কোচবিহারের দেওয়ানহাটে তৃণমূলের রেল অবরোধ।—নিজস্ব চিত্র।
মদন মিত্রের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ-পাল্টা বিক্ষোভ, অবরোধ জারি রয়েছে উত্তরবঙ্গে। রবিবার সকাল ১১টা থেকে আলিপুরদুয়ার চৌপথিতে এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ করেন কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁদের দাবি, মদন মিত্রের গ্রেফতারির পরে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। অবরোধের জেরে এলাকায় যানজট তৈরি হয়। আলিপুরদুয়ার থেকে শামুকতলা, ফালাকাটা, কোচবিহার রুটের যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
কোচবিহারে এ দিন পাল্টা পথে নামে তৃণমূল। সকাল ১১টা থেকে এক ঘন্টা কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার দেওয়ানহাটে রেল অবরোধ করেন তৃণমূল সমর্থকেরা। অবরোধের জেরে বামনহাট থেকে আলিপুরদুয়ার জংশনগামী প্যাসেঞ্জার ট্রেন আটকে পড়ে। দুপুরে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা পার্টি অফিসের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। নরনারায়ণ রোড, সুনীতি রোড ঘুরে জেলা পার্টি অফিসের সামনেই মিছিল শেষ হয়। জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, যুব তৃণমূলের সভাপতি শুভজিত্ কুণ্ডুু-সহ অন্যান্যরা মিছিলে ছিলেন। জেলা সভাপতি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল সরকারকে ছোট করার জন্য মদন মিত্রকে সিবিআই দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে। তাঁদের ওই চক্রান্তের প্রতিবাদে প্রতিদিন শহরে-গ্রামে মিছিল সভা করা হবে।”
প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি বিশ্বরঞ্জন সরকার বলেন, “মন্ত্রীসভার সদস্য মদন মিত্র গ্রেফতারের পর যে ভাবে মুখ্যমন্ত্রী পথে নেমে অভিযুক্তদের সমর্থন করছে, তাতে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।” সারদার পাল্টা সাহারা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি প্রসঙ্গে বিশ্বরঞ্জনবাবু বলেন, “সারদা কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সাহারার ক্ষেত্রে সে রকম কিছুই হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যদি সাহারার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগের কোনও তথ্য প্রমাণ থাকে, তাহলে উচিত বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে পেশ করা।”
কংগ্রেসের পথ অবরোধ প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী পাল্টা দাবি করেন, “আমরা বন্ধ পাটকাপাড়া চা বাগানে ত্রাণ বিলি করছি, অথচ এলাকার কংগ্রেস নেতা, বিধায়করা সেখানে না গিয়ে উল্টে পথ অবরোধ করে বাসিন্দাদের দুর্ভোগে ফেলছে।”
তবে এ দিনের মিছিলে জেলা নেতাদের অনেককেই দেখা যায়নি।