একটি বেসরকারি রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে হানা দিয়ে একাধিক অনিয়ম ধরলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক তাপস চৌধুরী এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে।
মঙ্গলবার বিকেলে বালুরঘাট শহরের রঘুনাথপুর ট্যাঙ্কমোড় এলাকায় ওই বেসরকারি প্যাথলজি সেন্টারে আচমকা হানা দিয়ে জেলার দুই প্রশাসনিক কর্তা ওই কেন্দ্রের এক্সরে, আসট্রা সোনোগ্রাফি এবং রক্ত পরীক্ষার ইউনিট বন্ধ করে দেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে বলেন, ‘‘রোগের পরীক্ষানিরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই সাদা প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকদের সই করাটা একটা অপরাধ। তাছাড়া কী কারণে রোগীর ইউএসজি(আলট্রা সোনোগ্রাফি) করা হয়েছে এখানে মেলা একাধিক প্রেসক্রিপশনে তার উল্লেখ নেই। অর্থাৎ এখানে ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ হয় কিনা তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আপাতত ইউনিটগুলি সিল করে সমস্ত বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ প্রয়োজনে ওই কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন।
জেলাশাসক তাপস চৌধুরী বলেন, ‘‘রোগীদের হেনস্থার পাশাপাশি ভুয়ো ডাক্তারের সই করা প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট আধঘন্টার মধ্যে রোগীদের দেওয়ার অভিযোগ আসে। ওই কেন্দ্রের কর্মীরা জোর করে এখানে আসা রোগীদের তাদের কাছেই রক্ত, এক্সরে, ইউএসজি সহ যাবতীয় পরীক্ষা করাতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ। অন্য জায়গা থেকে পরীক্ষা করলে ওই রিপোর্ট চিকিৎসককে দেখানো হবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও জেলাশাসকের দফতরে জমা পড়ার পরই এদিন পুলিশ নিয়ে গিয়ে ওই কেন্দ্রটিতে হানা দেন জেলাশাসক। সঙ্গে ছিলেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।
বালুরঘাট হাসপাতাল থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে ওই বেসরকারি রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে রয়েছে হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের প্রাইভেটে রোগী দেখার ব্যবস্থাও। বিশেযত তৃণমূলের প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস ইউনিয়নের জেলা সভাপতি থেকে জেলা সম্পাদক পদে থাকা হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই বেসরকারি কেন্দ্রটিতে চুটিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন বলে অভিযোগ। ওই কেন্দ্রে চিকিৎসককে দেখানোর পর রোগীদের হাত থেকে জোর করে প্রেসক্রিপশান কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই রোগীদের সঙ্গে কর্মীদের বচসা বাধত বলে অভিযোগ। কিন্তু তাদের চাপে শেষ পর্যন্ত রোগীদের মোটা টাকা গুনতে হচ্ছিল বলে প্রশাসনের কাছে নালিশ জমা পড়ে।
এদিন এক রোগীর আত্মীয় জেলাশাসকের কাছে ওই কেন্দ্র পরিচালিত লাগোয়া ওষুধ বিক্রির দোকানের এক কর্মীর বিরুদ্ধে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই ব্যক্তির অভিযোগ, ওই কেন্দ্র থেকে ইউএসজি না করালে ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখানো হবে না বলে তাকে ওই কর্মী হুমকি দেন। জেলাশাসক ওষুধের দোকানের ওই কর্মীকে ডেকে তার বক্তব্য শুনে সকলের সামনে তাকে ধমক দেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ওই কর্মীকে গ্রেফতার করা হবে বলে জেলাশাসক জানান।
প্রায় একঘন্টা ধরে ওই প্যাথলজি সেন্টারে সমস্ত বিভাগ খতিয়ে দেখার সময় কেন্দ্রটির মালিক সঞ্জয় ব্রক্ষ্ম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘কর্মীরা সব দেখেন। অনিয়ম হওয়ার কথা নয়।’’ মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক অবশ্য সঞ্জয়বাবুর সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মাস ছয়েক আগে ডেপুটি সিএমওএইচ হানা দিয়ে একই রকম নথি উদ্ধার করে সতর্ক করেছিলেন। কোনও লাভ হয়নি।’’
এরপর পাশেই অপর একটি প্যাথলজি কেন্দ্রে তারা হানা দেন। সেখানে লাইসেন্স নবীকরণের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আবেদন করার অভিযোগে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আপাতত প্যাথলজি ইউনিটটি বন্ধ রাখতে বলেন।