ফাঁসিদেওয়ার ফলে মুখরক্ষা তৃণমূলের

নয়ের মধ্যে ঝুলিতে ৩। তার মধ্যে ফাঁসিদেওয়াতেই ২। এটাই শাসকদল তৃণমূলের ফাঁসিদেওয়ার স্কোর কার্ড। বুধবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ভোট গণনার পর দেখা যায়, ফাঁসিদেওয়ার তিনটি মহকুমা পরিষদের আসনের মধ্যে দুটি শেষ পর্যন্ত শাসক দল দখল করতে পেরেছে।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৪৮
Share:

তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।

নয়ের মধ্যে ঝুলিতে ৩। তার মধ্যে ফাঁসিদেওয়াতেই ২। এটাই শাসকদল তৃণমূলের ফাঁসিদেওয়ার স্কোর কার্ড।

Advertisement

বুধবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ভোট গণনার পর দেখা যায়, ফাঁসিদেওয়ার তিনটি মহকুমা পরিষদের আসনের মধ্যে দুটি শেষ পর্যন্ত শাসক দল দখল করতে পেরেছে। তবে সকাল থেকে উৎকন্ঠা কম ছিল না। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি ভোট গণনা যত এগিয়েছে, ততই কপালে ভাঁজ পড়েছিল তৃণমূল নেতাদের। তার উপর যোগ হয়েছিল, মহকুমার বাকি তিনটি ব্লকে দলের ‘ধরাশয়ী’ ফলাফল। শেষ পর্যন্ত মহকুমায় সংখ্যাটা কী দাঁড়াবে তা ভেবেই কুল কিনারা পাচ্ছিলেন না তৃণমূলের ব্লক থেকে জেলা স্তরের নেতারা। আশার আলো বলতে ছিল, পরিষদ স্তরে বিরোধীদের কোনও জোট হয়নি। তাই ভোট কাটাকাটির সুফল হয়ত মিলবে। সন্ধ্যায় ভোটের ফল বলছে, তাই হয়েছে।

তৃণমূলের জেলার অন্যতম কার্যকরী সভাপতি তথা ফাঁসিদেওয়ার পর্যবেক্ষক অলক চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘গ্রামের সংগঠন আমাদের এখনও দুর্বল, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই পুরোপুরি ভোট করাতে হয়েছে। এদিন কিছু কিছু সময় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম ঠিকই। তবে শেষরক্ষা হয়েছে।’’

Advertisement

দলীয় সূত্রের খবর, মহকুমা পরিষদ নয়টি আসনের মধ্যে ফাঁসিদেওয়ার নয় নম্বর আসনটি সবার নজরে ছিল। চটেরহাট-ফাঁসিদেওয়া-জালাস নিজামতারা গ্রাম পঞ্চায়েত ঘেরা আসনটিতে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন আইনুল হক। গতবার এই আসনেই কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে বড় মার্জিনে জিতেছিলেন আইনুলবাবু। ২০০৯ সালে ৪-৩ ব্যবধানে সিপিএম পরিষদ দখল করলে বিরোধী দলনেতা হন তিনি। পরে ২০১৪ সালে দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। ফলও পেয়েছিলেন। পরিষদের সহকারী সভাধিপতি হন। দল বদলের পর ভোটে তাঁর টিকিট পাওয়া নিয়ে কম টানাপড়েন হয়নি। তবে জেলার শীর্ষ নেতারা পাশে থাকায় শেষ পর্যন্ত অবশ্য টিকিট পান। তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান তাঁরই এক সময়কার সহকর্মী তথা ফাঁসিদেওয়ার ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি আতাউর রহমান। এর আগে এক সময় সিপিএম থেকেও জিতেছিলেন আইনুক হক। তাই সব সময় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা আইনুলবাবুকে সুবিধাবাদী বলতে ছাড়েনি পুরানো তৃণমূল নেতাদের অনেকেই।

জোর লড়াইয়ের পর শেষ হাসি অবশ্য আইনুল হকই হেসেছেন। ১৮,৪৩৮টি ভোট পেয়েছেন তিনি। সেখানে আতাউর রহমান পেয়েছেন ১৩,৭৪৭টি ভোট। উল্লেখযোগ্য ভাবে সিপিএমের দীনদয়াল সিংহ ১১,০৮৫ টি ভোট পান। কংগ্রেস তৃণমূলের ভোট কাটাকাটির সুফল সিপিএম যাতে না পায়, সেই আশঙ্কাও ছিল তৃণমূল নেতাদের। কিন্তু ফলে দেখা গেল তা উল্টো। সিপিএম কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটিতে তৃণমূলের পতাকা উড়েছে।

তৃণমূল ব্লকের আরেক পর্যবেক্ষক তথা জেলার অন্যতম সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের কথায়, ‘‘বিরোধীদের ভোট কাটাকাটির ফলও পরিষদ স্তরে আমরা পেয়েছি। অন্তত এই ব্লকের ফল তো তাই বলছে। আর সিপিএম কংগ্রেসকে পুরোপুরি ব্যবহার করেছে। সেখানে কংগ্রেস সিপিএমের ভোট ব্যাঙ্কের কোনও সুফল নিতে পারেনি।’’

একই ভাবে বিধাননগর-১ এবং বিধাননগর ২ আসনে কাজল ঘোষ জিতেছেন সিপিএমের মেহবুব আলমকে হারিয়ে।

এ দিন ভোর থেকে ফাঁসিদেওয়া হাইস্কুলের মাঠে সামনে ক্যাম্প করে বসেছিলেন দলের জেলার অন্যতম কার্যকরী সভাপতি অলক চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বা ব্লকের নেতা পলাশ বিশ্বাসরা। আর সকাল ৮টা থেকেই গণনা কেন্দ্রের বাইরে ইতিউতি চিন্তিত ভাবেই ঘুরছিলেন আইনুল হক বা কাজল ঘোষরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রণবেশ মণ্ডলও। তিনিও কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন। যদিও বিধাননগরের সিপিএম নেতা বীরেন নন্দীর ছেলে বিষ্ণু নন্দীর কাছে ৩৮৪ ভোটে হেরে শেষরক্ষা করতে না পেরে আগেই ময়দান ছেড়ে চলে যান প্রণবেশবাবু।

তৃণমূল নেতাদের কথায়, বিধাননগর-১, জালাস নিজামতারা, চটহাট এবং ঘোষপুকুর ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে এই চারটি পঞ্চায়েতে দল ভাল ফল করায় সুফল মিলেছে। তাই ৩-২। নইলে যে কী হত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement