পরিকল্পনায় ‘গলদ’, যানজটে অবরুদ্ধ শহর

পুলিশের পরিকল্পনার ভুলে বিসর্জনের দিন, রবিবার গভীর রাত অবধি যানজটে শিলিগুড়ি শহর অবরুদ্ধ হয়ে থাকার অভিযোগ উঠল। সাধারণ বাসিন্দা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল, পুজো কমিটিগুলিও একযোগে ওই অভিযোগ তুলেছেন।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৫ ০২:২৪
Share:

রাস্তায় আটকে যানজটে।—নিজস্ব চিত্র।

পুলিশের পরিকল্পনার ভুলে বিসর্জনের দিন, রবিবার গভীর রাত অবধি যানজটে শিলিগুড়ি শহর অবরুদ্ধ হয়ে থাকার অভিযোগ উঠল। সাধারণ বাসিন্দা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল, পুজো কমিটিগুলিও একযোগে ওই অভিযোগ তুলেছেন। মূলত হিলকার্ট রোডের বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঢোকার মুখে হাসমিচক এবং নিরঞ্জন ঘাটের মহানন্দা সেতু লাগোয়া মোড়ে পুলিশ যান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রেলের এলাকায় থাকা ঘাট থেকে বার হওয়ায় একটি রাস্তা গত অগস্ট মাস থেকে বন্ধ হয়ে গেলেও পুলিশ বিকল্প ব্যবস্থা বা রুট তৈরি করতে পারেনি বলে বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেড়েছে। ফেসবুক-এ বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।

Advertisement

অভিযোগ, বিধি ভেঙে পুলিশের সামনে হিলকার্ট রোডে চলছে বাইক, স্কুটি থেকে শুরু করে চার চাকার ছোট গাড়িও। এতে বিসর্জনের রাতে হিলকার্ট রোড থেকে মহানন্দা নদীর ঘাট অবধি তো বটেই দুই ধারের অলিগলি, এলাকা দিয়ে চলাফেরা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। রাত ২টো অবধি ওই পরিস্থিতি ছিল। যদিও বেশি রাতের দিকে একাংশ পুলিশ অফিসার রাস্তা নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

অথচ শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা দাবি করেন, পুলিশ ভাল কাজ করেছে। তাঁর দাবি, ‘‘পুলিশ কর্মীরা খুব ভাল কাজ করেছেন। কোনও অভিযোগ তো কোথাও থেকে মেলেনি। প্রয়োজন মতো ট্রাফিক পুলিশ রাখা হয়েছিল। পুজোর দিনে একটু যানজট হয়ই। তা সামাল দেওয়া হয়েছে।’’

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে প্রায় ছোটবড়, বাড়ির পুজো মিলিয়ে ৫০০ মতো পুজো হয়। গত ১৯ অক্টোবর, ষষ্ঠীর দিন থেকে পুলিশ যান নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। মাঝে মহরম থাকায় বিসর্জন পিছিয়ে যায়। শুক্রবার, শনিবার বেলা ৩টা অবধি বিসর্জন হয়। রবিবারই সন্ধ্যা থেকে বিসজর্ন হয়েছে ১৭০টি প্রতিমা। অন্য বছর রাতে দুদিন পাওয়ায় চাপও কম থাকে। এবার তা সম্ভব ছিল না। তার উপরে প্রতিবার নিরঞ্জন ঘাটে প্রতিমার ট্রাকগুলি নামার পর কুমারটুলি হয়ে রেল পুলিশ সুপারের দফতর দিয়ে বর্ধমান রোড হয়ে ফিরে যেত। অগস্ট মাসে রেল পুলিশের দফতরের ভিতরে দেওয়াল উঠে যাওয়ায় এবার তা আর সম্ভব হয়নি। একই রাস্তা দিয়ে প্রতিমার ট্রাক ওঠানামা করতে গিয়ে আরও বিপত্তি বেড়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসমি চকে তিনটি রাস্তা থেকে প্রতিমা হিলকার্ট রোডে এসে জড়ো হয়। উড়ালপুল, বিধানরোড এবং কাছারি রোড থেকে প্রতিমার গাড়ি আসে। ফি বছর তা ধীরে ধীরে হিলকার্ট রোডে ঢোকানো হয়। কিন্তু এবার তা হয়নি। যে যার মত বড় গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েছেন। অনেক কমিটি ৪-৫টি করে ট্রাক নিয়ে নিরঞ্জনে এসেছে, তাতে ভিড় বেড়েছে। পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠকের সময় বিষয়গুলি পুলিশকে ঠিক করতে হত। শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বর্ধমান রোডের দিকে গাড়ি বার করার জন্য আমরা রেলকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু, ওঁরা সহযোগিতা করেনি। তবে পুলিশকেও রুট নিয়ে আগেই ভাবতে হতো। এতে বিসর্জনের দিন শহরে আরও যানজট বেড়েছে।’’

পুলিশ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পুরসভার কংগ্রেসের দলনেতা তথা বরো চেয়ারম্যান সুজয় ঘটক। তিনি বলেন, ‘‘শিলিগুড়ি পুলিশ বিসর্জনের দিন পুরোপুরি ব্যর্থ। আগাম পরিকল্পনার অভাবে এটা হয়েছে। হিলকার্ট রোডের দুটি মাথার এমন অবস্থা হয়েছিল, যা ভাবাই যায় না। শিশু, প্রবীণদের কষ্ট হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি পুরসভাকেও দুষেছেন পুরসভার বিরোধী দলনেতা নান্টু পাল। তিনি বলেন, ‘‘অশোকবাবুরা রেলকে চিঠি দিয়েই দায় সেরেছেন। সবাইকে নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আগে থেকেকেই বসে বিষয়টি ঠিক করতে হতো। তা হয়নি। এতে দর্শনার্থীদের সমস্যা তো হয়েছেই।’’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মহানন্দা সেতু লাগোয়া মোড় থেকে উড়ালপুলের উপর অবধি প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। কাছারি রোড, বিএসএনএল দফতরের সামনেও চলাফেরার উপায় ছিল না। পানিট্যাঙ্কি থেকে হাসমিচক, অমর গ্যারেজ থেকে সেবক মোড়, জলপাইমোড় থেকে বাবুপাড়া মোড়, চার্চ রোড, কাছারি রোড, হসপিটাল মোড় থেকে পাকুড়তলা, হরেন মুখোপাধ্যায় রোড পুলিশের যান নিয়ন্ত্রণ করার কথা। অথচ অনেক জায়গায় বাসিন্দারা পুলিশকে দেখতে পাননি বলে অভিযোগ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement