সিটিস্ক্যান মেশিনের উদ্বোধনে মন্ত্রী। —নিজস্ব চিত্র।
নবগঠিত আলিপুরদুয়ার জেলার পরিকাঠামো গড়তে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানালেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। শনিবার দুপুরে রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রে জেলার উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠকে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। গৌতমবাবু বলেন, “আলিপুরদুয়ারকে মুখ্যমন্ত্রী জেলা ঘোষণা করেছেন। প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়তে আরও কিছুটা সময় লাগবে। এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে কিছু পুরনো ও কিছু নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছি।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার শহরের অসম গেট লেভেল ক্রসিংয়ে রেল ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উড়ালপুল হওয়ার কথা। রেল মন্ত্রকের তরফে কাজ শুরু হলেও রাজ্যের তরফে প্রায় ১৬ কোটি টাকা এখনও বরাদ্দ না-হওয়ায় রাজ্যের অংশের কাজ এখনও শুরু করতে পারেনি পূর্ত দফতর। মন্ত্রী জানান, প্রকল্পে রাজ্য সরকারের সায় ছিল। বিষয়টি শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে ওই টাকা বরাদ্দ করা হবে। চিলাপাতায় শীঘ্র তিনটি বড় কটেজ ও বারোটি ছোট কটেজের কাজে হাত দেওয়া হবে। এলাকার তিনটি জায়গায় অন্তত ৪০টি কটেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু জায়গায় পর্যটন দফতর, বাকিটা স্থানীয় বনবস্তির বাসিন্দারা চালাবেন।
এ দিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যায়ে আলিপুরদুয়ার রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার ডিপোকে ঢেলে সাজা হবে। আলিপুরদুয়ারের ডিমা নদীর সেতুর সংযোগকারী রাস্তা দ্রতু তৈরি এবং বাসরা নদীতে সেতুর জন্য পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিস্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর আলিপুরদুয়ার শহরের ডিমা নদীর সেতুর সংযোগকারী রাস্তা পরিদর্শন করে চিলাপাতা যান মন্ত্রী।
বৈঠকের আগে এ দিন আলিপুরদুয়ার হাসপাতালে প্রায় দু’কোটি টাকা ব্যায়ে অত্যাধুনিক সিটিস্ক্যান মেশিনের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক তথা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ রায়ের নাম না থাকায় বির্তক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেবপ্রসাদবাবু বলেন, “আমাকে আমন্ত্রণ করা হলেও তা সম্মানের সঙ্গে করা হয়নি। কার্ডে আমার নামও ছিল না। তবে আমি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে কলকাতায় রয়েছি।” এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি আলিপুরদুয়ারের হাসপাতাল সুপার সুজয় বিষ্ণু।