উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে এমসিআই

পরিদর্শনেও পিছু ছাড়ল না সমস্যা

সমস্যা পিছু ছাড়ছে না উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের। পরিকাঠামোর কিছু ঘাটতি থাকায় এ বছর নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে দেড়শো আসনের অনুমোদন মিলবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্টে একশো আসনের অনুমোদনের ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত শিক্ষক-অধ্যাপকের উপস্থিতি দেখাতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০১৫ ০২:১৪
Share:

সমস্যা পিছু ছাড়ছে না উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের। পরিকাঠামোর কিছু ঘাটতি থাকায় এ বছর নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে দেড়শো আসনের অনুমোদন মিলবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্টে একশো আসনের অনুমোদনের ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত শিক্ষক-অধ্যাপকের উপস্থিতি দেখাতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। বুধবার মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে পরিদর্শনে এলে কলেজে শিক্ষক-অধ্যাপক ৪০ শতাংশের মতো কম ছিলেন।

Advertisement

কলেজ সূত্রেই খবর, এর বড় কারণ সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে বেশকিছু শিক্ষক-অধ্যাপককে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে রাজ্যের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। অন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার কিছু বেশি সংখ্যক শিক্ষক-অধ্যাপককে বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও তাঁদের অধিকাংশই এখনও আসেননি। অথচ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল থেকে যারা অন্যত্র বদলি হয়েছেন তাঁদের ৮০ শতাংশকেই এই কলেজ থেকে ‘রিলিজ অর্ডার’ দেওয়ায় তাঁরা ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছেন। ফলে ৪০ শতাংশের মতো শিক্ষক-অধ্যাপক এমনিতেই ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশিকা মেনে ওই শিক্ষক-অধ্যাপকরা যে শীঘ্রই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে যোগ দেবেন তা এমসিআই’কে জানানো হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক, অধ্যাপকরা যাঁরা উপস্থিত রয়েছেন কেবল তাঁদেরকেই, হিসেবের মধ্যে ধরে এমসিআই। বিপত্তি তা নিয়েই।

এমসিআইয়ের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আর এম মণ্ডল, এস কে মোহান্তি ও পি তেজ। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অবশ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে বেশি কিছু বলতে চাননি। তবে কলেজের অধ্যক্ষ সমীর ঘোষ রায় বলেন, ‘‘একশো আসনের জন্য আমরা যে পরিকাঠামোর কথা জানিয়েছিলাম, সেগুলি যথাযথ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতেই প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। ওঁরা নিজেদের মতো সব কিছু পরীক্ষা করেছেন। এ দিন কলেজে শিক্ষক-চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার স্বাভাবিক ছিল। কলেজের বেশ কিছু চিকিৎসক সম্প্রতি বদলি হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের পদগুলি পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি।’’

Advertisement

দিনভর এমসিআইয়ের তিন প্রতিনিধি দল মেডিক্যাল কলেজে ছিলেন। এ দিন সকালে হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ডে কিছু সময়ের জন্য ঘুরেই চিকিৎসকদের হাজিরা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন প্রতিনিধিরা। সন্ধ্যে পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজের প্রতিটি বিভাগের চিকিৎসকদের ডেকে হাজিরা খতিয়ে দেখেন। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসের পর যাঁরা নতুন এসেছেন সে সব চিকিৎসকদের সচিত্র পরিচয় পত্র এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখেছে এমসিআইয়ের প্রতিনিধিরা।

কলেজ কতৃর্পক্ষের দাবি, বদলি হওয়া চিকিৎসকেরা না থাকার সমস্যা বাদ দিলে বাকি চিকিৎসকদের মধ্যে অনুপস্থিতির হার ছিল ১০ শতাংশেরও কম। তবে অন্য মেডিক্যাল কলেজ থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে বদলি হওয়া চিকিৎসকদের অনেকেই যোগ না দেওয়ায় সমস্যা হয়েছে।

চিকিৎসক ছাড়াও, হাসপাতালের কাছাকাছি যে লেকচার থিয়েটার করার কথা ছিল সেই কাজ এখন সবে শুরু হয়েছে। নির্মাণ কাজের জন্য মাটি খোঁড়া হয়েছে। শিশুদের বহির্বিভাগে ঘরের সংখ্যা পর্যাপ্ত বাড়ানো হয়নি। রেকর্ড রুম ঠিক করতে বলেছিল এমসিআই। সেই কাজও এগোয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এমসিআই পরিদর্শনের সময় বিষয়গুলি দেখতে বলেছিল। সে সময় ৩০ শতাংশ শিক্ষক-অধ্যাপক অনুপস্থিত ছিলেন। ছুটিতে থাকা চিকিৎসকদের বিভিন্ন শহর থেকে বাসে-গাড়িতে এমনকী, কলকাতা থেকে বিমানে এনেও মুখরক্ষা হয়নি কর্তৃপক্ষের। দেরিতে আসা চিকিৎসকদের হিসেবেই ধরেননি এমসিআই প্রতিনিধিরা। তাই এ বার বদলির কারণে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষক-অধ্যাপকদের হিসাবের মধ্যে ধরা হবে কী না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের একাংশের আশা সার্বিক ভাবে যে ঘাটতি রয়েছে ১০০ আসনের বিচারে ঘাটতি ততটা নয়। তা ছাড়া বদলি হয়ে আসা অন্তত ১০ জন শিক্ষক-চিকিৎসক এ দিন-ই কলেজে যোগ দিয়েছেন। সেটাও এমসিআই প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয় যে বদলি হওয়া শিক্ষক-অধ্যাপকদের যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

যদিও, গত বছর নভেম্বর এবং চলতি বছরের গোড়ায় পরিদর্শনের সময়ে এমসিআই প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না বলেই কলেজেরই একটি সূত্রে জানা গিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement