মালদহের কালিয়াচক ২ ব্লকের বিডিও পর এ বার হামলা বামনগোলা বিডিও উপর। শনিবার রাতে প্রশাসনিক বৈঠক করে ফেরার পথে বিডিও গাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। অল্পের জন্য রক্ষা পান বামনগোলা ব্লকের বিডিও সমীরকুমার দে।
ঘটনার ২৪ ঘন্টা পরেও একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, কখনও দফতরে ঢুকে মারধর ও হেনস্থা করা হচ্ছে। কখনও আবার চলন্ত গাড়ির উপর ঢিল ছুড়ে হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারছে না। মালদহের অতিরিক্ত জেলা শাসক তথা পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস এক্সজিকিউটিভ অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের মালদহ ইউনিটের সভাপতি দেবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, ‘‘পুলিশকে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের গত ২ নভেম্বর কালিয়াচক ২ ব্লকের বিডিও মামুন আখতারকে দফতরের মধ্যে ঢুকে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে কংগ্রেস নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে ফের আক্রান্ত হলেন জেলার আরও এক বিডিও।
চলতি মাসেই মুখ্যমন্ত্রীর মালদহ সফর রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক স্তরে চলছে জোর কদমে প্রস্তুতি। এদিন প্রশাসনিক বৈঠক করে রাত আটটা নাগাদ নিজস্ব গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন বামনগোলা ব্লকের বিডিও সমীরবাবু। ফেরার পথে পুরাতন মালদহের সাহাপুরের রায়পুরের কাছে তাঁর গাড়ি লক্ষ করে ইট ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। বিডিওর গাড়ির চালকের পাশের আসনের জানলার কাচটি ভেঙে যায়। অন্য দিন গাড়ির সামনে বসলেও এদিন পেছন আসনে বসেছিলেন সমীর বাবু।
এই ঘটনার পরেই এলাকার মানুষ ভিড় জমান। পরে ঘটনাস্থলে আসে মালদহ থানার পুলিশ। এদিনের ঘটনায় মৌখিক ভাবে পুলিশ এবং প্রশাসনের উদ্বোর্ত্তন কর্তৃপক্ষকে জানান সমীর বাবু। তবে লিখিত কোন অভিযোগ করেন নি তিনি। এদিন বিডিও গাড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে এই রুটের নিরাপত্তা নিয়ে উঠলো প্রশ্ন। চলতি বছরের জুন মাসের দিকে মালদহ-নালাগোলা রাজ্য সড়কের উপরে এক ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী সমিতির মালদহ জেলা সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, যেখানে খোদ বিডিওকে হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেখানে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা কতটা তা বোঝাই যাচ্ছে।’’