আদালত চত্বরে নিখোঁজ ছেলের ছবি হাতে মা। ছবি: গৌর আচার্য।
তাঁর প্রতিবন্ধী নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুললেন এক মহিলা। শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলেকে উদ্ধারে পুলিশ কী করেছে জানতে থানায় গেলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ হেমতাবাদ থানার বারইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সাধনা বসাকের। তাই তিনি মঙ্গলবার রায়গঞ্জ জেলা আদালতের এক আইনজীবীর দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমার নাবালর ছেলে নিখোঁজ। পুলিশ তাকে উদ্ধারের ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছে না। থানায় গেলে উল্টে আমার সঙ্গে দুর্ব্যহার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমার কী করণীয় তা জানতে এ দিন তরুণ সরকার নামে এক আইনজীবীর দ্বারস্থ হয়েছি। ছবি-সহ ছেলে নিখোঁজ ডায়েরির প্রতিলিপি ও প্রতিবন্ধী শংসাপত্র তরুণবাবুর হাতে তুলে দিয়েছি। তরুণবাবু এই বিষয়ে জেলা পুলিশ ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমার ছেলেকে দ্রুত উদ্ধার করে দেওয়ার ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’’ তরুণবাবু বলেন, ‘‘প্রতিবন্ধী ওই নাবালক কিশোরকে উদ্ধারের স্বার্থে পুলিশের বিরুদ্ধে এখনই কোনও আইনগত পথে না যাওয়ার জন্য সাধনাদেবীকে অনুরোধ করেছি। তবে এটুকু বলতে পারি, পুলিশ সক্রিয় থাকলে ওই কিশোর এতদিন নিখোঁজ থাকত না।’’
পেশায় পরিচারিকা ওই বিধবা মহিলার ছেলে কান্ত বসাকের বয়স সতেরো। সে মূক ও আংশিক বধির। তার মানসিক সমস্যাও রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। সাধনাদেবী বলেন, ‘‘প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী মারা গিয়েছেন। পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালানো আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই প্রায় দেড় বছর আগে কালিয়াগঞ্জের এক হোটেল ব্যবসায়ীর অধীনে ছেলেকে কাজে লাগাই। গত ৫ মে ছেলের খোঁজ মিলছে না।’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ ছেলেকে উদ্ধার না করলে বাড়ির পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব।’’ কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি শ্রীমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘‘নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিটি নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাদের উদ্ধার করার সবরকম চেষ্টা করা হয়।’’