ধৃত আবু জুবায়েদ।—নিজস্ব চিত্র।
বোমা তৈরির অভিযোগে কংগ্রেসের এক নেতার ছেলেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযোগ, চাঁচল-২ ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কংগ্রেসের আব্দুল আহাদের ছেলে আবু জুবায়েদ ও আরও ২০-২৫ জন যুবক মিলে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বারদুয়ারি খন্তা এলাকায় জঙ্গলে বসে বোমা বাঁধছিল। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ গিয়ে সেখানে পৌঁছয়। তখন ওই যুবকেরা পুলিশকে পাল্টা আক্রমণ করে। পুলিশের দিকে তারা গুলিও ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাতে কেউ আহত না হলেও ধস্তাধস্তিতে তিন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের এক জনের মাথা ফেটেছে দুষ্কৃতীদের লোহার রডের আঘাতে। তবে পুলিশ আবু জুবায়েদ সহ সাত জনকে কেবল গ্রেফতার করতে পেরেছে। বাকিরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
চাঁচলের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর ও উত্তর দিনাজপুর এলাকার দুষ্কৃতীরা মিলে বারদুয়ারি এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ছক কষেছিল বলে তাদের জেরা করে জানা গিয়েছে। তার আগে ওরা জঙ্গলে বসে বোমা তৈরি করছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন বোমা তৈরিতে বেশ দক্ষ। ওই দুষ্কৃতী দলটির বাকিদের ধরার জন্য ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে গুলিভর্তি পাইপগান, শাবল, লোহার রড ও বোমা তৈরির মশলা সহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই যুবকদের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল ও ইটাহার এলাকায়। পুলিশ জানায়, আবু জুবায়েদ ছাড়াও মহম্মদ ইসলাম, আরজাউল হক, মজিবর রহমান, আব্দুল বারেক, মতিউর রহমান ও সোলেমান আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রধান আব্দুল আহাদ বলেন, ‘‘আমি একটা পদে রয়েছি। আমার ছেলে দুষ্কৃতীদলের সঙ্গে যুক্ত এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের কাজ আমি সমর্থন করি না। কিন্তু ছেলে রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার কি না এটাও দেখতে হবে।’’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধান আহাদের ছেলেকে কয়েক মাস আগেও বোমা বানানোর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়ে ছিল। আপাতত সে জামিনে ছিল। এ দিন ধৃতদের চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হলে পুলিশ তাদের পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। দলীয় প্রধানের ছেলে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বোনা বানানোর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে ব্লক কংগ্রেস। চাঁচল-২ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মানজারুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘‘দলের কেউ দুষ্কর্ম করলে দল তার পাশে দাঁড়াবে না।’’
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় কয়েকজন যুবক জড়ো হয়ে সন্দেহজনক কোনও কাজ করছে বলে পুলিশের কাছে গোপনে খবর পৌঁছয়। তারপর চাঁচল থানা ও হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে ওই জঙ্গলে হানা দেয়। কিন্তু হানা দিতেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে দুষ্কৃতীরা পালাতে শুরু করে। হামাগুড়ি দিয়ে কোনওক্রমে পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপর আরও পুলিশ বাহিনী গিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে নেয়। সেই সময় মহানন্দা বাঁধের উপরে সাত দুষ্কৃতী পুলিশের সামনে এসে পড়ে। তাড়া করে তাদের ধরতেই দুষ্কৃতীদের এক জন লোহার রড দিয়ে আঘাত করায় এক কনস্টেবলের মাথা ফেটে যায়। তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই করতে হয়। হাতে আঘাত পান দুই অফিসার।