মেডিক্যাল কলেজের দাবি বিরোধীদের

ঘোষণার পর কেটে গিয়েছে তিন বছর। কিন্তু কোচবিহারে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কাজ শুরু হয়নি এখনও। এবার মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের মুখে ওই অভিযোগে সরব হয়েছে কোচবিহারের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৫৭
Share:

ঘোষণার পর কেটে গিয়েছে তিন বছর। কিন্তু কোচবিহারে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কাজ শুরু হয়নি এখনও। এবার মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের মুখে ওই অভিযোগে সরব হয়েছে কোচবিহারের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে মেডিক্যাল কলেজ ইস্যুতে শাসক ও বিরোধীদের তরজায় তাতছে রাজনীতির আবহ।

Advertisement

বিরোধীদের অভিযোগ, ২০১২ সালে কোচবিহারে একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রথমবার জেলায় মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে কোচবিহারে পিপিপি মডেলে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারে দলের জেলা নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর ওই আশ্বাসের কথা ঘোষণা করে সাংবাদিক বৈঠকও করেন। কিন্তু এতদিনেও কলেজের কাজ শুরু হয়নি। এবার ২ নভেম্বর ফের মুখ্যমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কোচবিহারের মাথাভাঙায় আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ওই সফরে মেডিক্যাল কলেজের কাজ কেন হয়নি সেই প্রশ্নে প্রকাশ্যে তাঁকে বিবৃতি দাবি দিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন বিজেপি নেতারা।

বিজেপির কোচবিহার জেলা সম্পাদক নিখিল রঞ্জন দে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একাধিকবার কোচবিহারে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এতদিনেও সরকারি বা বেসরকারি কোনও উদ্যোগেই জেলায় মেডিক্যাল কলেজের জন্য একটি ইট গাঁথা হয়নি। ওই কাজ কেন এগোয়নি এবার জেলা সফরের সময় তা মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চাইছি। সেটা না হলে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির দাবি জোরাল করতে জেলাজুড়ে আন্দোলন হবে।

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন জেলার বাম ও কংগ্রেস নেতারাও। বামেদের দাবি, মালদহের পর কোচবিহারে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন। কোচবিহার শহর লাগোয়া রাজারহাটে সরকারি উদ্যোগে ওই কলেজ তৈরির সিদ্ধান্তও হয়েছিল। পালাবদলে তা থমকে গিয়েছে। নতুন সরকারের আমলে পিপিপি মডেলে রাজারহাটে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ঘোষণা করে চমক দেওয়া হয়। আমরা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ চাই। ইতিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে নিয়ে ওই ব্যাপারে একটি দাবি সমিতিও গড়া হয়েছে। সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য তথা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ দাবি সমিতির আহ্বায়ক অনন্ত রায় বলেন, “ বিধানসভা ভোটে পালাবদল না হলে এতদিনে রাজারহাটে সরকারি উদ্যোগে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যেত। তৃণমূল সরকার চমকের রাজনীতি করছে। ঘোষণার সঙ্গে কাজের বাস্তবায়নের মিল নেই। তাছাড়া আমরা পিপিপি মডেলে বেসরকারি কলেজ চাইনা। সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করা হবে। নভেম্বরে নাগরিক সভার সিদ্ধান্তও হয়েছে।” সিতাইয়ের কংগ্রেস বিধায়ক কেশব রায় বলেন, “ দুই দফায় জেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মেডিক্যাল কলেজের কথা ঘোষণা করা হয়। কোনটির কাজ হয়নি। তাতেই স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রী চমক দিচ্ছেন।”

তৃণমূল অবশ্য বিরোধী শিবিরের অভিযোগ মানতে চায়নি। তাঁদের দাবি, সরকার বদলের পর কোচবিহারে বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়েছে। দিনহাটার আদাবাড়ি ঘাটে সেতু, হরিণ চওড়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তৈরির মত একাধিক বড় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ব্যাপারেও রাজ্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে। রাজারহাট ও কোচবিহার কৃষি খামারে সরকারি উদ্যোগে প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ তৈরির জন্য জমি দেখা হয়েছে। দিনহাটায় পিপিপি মডেলে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির জন্যও জমি দেখা হয়েছে।

তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা নাটাবাড়ির বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হচ্ছেই। প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়েছে। জমি দেখা হয়েছে। এখন কেন্দ্রের ছাড়পত্রের অপেক্ষা। সেটা এলেই দ্রুত মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কাজ হবে। যে গতিতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। আদাবাড়ির মত বড় সেতু, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে। বিরোধীরা অপপ্রচার করলে লাভ হবে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement