শিলিগুড়ির হিমাঞ্চল বিহারে পাসপোর্ট দফতরের জন্য নির্দিষ্ট ভবন। নিজস্ব চিত্র।
আবেদন কেন্দ্র প্রায় দু’বছর আগে পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে।। ছ’মাস আগেও সরকারিভাবে সেবা কেন্দ্রের নতুন ভবনের অনুমোদন হয়েছে। নতুন ভবনের অভ্যন্তরীণ নকশা চূড়ান্ত করা নিয়ে দিল্লি, কলকাতা, শিলিগুড়ি চিঠি আদান প্রদানও চলছে। এই অবস্থায় উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য ঘোষিত শিলিগুড়ি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র কবে চালু হবে তা ঠিক করে বলতে পারছেন না কোনও পক্ষই। বাসিন্দাদের তরফে অবশ্য অনেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যকেই এই টালবাহানার জন্য দায়ী করেছেন। অনেকেই বলেছেন, ‘‘সেবা কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালুর মাথায় আবেদন কেন্দ্রটি বন্ধ করা যেত। তা না করে বছর দুয়েক আগে তা বন্ধ করে দেওয়া হল। গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষের বাইরের জেলাগুলিতে দৌড়াদৌড়ি করে হেনস্থা হতে হচ্ছে।’’
যেমন শিলিগুড়ির প্রধাননগরের বাসিন্দা সুমনা দাস। অনলাইনে আবেদন করার পর কলকাতায় প্রায় হাজার দুয়েক আবেদনের পর দেখা করার দিন পান। কিন্তু নির্দিষ্ট করা দিনে অফিসের ছুটি না পাওয়ায় তিনি যেতে পারেনি। আবার, শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার বাসিন্দা অরুণ গোস্বামী। কলকাতা বা বহরমপুরে যেতে হবে বলে প্রথমে আবেদনই করেছিলেন না। পরবর্তীতে, গ্যাংটকে কেন্দ্র চালু হওয়ায় সেখান থেকেই আপাতত পাসপোর্ট করবেন বলে ঠিক করেন।। উত্তরের বহু বাসিন্দারাই যাতায়াত, দুয়েক দিন সময়, অতিরিক্ত খরচের জন্য পাসপোর্ট তৈরি আপাতত ফাইল বন্ধ করে রেখেছেন। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত দু-বছরে এক দফায় শিলিগুড়িতে পাসপোর্ট মেলা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও হাতেগোনা কয়েকশো আবেদনকারী পাসপোর্ট পান। বাকিদের ফের অনলাইনের দিনক্ষণ ঠিক করে নির্দিষ্ট জায়গাগুলিতে আসতে বলা হয়। কলকাতার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসার গীতিকা শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘‘আমরা বাড়ি নিয়েছি। পরিকাঠামোর কাজ চলছে। আশা করছি, এই বছরের মাঝামাঝি কেন্দ্রটি চালু হয়ে যাবে।’’
সরকারি সূত্রের খবর, গত বছর শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া মাটিগাড়ার হিমাঞ্চল বিহারের একটি ভবনের প্রায় সাড়ে চার হাজার স্কোয়ার ফুট এলাকা নতুন পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের জন্য বাছাই করা হয়। এখন ভবনটির তৃতীয় তলে শুধুমাত্র বিক্রয় কর দফতরের অফিস রয়েছে। ভবনটি রাজ্য সরকারের এসজেডিএ-র অধীনে রয়েছে। কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রক এবং কলকাতার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের তরফে ভবনটি দেখার পর ১৫ জুলাই অনুমোদন করা হয়। মাসিক প্রায় ৮২ হাজার টাকা ভাড়া ঠিক হয়। এর মধ্যে ভবনটির সিভিল এবং কিছু ইলেকট্রিক্যাল কাজও করা হয়। পুজোর নাগাদ তা শেষ হয়। এর পরে ভবনের ভিতরের নকশার বরাদ্দ নিয়ে টালবাহানা শুরু হয় বলে অভিযোগ। বিভিন্ন বিশেষ কাউন্টার, ঘর, পাম্প, পানীয় জল, সেন্ট্রাল এসি, জেনারটের-সহ নানা কাজ পাসপোর্ট দফতর থেকে এসজেডিএ-কে করতে বলা হয়। প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার বাজেট তৈরি করে পাঠানো হয়। সেই টাকাই কেন্দ্রের তরফে অনুমোদন নিয়ে টালবাহানা চলায় বিষয়টি ঝুলে রয়েছে বলে অভিযোগ। গত ১৬ ডিসেম্বর এসজেডিএ-র তরফে ওই কাজের বাজেট কলকাতায় পাসপোর্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরে কেন্দ্রের তরফে আর কোনও নির্দেশ আসেনি। বছরের একবারে শেষে, ২২ ডিসেম্বর কলকাতার পাসপোর্ট দফতরের অফিসারেরা শিলিগুড়ি এসে ভবনটির ভাড়া নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি করে চলে গিয়েছেন।
কলকাতা আঞ্চলিক পাসপোর্ট দফতরের কয়েকজন অফিসার জানান, আমাদের দফতরের নির্দিষ্ট কিছু নকশা রয়েছে। বিভিন্ন কাজ ছাড়া ক্যামেরা, মনিটর বা সুরক্ষা তার মধ্যে রয়েছে। এই কাজ আলাদা করে হয়। তার বাজেট বরাদ্দ নিয়ে দেরি হওয়াতেই সমস্যা। তবে দিল্লিতে কথা চলছে। সমস্যা মিটতে চলছে। যা কাজ তা ১-২ মাসে হয়ে যায়। এসজেডিএ-র সিইও আর বিমলা বলেছেন, ‘‘বাড়িটি ভাড়ার চুক্তি হয়েছে। ভিতরের কাজের বাজেট জানানো হয়েছে। পাসপোর্ট দফতর থেকে সুবজ সংকেত দিলেই দ্রুত কাজ করে দেওয়া হবে।’’
২০০০ সালে শিলিগুড়ির প্রধাননগরে পাসপোর্ট আবেদন কেন্দ্রটি চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে আবেদনকারীরা ফর্ম তুলে তা জমা করতে পারতেন। পরে তা কলকাতা থেকে ফের পাঠিয়ে পুলিশ ‘ভেরিফিকেশন’ করে পাসপোর্ট ই্যসু করা হত। গোটা উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমের জন্য কেন্দ্রটি ছিল। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সেবা কেন্দ্র চালুর কথা বলে তা তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে অনলাইনে আবেদন করে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের কলকাতা, বহরমপুরে কেন্দ্র পাসপোর্টের জন্য যেতে হত। সম্প্রতি তাতে গ্যাংটক যোগ হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে কম করে প্রতিদিন ১০০-১৫০ মত আবেদনপত্র জমা পড়ত বলে পাসপোর্ট দফতর সূত্রের খবর।