পরিচারিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু

এক শিক্ষকের বাড়িতে সদ্য নিযুক্ত পরিচারিকা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি শহরের মোহন্ত পাড়ায়। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম মুক্তি দত্ত (৫০)। কোচবিহারের মাথাভাঙা মহকুমার পচাগড়ের বাসিন্দা ওই মহিলার স্বামী, এক ছেলে ও মেয়ে আছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৫ ০১:৫৪
Share:

এক শিক্ষকের বাড়িতে সদ্য নিযুক্ত পরিচারিকা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি শহরের মোহন্ত পাড়ায়। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম মুক্তি দত্ত (৫০)। কোচবিহারের মাথাভাঙা মহকুমার পচাগড়ের বাসিন্দা ওই মহিলার স্বামী, এক ছেলে ও মেয়ে আছে। বুধবার তাঁর স্বামী পেশায় রাঁধুনি বিমল দত্ত জলপাইগুড়িতে পৌঁছে জানান, ‘‘তিন মাস থেকে স্ত্রী মানসিক রোগে ভুগছেন। চিকিৎসাও চলছিল। কোন ফাঁকে গত শুক্রবার বাড়ি ছেড়েছে কেউ জানে না। কিন্তু এমন কী হল বুঝতে পারছি না।’’ জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি আশিস রায় জানান, প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে মহিলা ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। বাড়ির মালিক এবং মৃতার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। আইসি বলেন, “মহিলার স্বামী স্ত্রী’র চিকিৎসার কাগজপত্র এনেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন স্ত্রী বাড়িতে অসংলগ্ন কথা বলতেন। এখনও কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি।”

Advertisement

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, গত শুক্রবার বাড়ি থেকে পালিয়ে ওই মহিলা কোচবিহার শহরে কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। সেখানে গত শনিবার জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা ওই শিক্ষকের জামাই-এর সঙ্গে মহিলার যোগাযোগ হয়। তিনি ওই দিন মুক্তিদেবীকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। বাড়ির মালিক নন্দনপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মলয়কান্তি চক্রবর্তী জানান, রাতে বাড়িতে পৌঁছে ভাত খেয়ে মহিলা দোতলা বাড়ির উপর তলায় ঘুমিয়ে পড়েন। রবিবার ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিক কাজকর্ম করেন। রাত দশটা নাগাদ ভাত খেয়ে উপর তলার ঘরে ঘুমাতে চলে যান। রাতে আমাদের দেরিতে খাওয়াদাওয়া শেষ হয়। এগারোটা নাগাদ খেয়ে প্রতিদিনের মতো সিগারেট নিয়ে ছাদে যাই। সিগারেট ফেলার সময় ছাদ থেকে নিচে কিছু একটা ঝুলতে দেখে চমকে উঠি। ঘর থেকে টর্চ এনে দেখি শাড়ি ঝুলছে। নালায় কিছু একটা পরে আছে। হইচই করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মৃত মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন শুনে অবাক হয়েছেন বাড়ির মালিক মলয়কান্তিবাবু। তিনি বলেন, “এক দিনের মধ্যে মানুষ চেনা অসম্ভব। আপাতভাবে মনে হয়েছিল ভাল মানুষ। কম কথা বলতেন। তিনি কাজে ঢুকে এই কাজ করবেন স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement