মন্ত্রীর কাছে আর্জি কৃষকদের

দাম না পেয়ে আলুতে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন কৃষকেরা। পাট ও সব্জি চাষে নেমেও ফের ক্ষতির মুখ দেখতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কৃষকেরা। আজ শুক্রবার কোচবিহারে সফরে আসছেন কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। কৃষকদের একাংশের আর্জি, চাষের যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে একবার অন্ততপক্ষে নিজেই চাষিদের সঙ্গে কথা বলুক মন্ত্রী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০১৫ ০৩:১৮
Share:

দাম না পেয়ে আলুতে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন কৃষকেরা। পাট ও সব্জি চাষে নেমেও ফের ক্ষতির মুখ দেখতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কৃষকেরা। আজ শুক্রবার কোচবিহারে সফরে আসছেন কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। কৃষকদের একাংশের আর্জি, চাষের যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে একবার অন্ততপক্ষে নিজেই চাষিদের সঙ্গে কথা বলুক মন্ত্রী। কৃষি দফতরের এক আধিকারিক অবশ্য বলেন, “মন্ত্রী জেলায় চাষের অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তিনি কৃষি দফতরের আধিকারিক ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। এর পরেও মন্ত্রী চাইলে মন্ত্রী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।” মাতালহাটের কৃষক পুল্ক সরকার বলেন, “চার বিঘা আলু চাষ করে পরে জৈব সার বানিয়েছি। আগাম বৃষ্টিতে এক বিঘার লঙ্কা নষ্ট হয়েছে। বহু টাকা লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকার পাশে দাঁড়ালে ভাল হয়। মন্ত্রীকে সে কথা জানাতেই অনুষ্ঠানে যাব।”

Advertisement

কোচবিহারে এ বারে ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপন্ন হয় জেলায়। ফলন ভাল হওয়ায় আলুর দাম তলানিতে নামে। যার ফলে বহু খেতে আলু পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আলু চাষে ক্ষতির মুখ দেখার পর অনেক চাষি পাট চাষে নেমেছিলেন। অনেকে সব্জি চাষও করেছিলেন। বর্ষার আগেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পাট ও সব্জি দু’টিতেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাসিন্দারা। জেলায় এ বারে ৩৮ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যে সব জমি নিচু সেখানেই বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। খেতে জল জমে যাওয়ায় পাট গাছ বড় হয়নি। শিলাবৃষ্টির কারণেও বেশ কিছু জমির পাট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাটচাষি রামভরত রাজভর বলেন, “অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে পাট চাষ করেছিলাম। জল জমে যাওয়ায় গাছ আর বড় হয়নি। পুরো টাকা জলে গেল। এখন কী করব চিন্তায় পড়েছি।’’

বছরের পর বছর ধরে দাম না পাওয়ায় জেলায় পাট চাষের জমিও কমে যাচ্ছে। শুধু কোচবিহার ১ ব্লকে দু’হাজার হেক্টর চাষের জমি কমে গিয়েছে। জেলায় সব্জি চাষও হয় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। এই সময় লঙ্কা, পটল, বেগুন-সহ নানা সব্জি চাষ করেছেন কৃষকরা। কোচবিহার জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ মাতালহাটের বাসিন্দা কৃষ্ণকান্ত বর্মন বলেন, “এই এলাকার মানুষেরা অনেকেই সব্জি চাষের উপরে নির্ভরশীল। বহু জমির সব্জি বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে। আমাদের সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে। আমরাও যথাসাধ্য সাহায্য করছি।’’

Advertisement

কৃষকদের এই অবস্থা নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে ধান, পাট, আলু চাষি সংগ্রাম সমিতি। সংগঠনের পক্ষে আগামী ২৯ জুন জেলাশাসকের কাছে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে (এক হাজার টাকা মন) ধান কেনার দাবি তুলেছে। সমিতির নেতা নৃপেন কার্জি বলেন, “আলু চাষিদের মতো পাট চাষিদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মন্ত্রী শুধু ঘুরে গেলেই সব হয় না। কৃষকদের সঙ্গে থাকতে হয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement