বোনাস ঠিক হয়নি, ভিড় কম বাজারে

আর পাঁচটা বছর পুজোর মাসখানেক আগে থেকেই গ্রামের হাট-বাজারে ফি শনি-রবিবার ভিড় উপচে পড়ত। কিন্তু এবার পড়ছে না। কারণ, পঞ্চায়েত ভোট। তার উপরে চা বাগানে বোনাসের হার এখনও ঠিক হয়নি। তাই উত্তরবঙ্গের পুজোর বাজার এখনও জমেনি। উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মাস খানেক আগে থেকেই বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকা মালপত্র তুলে ফেলেছেন।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৫৯
Share:

পুজোর বাজার চলছে। তবে তেমন ভিড় জমেনি এখনও। শিলিগুড়িতে সন্দীপ পালের তোলা ছবি।

আর পাঁচটা বছর পুজোর মাসখানেক আগে থেকেই গ্রামের হাট-বাজারে ফি শনি-রবিবার ভিড় উপচে পড়ত। কিন্তু এবার পড়ছে না। কারণ, পঞ্চায়েত ভোট। তার উপরে চা বাগানে বোনাসের হার এখনও ঠিক হয়নি। তাই উত্তরবঙ্গের পুজোর বাজার এখনও জমেনি। উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মাস খানেক আগে থেকেই বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকা মালপত্র তুলে ফেলেছেন। অথচ পুজোর বাজার বলতে যে ভিড় বোঝায়, তা এখনও শুরু হয়নি।
উত্তরবঙ্গ ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ফোসিনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘বেতনভুক কর্মীরা মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ায় পুজোর বাজার কিছুটা শুরু হয়েছে। কিন্তু, চা বাগানে বোনাস এখনও হয়নি। হার্ডওয়ার, টেলর, মোটর পার্টস বা ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের কর্মীদের বোনাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই পুরোপুরি বাজার জমে উঠেনি। আমাদের আশা, আগামী সপ্তাহে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।’’
সরকারি, বেসরকারি কর্মীদের সঙ্গেই উত্তরবঙ্গের পুজোর বাজারের একটি বড় অংশ নির্ভর করে চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলির উপর। প্রতি বছর পুজোর মাসের শুরুতেই তাঁদের বোনস চুক্তি সাধারণত হয়ে যায়। এতে কেনাকেটায় নেমে পড়েন বিস্তীর্ণ এলাকার চা শ্রমিকেরা। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেই চুক্তি হয়ে গিয়েছিল। এখনও মালিকপক্ষের সংগঠগুলির সঙ্গে তিন দফায় আলোচনা হলেও কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। গত ১৯ এবং ২০ সেপ্টেম্বরের পর ২৭ সেপ্টেম্বরও মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলির আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর ফের কলকাতায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের তরাই এবং ডুয়ার্স মিলিয়ে ২৭৬টি চা বাগান রয়েছে। এ বাইরে দার্জিলিং পাহাড়ে ৮৭টি মত বাগান রয়েছে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক ক্ষুদ্র চা বাগান রয়েছে। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক চা শ্রমিক পরিবারের উপর উত্তরবঙ্গের সমস্ত বাজারের পুজোর কেনাকেটা নির্ভরশীল। শিলিগুড়ি ছাড়াও বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা, বীরপাড়া, ধূপগুড়ি, জযগাঁ, ইসলামপুর, রায়গঞ্জের পুজোর বাজারে প্রতিবছর চা শ্রমিকদের কেনাকেটার ভিড় উপচে পড়ে। তেমনিই, পাহাড় থেকে দলে দলে শ্রমিক পরিবার দিনের বেলায় গাড়ি নিয়ে সমতলে নেমে কেনাকেটা করে। আগামী ১২ অক্টোবর মহালয়া। তার আগে এবার এখনও চেনা ছবির দেখা মিলছে না। বাগানের হাটগুলিতে পুজোর বাজার ভোটের জন্য এখনও জমেনি। ভোটটা গেলে হয়ত শেষদিকে হাটের বাজারগুলি চাঙ্গা হবে।’’

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক নেতা তথা দলের টি প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কাস ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির কমিটির কার্যকরী সভাপতি অলোক চক্রবর্তী বলেন, ‘‘তিন দফায় বৈঠক হয়ে গিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর বৈঠক হবে। মালিকেরা আবার বিভিন্ন ভাগ করে বোনাস দিয়ে চাইছেন। গতবারের থেকেও কমহারে বলা হচ্ছে। আমরা এসব মানব না। ওইদিন বৈঠকে ফয়সলা না হলে বাগান ধরে ধরে আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে নেব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement