বালুরঘাটে ফের কলেজে সংঘর্ষ

ফের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কলেজে ছাত্রদের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ালো। বালুরঘাট কলেজের কর্তৃত্ব নিয়ে মন্ত্রিগোষ্ঠী বনাম দলের সভাপতি বিপ্লব মিত্র গোষ্ঠীর অনুগামী ছাত্রদের মধ্যে গত মাস থেকে গন্ডগোলের শুরু বলে ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৩৭
Share:

ঘটনার পরে কলেজের সামনে জমায়েত। নিজস্ব চিত্র।

ফের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কলেজে ছাত্রদের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ালো। বালুরঘাট কলেজের কর্তৃত্ব নিয়ে মন্ত্রিগোষ্ঠী বনাম দলের সভাপতি বিপ্লব মিত্র গোষ্ঠীর অনুগামী ছাত্রদের মধ্যে গত মাস থেকে গন্ডগোলের শুরু বলে ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ। সেই গণ্ডগোলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বহিরাগতদের কলেজে ঢুকে গোলমাল পাকানোর অভিযোগ। সেই অভিযোগকে সামনে রেখেই গত ২৭ নভেম্বর দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়। সে সময় কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ কুন্ডু বলেছিলেন, ‘‘পড়ুয়াদের পরিচয়পত্র বিলি না হওয়ায় বহিরাগতদের আটকানো যাচ্ছে না।’’ শীঘ্রই সেই পরিচিতি পত্র বিলি করা হবে বলেও অধ্যক্ষ দাবি করেছিলেন। কিন্তু ওই ঘটনার পর তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের সেই পরিচয়পত্র বিলি করতে পারেননি। ফলে বৃহস্পতিবারও কলেজের শিক্ষক থেকে পুলিশকর্মী দু’পক্ষের মধ্যে ধুন্ধুমার কান্ডের সাক্ষী থাকলেন। গোলমাল ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে মন্ত্রীর ছেলেকে ফোন করতে হয়। কেননা, বালুরঘাট কলেজের ছাত্র সংসদ তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র অনুগামী গোষ্ঠীর দখলে। তারাই পাল্লায় ভারি বলে দাবি। পাল্টা মন্ত্রীর অনুগামীরা কিছু ছাত্র এবং বহিরাগতদের নিয়ে কলেজের কর্তৃত্ব দখলের চেষ্টা করছে বলে বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ।

Advertisement

এ দিন, দুপুর আড়াইটে নাগাদ ধাক্কাধাক্কি থেকে দু’পক্ষের কয়েক জনের মধ্যে হাতাহাতি ও খামচাখামচি ক্রমশ সংঘর্ষের আকার নেয়। একাংশের হাতে বাঁশ লাঠি উঠে যায়। সে সময় বালুরঘাট থানা থেকে দ্রুত পুলিশ গিয়ে পৌঁছনোয় ঘটনা বেশি দূর গড়ায়নি। তবে মন্ত্রীগোষ্ঠীর অনুগামী বলে পরিচিত দু’জন ছাত্রের কান ও নাকের দু’জায়গায় নখের আঁচড়ে সামান্য কেটে গিয়েছে।

মন্ত্রীগোষ্ঠীর অনুগামী প্রথম বর্ষের ছাত্র সৃঞ্জয় সান্যাল কলেজে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘‘কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ভীম হালদারের নেতৃত্বে কিছু বহিরাগত ছেলে আমাদের উপর হামলা করে। আমরা ওদের সঙ্গ না দিয়ে নিজেদের মতো করে কলেজে চলি বলে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়।’’ ভীমবাবুর দাবি, ‘‘কলেজে বহিরাগত বলে কিছু নেই। বরং ওরাই কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে এসে দল পাকানোর চেষ্টা করছে। ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণেরও অভিযোগ পেয়েছি। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। কাউকে মারধোর করা হয়নি।’’

Advertisement

জেলার তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র বলেন, ‘‘কলেজে অশান্তির পরিবেশ তৈরির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুন, পুলিশ প্রশাসনকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও বিষয় এখানে নেই।’’

বালুরঘাটের বিধায়ক, মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর আপ্ত সহায়ক দেবপ্রিয় সমাজদারেরও দাবি, বহিরাগত তত্ত্ব খাড়া করে কলেজের ক্ষমতা দখলের গোষ্ঠী রাজনীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, বরং যারা ওই কথা বলছেন, তাঁরাই বহিরাগত। কেননা কলেজের জিএস পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে তাঁর প্রার্থীপদ বিলোপ হয়েছে। তাছাড়া কলেজের ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুরো ছাত্র সংসদ এখন অস্তিত্বহীন। তিনি বলেন, ‘‘অথচ ছাত্র সংসদ ভবনের মধ্যে বসে এরাই রোজ আপত্তিকর কাজকর্ম করছে। একাংশ ছাত্র এর প্রতিবাদ করলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তকমা লাগিয়ে নিজেরাই গন্ডগোলের কৌশল নিচ্ছে। ফলে গোলমাল পাকিয়ে ওরা যে ভাবে আইন কলেজের পঠনপাঠনের পরিবেশ নষ্ট করেছে ঠিক সে ভাবেই বালুরঘাট কলেজটিকে নষ্ট করতে চাইছে।’’ বালুরঘাট কলেজের ছাত্র সংগঠন দেখার দায়িত্ব তাঁর উপর রয়েছে বলে দলের জেলা সভাপতি বিপ্লববাবু অনুগামী তৃণমূল নেতা দেবাশিস মজুমদারের দাবি, ‘‘এতদিন তো কোনও গোলমাল ছিল না। এসব করে বিধানসভা ভোটের আগে আদতে দলেরই ক্ষতি হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement