রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে এলেন দুই জেলার চা শ্রমিক

রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার আওতায় এল আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির সমস্ত চা বাগানের শ্রমিকরা। সরাসরি চা বাগানের শ্রমিকদের ২ টাকা কেজি দরে চাল, গম ও আটা দেওয়া হবে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৩৩
Share:

রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার আওতায় এল আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির সমস্ত চা বাগানের শ্রমিকরা। সরাসরি চা বাগানের শ্রমিকদের ২ টাকা কেজি দরে চাল, গম ও আটা দেওয়া হবে। পরিবার পিছু মাসে ৩৫ কেজি করে রেশন পাবেন চা শ্রমিক ও বাগানের বাসিন্দারা। ২৭ জানুয়ারি থেকে বিলি হবে ওই রেশন কার্ড। বুধবার আলিপুরদুয়ার পুরসভা হলে জেলার আধিকারিক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলাপরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

Advertisement

জেলা খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ রাজ্য খাদ্য সুরক্ষার যোজনার আওতায় আসবেন। রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ১ অনুযায়ী মাসে ২ টাকা কেজি দরে দু’ কেজি চাল ও তিন কেজি গম দেওয়া হবে । যোজনা ২ অনুযায়ী মাসে মাথা পিছু ১৩ টাকা কেজি দরে এক কেজি করে চাল ও ন’ টাকা কেজি দরে এক কেজি করে গম দেওয়া হবে।

অন্নপূর্ণা অন্ত্যোদয় যোজনার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার ১৫ কিলোগ্রাম করে চাল এবং ২০ কিলোগ্রাম করে আটা পাবেন। দু’টাকা কেজি দরে এই চাল এবং গম দেওয়া হবে। যারা গম নেবেন না তাদের আটা দেওয়া হবে। প্রতিটি আটার প্যাকেটে তৈরির তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ এবং টোকেন নম্বর লেখা থাকবে। যারা চাল নেবেন না তাদের চালের পরিবর্তে গম বা আটা দেওয়া হবে। সহায় সম্বলহীন বাসিন্দারা দু’ কিলোগ্রাম চাল এবং ৩ কিলোগ্রাম করে আটা পাবেন। রাজ্যের তরফ থেকে প্রত্যেককে ৫০০ গ্রাম করে চিনি দেওয়া হবে।

Advertisement

জেলা খাদ্য নিয়ামক বাপ্পাদিত্য চন্দ বলেন, “এতদিন কেন্দ্রের অন্নপূর্ণা অন্ত্যোদয়ের অধীন চা বাগানের একটা অংশ এই সুবিধে পেত। রাজ্য সরকার সমস্ত চা বাগানের শ্রমিক পরিবার ও এলাকার বাসিন্দাদের এর আওতায় নিয়ে এল। এর পুরো খরচ বহন করবে রাজ্য। ’’

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অভিযোগ, চা বাগানের রেশন ব্যবস্থা সঠিক ভাবে চলছিল না। রাজ্য সরকার যে বরাদ্দ মালিকদের দিত, তা পুরোটা তুলতো না মালিক পক্ষ। স্বাভাবিক ভাবেই শ্রমিকরাও পর্যাপ্ত রেশন পাচ্ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘‘যে সমস্ত চা বাগান বন্ধ হয়েছে সেখানে অন্নপূর্ণা অন্ত্যোদয় যোজনায় চাল গম দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখন থেকে সমস্ত চা বাগান শ্রমিক ও বাগানের বাসিন্দারা এই সুবিধে পাবেন ।’’

Advertisement

কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, চা বাগানে শ্রমিকদের রেশন দেওয়ার কথা মালিক পক্ষের। রাজ্য সরকার সেই দায়িত্ব নেওয়ায় কার্যত রেশন নিয়ে মালিক পক্ষের আর কোনও দায় থাকল না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement