চিকিৎসক সংগঠনের এই সভা নিয়েই বিতর্ক মালদহে। রবিবারের নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠনের সভার মঞ্চে মালদহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ-সহ জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক কর্তার হাজির থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রবিবার মালদহ শহরের টাউন হলে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার দুই প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ও সৌমিত্র রায়ের সমর্থনে প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যসোসিসেশনের সভা হয়। সভায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ-সহ একাধিক কর্তা হাজির থাকায় নিবার্চন কমিশনের কাছে নালিশ জানাচ্ছে সিপিএম ও কংগ্রেস। জেলাশাসক শরদ দ্বিবেদি অভিযোগ জমা পড়লে তা দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের কয়েক জন অফিসার জানান, ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের ডাকা সভায় মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ কিংবা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা, সরকারি আধিকারিকরা যেতে পারেন না। এটা বিধিভঙ্গ।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, “যে কোনও সংগঠন তার দলের প্রার্থীদের হয়ে ভোটের প্রচার করতেই পারেন। তাই বলে সরকারি আধিকারিকরা যেখানে কী করে যান তা দেখা দরকার। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সহ জেলা স্বাস্থ্য দফতরেরে ওই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নিবার্চন কমিশনে নালিশ জানাচ্ছি।”
জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী তথা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর বলেন, “নিশ্চিত হার বুঝতে পেরে সরকারি চিকিৎসকদেরও প্রচারে নামাচ্ছে তৃণমূল। ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। আমরাও ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানাচ্ছি।”
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ শৈবাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওরা আমাকে ডেকেছিল। এর বেশি কিছু বলব না।” তৃণমূলের সভানেত্রী সাবিত্রী মিত্র বলেন, “দলের চিকিৎসক সংগঠনের সভায় মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ এব জেলা স্বাস্থ্য দফতরেরে আধিকারিকেরা গিয়েছিলেন কি না বলতে পারব না।” এই প্রসঙ্গে প্রোগ্রেসিভ ডক্টর অ্যসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি তাপস চক্রবর্তী বলেন, “আমরা তো খোলা মাঠে সভা করিনি। সেই সভায় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ যদি এসেই থাকেন তাতে কি হয়েছে। এতে অন্যায়ের তো কিছু নেই।” এ দিনের সভায় আইএমএর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিতাভ মৈত্র সভায় হাজির সমস্ত চিকিৎসকদের হুমকি দিয়ে জানান, আইএমএতে থাকতে হলে তৃমমূল কংগ্রেস প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনকে ভোট দিতে হবে। এই নিয়ে কারও ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু সেটাকে সরিয়ে রেখে সংগঠনের নির্দেশ ওই প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। পরে অমিতাভবাবু বলেন, “আইএমএতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে কেন্দ্রে চিকিৎসক প্রার্থী দাঁড়াবে চিকিৎসকরা সেই প্রার্থীর সমর্থনে সেখানে ভোট প্রচার করবে। সেই জন্যই আইএমের পক্ষ থেকে সমস্ত চিকিৎসককে মোয়াজ্জেম হোসেনকে ভোট দেওয়ার জন্য বলেছি।”