertisement

এরপরে দুটি গেট পার হয়ে পার্কিং প্লাজাকে ডানহাতে রেখে এগিয়ে গেলেও বিমানবন্দরের মূল টার্মিনাল ভবন। তার মাথায় বড় হরফে লেখা ‘বাগডোগরা কাস্টমস এয়ারপোর্ট’।

এখানেও শেষ নয়, টার্মিনালের অ্যারাইভ্যাল পয়েন্টের সামনে প্রিপেড ট্যাক্সি বুথে গ্লোসাইনে জ্বলজ্বল করছে শুধু ‘বাগডোগরা এয়ারপোর্ট’।

Advertisement

একটি বিমানবন্দর অথচ একই চত্বরের মধ্যে একাধিক নামের উল্লেখ। সাধারণ যাত্রীরা তো বটেই অনেক সময়ই বিদেশি যাত্রীরাও তা দেখে চমকে উঠছিলেন বলে বিমানবন্দর সূত্রের খবর। ইতিমধ্যে গত কয়েকমাসে যাত্রীদের কয়েকজন রীতিমতো টার্মিনালের এয়ারপোর্ট অথারিটি অব ইন্ডিয়ার (এআইআই) অফিসার, কর্মীদের বিষয়টি জানতেও চেয়েছেন। অনেকের বক্তব্য, দেশ-বিদেশের যে কোনও প্রান্ত থেকেই এই বিমানবন্দরের যাতায়াতকারী বিমানের টিকিট ওয়েবসাইটে কাটতে গেলে বাগডোগরা বিমানবন্দর আর কোড ‘আইএক্সবি’ ছাড়া তো কিছু লেখা দেখায় না, তাহলে খোদ বিমানবন্দরের মধ্যে এ রকম একাধিক নাম কেন! কিছু নাম এএআই-র লেখা, কিছু বা আবার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের লেখা।

অবশেষে এই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছেন এআইআই কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহ থেকে বিমানবন্দরের চত্বরে সর্বত্র নাম পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রথমেই মূল টার্মিনাল ভবনের মাথায় লেখা বাগডোগরা কাস্টমস এয়ারপোর্ট লেখাটি বদলে শুধু বাগডোগরা এয়ারপোর্ট করা হচ্ছে। বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজিতে এই নাম বদলের কাজ শুরু হয়েছে।

বিমানবন্দরের অধিকর্তা রাকেশ সহায় বলেন, ‘‘প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর বিমানবন্দরের রং, গ্লোসাইন এসব বদল করা হয়। এবারও তাই হচ্ছে। তবে নামের ক্ষেত্রে একটা বিভ্রান্তি ছিলই। সরকারিভাবে এই বিমানবন্দরের নাম এখনও শুধুমাত্র বাগডোগরা বিমানবন্দর। শুল্ক বা আন্তর্জাতিক পরিষেবার এখানে ব্যবস্থা রয়েছে। সেটা নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’’ বিমানবন্দর অধিকর্তা জানান, তাঁরা তাঁদের সমস্ত নাম বদলের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের কিছু বোর্ডে অন্য নাম রয়েছে বলে দেখেছি। তাঁদেরকেও সেগুলি বদল করার জন্য বলা হচ্ছে।’’

বিষয়টি জানতে না শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। বিমানবন্দরের প্রিপেড ট্যাক্সি বুথ এবং আউটপোস্টটি পুলিশের আওতায়। সেগুলি বিমানবন্দরের দুই রকম নাম রয়েছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এমনটা হওয়ার কথা নয়। আমরা সরকারি তথ্যে যা নাম রয়েছে, সেই নামই ব্যবহার করব।’’

শিলিগুড়ি শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের বাগডোগরা বিমানবন্দর উত্তরবঙ্গের তো বটেই উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম লাভজনক এবং ব্যস্ততম বিমানবন্দর। গত আর্থিক বছরের বিমানবন্দরের যাত্রী সংখ্যা ১০ লক্ষ ছুঁয়েছে। বেড়েছে বিমান এবং কার্গোর পরিমাণও। এই বিমানবন্দর থেকে সপ্তাহে দুইদিন ভুটানের পারো-বাগডোগরা-ব্যাঙ্ককগামী বিমানটি চলাচল করে। কিছু দিন আগে পর্যন্ত নেপালের কাঠমুন্ডুর একটি বিমান পরিষেবা থাকলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ। এই আন্তর্জাতিক বিমানগুলির জন্য বিমানবন্দরে কাস্টমস পরিষেবা রয়েছে। গত এক দশক আগে ওই পরিষেবা বাগডোগরায় চালু হয়েছে। তবে সরকারি ভাবে এএআই বা অসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বাগডোগরাকে এখনও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তকমা দেয়নি। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ওই দাবি করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের কয়েকজন অফিসার, কর্মী জানান, কাস্টমস এয়ারপোর্টের সুবিধা চালু হওয়ার পরে টার্মিনালে কাস্টমস এয়ারপোর্ট লেখা হয়েছিল। পদ্ধতিগত ভাবে তা ভুল না হলেও আদতে সেটি পরিষেবা মাত্র। আর সমস্ত বিমান সংস্থাগুলিকে বিমানবন্দের নামের যে তালিকা দেওয়া হয়, যা ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়, তাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরই রয়েছে। এতে অন্য নাম থাকায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিল। অনেকেই ওই নাম ওয়েবসাইটে খুঁজেও পাননি।

এএআই-র নাম বদলের মধ্যে বাগডোগরার নাম পুরোপুরি বদলের দাবি উঠেছে শিলিগুড়িতে। বিভিন্ন সংগঠনের তরফে এএআই এবং সরকারের কাছে ইতিমধ্যে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। যেমন, কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই) কর্তারা চান, এর নাম হোক শিলিগুড়ি এয়ারপোর্ট। আবার ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যাল বলেছেন, ‘‘আমরা চাই এই বিমানবন্দরের নাম হোক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই এলাকায় বরাবর কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত। বিভিন্ন মহলে চিঠিও দিয়েছি।’’ এএআই-বক্তব্য, এই ধরনেরর নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। এখনও সেখান থেকে তেমন কোনও নির্দেশ অবশ্য আসেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement