দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি। বুধবার তোলা নিজস্ব চিত্র।
বাগডোগরা বিমানবন্দর লাগোয়া যাতায়াতের রাস্তায় বোপরোয়া গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার এক যাত্রীকে বিমানবন্দরে নামিয়ে চালক একটি ছোট গাড়ি লাগোয়া কংক্রিটের রাস্তায় বেপরোয়া ভাবে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি রাস্তার ধারে দাঁড় করানো অপর একটি ছোট গাড়িকে মুখোমুখি ধাক্কা মারে। মুহূর্তেই সেটি রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে। এতটাই গতিতে ছিল গাড়িটে যে ধাক্কায় সেটির সামনের অংশ দুমড়ে গিয়েছে। জাতীয় সড়ক থেকে ওই রাস্তা হয়েই বিমানবন্দরে ঢোকে সমস্ত গাড়ি। দুঘর্টনায় ঘাতক গাড়িটি রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে পড়ায় যান চলাচলেও সমস্যা দেখা দেয়। বিমান বন্দরে ঢোকার বা বার হওয়ার জন্য ওই রাস্তায় অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। অন্য গাড়ির যাত্রীদের অনেকেই তা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং অন্য গাড়ির চালকেরা পরিস্থিতি সামাল দেন। পুলিশে তা নিয়ে কোনও অভিযোগ হয়নি। যে গাড়িটিকে ধাক্কা মেরেছে তার মালিকপক্ষকে ক্ষতিরপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা পুলিশে কোনও অভিযোগ করেননি।
ঘটনা জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানান, বিমানবন্দর এবং ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের মাঝে সংযোজক ওই রাস্তাটি ধার বরাবর চওড়া করার কাজ চলছে। সে কারণে স্বাভাবিক ভাবেই আস্তে গাড়ি চালানো উচিত। শিলিগুড়ি ট্রাফিক পুলিশের ডিসিপি শ্যাম সিংহ বলেন, ‘‘এ দিনের ঘটনা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ওই রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’’ বিমানবন্দরের কর্মীদের একাংশ ওই রাস্তায় কিছু গাড়ি মাত্রাতিরিক্ত গতিতে চলে বলে অভিযোগ তুলেছেন। কর্মীদের অনেকে হেঁটেও চলাফেরা করেন। তা ছাডা় প্রচুর গাড়ি বিমানবন্দরে যাত্রী নিয়েও আসা যাওয়া করে। বেপরোয়া গাড়ি চলাচল করলে সকলেই বিপদের আশঙ্কা করছেন। বাগডোগরা বিমানবন্দরের অধিকর্তা রাকেশ সহায়। বলেন, ‘‘ওই রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
প্রতাক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিমানবন্দর লাগোয়া এই রাস্তাটি দুই দিকে চওড়া করা হচ্ছে। সেই কাজ চলছে। এই অবস্থায় এ দিন একটি ছোট গাড়ি বিমানবন্দরের দিক থেকে প্রচণ্ড গতিতে এসে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ছোট গাড়িতে ধাক্কা মারে। ওই গাড়ির চালক রাস্তার ধারে গাড়িটিকে দাঁড় করিয়ে চালকের আসন ছেড়ে পাশের সিটে বসেছিলেন। আচমকা ধাক্কায় তিনি প্রায় ছিটকে যান। তিনি এবং অন্য গাড়ির চালক শিবু দাস চোট পান। শিবু দাসের দাবি, ‘‘উল্টোদিক থেকে আসা একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’’ মালিক হরিশ অগ্রবাল জানান, ওই গাড়ির মালিক মেরামতের সমস্ত খরচ দেওয়ার কথা জানানোয় তাঁরা পুলিশে অভিযোগ জানাননি।