এখনও চিকিৎসাধীন পড়ুয়া। —নিজস্ব চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রী খোঁজখবর নিতেই দিনহাটার স্কুলে মিড ডে মিল কাণ্ড নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হল প্রশাসন। সরকারি সূত্রেই জানা গিয়েছে, মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে পড়ুয়াদের অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগের জেরে রান্নার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠী সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। শোকজের মুখে পড়ছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও। শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে দিনহাটা মহকুমার পাথরসন দুর্গানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান নাটাবাড়ির বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। স্কুলে গিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে স্কুলে শিবির করে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার খোঁজখবর নিয়েছেন কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন কল্যাণী পোদ্দারও। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের একাংশ তাঁদের কাছে মিড ডে মিলের ডালের গামলায় মরা টিকটিকি পড়ে ছিল বলে অভিযোগ জানান। ওই ঘটনায় রান্নার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
পরিস্থিতি সামলাতে বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ারপার্সন কল্যাণী পোদ্দার দুইজনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। রবীন্দ্রনাথবাবুকে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলতে শোনা গিয়েছে, “ প্রতিটি পড়ুয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হল। সোমবার ফের কোচবিহারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। রান্নার দায়িত্বে যারা ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরেও কোন শিশুর সমস্যা হলে আমার মোবাইলে ফোন করে জানাবেন। আমি গাড়ি নিয়ে চলে আসব।” সেইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথবাবুর সংযোজন, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের নির্দেশেই পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে সব ব্যবস্থা হয়েছে। সোমবার থেকেই নতুন রান্নাঘরে খাবার তৈরি হবে।
কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের তরফে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন কল্যাণী পোদ্দার বলেন, “ শিশুরা প্রায় সবাই পুরোপুরি সুস্থ। তবু আগামী সপ্তাহে ফের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান হবে। ওই ঘটনার ব্যাপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককেও আমরা কারণ দর্শানর চিঠি দিচ্ছি।” প্রশাসন সূত্রের খবর, শুক্রবার দিনহাটার প্রত্যন্ত এলাকার পাথরসন দুর্গানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অন্তত ৮০ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ, ডালের গামলায় মরা টিকটিকি পড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।অসুস্থদের মধ্যে আমিনা খাতুন নামে এক পড়ুয়া বামনহাট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শনিবারেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের অবশ্য শুক্রবার রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। দিনহাটার মহকুমা শাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ বলেন, “ এমন গাফিলতি বরদাস্ত করা যায় না। রান্নার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অভিভাভকদের অবশ্য অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের রান্নাঘরের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন। রান্নার পর খাবার ঠিকঠাকভাবে ঢাকনা দিয়ে রাখা হয়না। বারবার বলেও লাভ হয়নি। যারজেরে একসঙ্গে এত সংখ্যক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এক অভিভাবিক সমসের আলি বলেন, “ রান্নাঘর নিয়মিত সাফাই হলে এমন ঘটনা হয়ত হতনা।” রান্নার দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তরফে প্রভাতি সেন অবশ্য বলেন, “ প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব সামলাচ্ছি। সবসময় নজর রেখেই কাজ করি। কোন ত্রুটি আগে কখনো হয়নি। ওই দিন কি করে টিকটিকি পড়ার ঘটনা হল জানিনা।” প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে নাটাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবু ও দিনহাটার ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক উদয়ন গুহ দুইজনেই বামনহাট এলাকায় গিয়েছিলেন।