প্রশাসক এনে কি বার্তা বিপ্লবকেই, শুরু জল্পনা

বালুরঘাট আইন কলেজের পরিচালন কমিটি ভাঙার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। লাগাতার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ছাত্র সংঘর্ষের জেরে বিপর্যস্ত কলেজে পঠনপাঠনের পরিবেশ ফেরাতে ব্যর্থতার অভিযোগেই পরিচালন কমিটি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি সরকারের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৩৯
Share:

বালুরঘাট আইন কলেজের পরিচালন কমিটি ভাঙার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।

Advertisement

লাগাতার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ছাত্র সংঘর্ষের জেরে বিপর্যস্ত কলেজে পঠনপাঠনের পরিবেশ ফেরাতে ব্যর্থতার অভিযোগেই পরিচালন কমিটি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি সরকারের। কিন্তু যেহেতু তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র ছিলেন পরিচালন কমিটির সভাপতি, তাই তাঁর অনুগামীদের নিয়ন্ত্রণ ছেঁটে দলের রাজ্য নেতৃত্ব আদতে বিপ্লব মিত্রকেই কড়া বার্তা দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ২৬ নভেম্বর ল কলেজে বিপ্লব মিত্র অনুগামী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ পরিচালন কমিটির সদস্য সুভাষ চাকির অনুগামীদের। সুভাষবাবুর অনুগামী বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর জখম হন। তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। দু’তরফের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার দু’পক্ষের দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বিপ্লববাবু অনুগামী ছাত্রের ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়েছে। জামিন পেয়েছেন সুভাষবাবু অনুগামী ছাত্র। ইনজুরি রিপোর্ট দেখেই আদালত ওই নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।

Advertisement

সংঘর্ষের পরদিনই ল কলেজের টিএমসিপি ছাত্র সংসদ ভেঙে দেন রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র। ছাত্র সংসদ বিপ্লববাবুর অনুগামীদের দখলে ছিল। এরপরই পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ায় এক ধাক্কায় কলেজের কর্তৃত্ব থেকে দলের জেলা সভাপতিগোষ্ঠীর ক্ষমতা ছেঁটে ফেলা হল বলে তৃণমূলের একাংশের দাবি।

সোমবার শিলিগুড়িতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে বালুরঘাট ল কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপরই গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক সনাতন দাসকে ল কলেজের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। ল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দুর্জয় দেব বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে চিঠি পেয়েছি। কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দিয়ে সনাতনবাবুকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’’

কলেজের পরিচালন সমিতির বিদায়ী সভাপতি তথা তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র বলেন, ‘‘গোলমালের জন্য কমিটি ভেঙেছে। তবে আমাদের যদি না বলে তা হলে কী করে তা মেটানো সম্ভব? আমার পক্ষে অধ্যক্ষের মতো প্রতিদিন কলেজে বসে থেকে গোলমাল মেটানো তো সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে পার্থ(শিক্ষামন্ত্রী)আমাকে বলেছিল। আমি বলে দিয়েছি এটা সম্ভব নয়।’’ দলের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নাম না করে বিপ্লববাবু দাবি করেন, ‘‘আমার পক্ষে যতটুকু করার করে দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। বিভিন্ন বিভাগে টাকা এনে দিয়েছি। আজ ল কলেজ একটি আকার নিয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে সরকারি ল কলেজ করার চেষ্টা করছিলাম। এখন কী হলো। বাইরে থেকে কিছু লোক গন্ডগোল পাকানোর ফলে প্রশাসক বসে গেল। এতে আমার কোনও ব্যাপার নেই।’’

মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী জানান শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাঁর কিছু বলার নেই। সরকারি আইনজীবী তথা ল কলেজের পরিচালন কমিটির বিদায়ী সদস্য সুভাষ চাকির অভিযোগ, তাঁর ছেলে এই কলেজের পড়ুয়া। সে নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বলে বিপ্লব মিত্র অনুগামীরা শুরু থেকেই তাঁকে ও তাঁর বন্ধুদের কোনঠাসা করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসক বসায় ল কলেজটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা করছি। তবে শুধু গন্ডগোলের জেরেই নয়, ল কলেজের পরিচালন সমিতি নিয়মমাফিক গঠন না হওয়ায় হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পিছনে এটাও একটা কারণ হতে পারে।’’ অর্থাৎ এতদিন ল কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতির পদে বিপ্লববাবুর থেকে যাওয়া আইনমাফিক কিনা সে প্রশ্ন তুলেও সুভাষবাবু বিতর্ক উস্কে দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

খুনের চেষ্টা। বাড়ি থেকে ডেকে মদের আসরে যুবককে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ারের সূর্যনগর এলাকায়। বুধবার রাত দশটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনপল্লি এলাকায়। গুরুত্বর জখম অবস্থায় ওই যুবককে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবকও ছুরি দিয়ে নিজেকে জখম করেছে। তাঁকেও শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে চাপা উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। বাবু রায়ের শ্যালক সুবল মহন্ত বিষয়টি নিয়ে পুলিশে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আলিপুরদুয়ার থানার আইসি দেবাশিস চক্রবর্তী জানান, বাবু রায় নামে এক জনের গলায় ছুরির আঘাত রয়েছে। অ্যান্টনি সাহা নামে একজনের পেটে আঘাত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement