স্বাভাবিক জীবনযাপনের ‘অধিকার’ পাইয়ে দিতে অনাথ, ভবঘুরে শিশুদের হোমে পাঠানো হয়। হোমগুলিতে কী আদৌও শিশুদের অধিকার রক্ষিত হয়? এমনই প্রশ্ন উঠল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয় বৈঠকে। সরকারি ও বেসরকারি হোমে অতিরিক্ত আবাসিক থাকলেও পদক্ষেপ করা হয় না বলেও অভিযোগ। হোমগুলিতে থাকা শিশু কিশোররা কতটা সুরক্ষিত তা নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন তুললেন আধিকারিকরা।
শুক্রবার শিলিগুড়ির প্রধাননগরের একটি হোটেলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে সমন্বয় বৈঠক হয়। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাতে ছিলেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও। বৈঠকের বিষয়সূচি ছিল পথশিশুদের সুরক্ষা এবং অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা।
আয়োজক সংস্থার কো অর্ডিনেটর তাপস কর্মকার বলেন, “শিশুকে হোমে পাঠিয়ে দিলেই তার অধিকার রক্ষা করা হয়েছে, এমন নয়। যত জন শিশু একটি হোমে থাকার কথা, তার থেকে বেশি থাকলেও শিশুর অধিকার খর্ব হতে পারে। তার যা কিছু পরিষেবা প্রাপ্য তা ব্যহত হতে পারে। বিভিন্ন জেলায় থাকা হোমগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষদের জানানোর ব্যবস্থা হবে।”
জলপাইগুড়ির সরকারি কোরক হোমের পরিকাঠামো নিয়ে এ দিনের বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে। হোমে ৫০ জন আবাসিকের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও গড়পরতা সত্তর জনের বেশি আবাসিক থাকে বলে জানা যায়। বেশি আবাসিক থাকার কারণে একই বিছানায় অনেক সময়ে দু’জনের শোওয়ার ব্যবস্থা হয়। গাদাগাদি করে থাকার কারণে শিশুদের পরিচ্ছন্নতা সঠিক ভাবে বজায় রাখা যায় না বলে অভিযোগ। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা যায়, যখনই হোমের আবাসিকদের সংখ্যা নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে, তখনই হোমে অসুস্থতা হার বেড়েছে।
বেসরকারি হোমের পরিকাঠামো নিয়েও একই অভিযোগ শোনা গিয়েছে এ দিন। জলপাইগুড়ির একটি মেয়েদের হোমে, শিলিগুড়ির বেসরকারি হোমে যত আবাসিক থাকার কথা তার সংখ্যা কখনও দ্বিগুণও ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। শিশুদের অধিকার আইনে, কোন হোমে কত জন আবাসিক থাকার কথা, হোমগুলির পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা নিদিষ্ট করে বলা থাকলেও বেশি সংখ্যায় আবাসিক থাকলে তা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এ দিনের আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির কোরক হোমের সুপার তাপস দাসও। তিনি বলেন, “এ দিনের আলোচনা শুনেছি। শিশুদের অধিকার যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য হোমের পরিচালনায় সর্তক দৃষ্টি রাখা হয়।” এনজেপি স্টেশনের ভবঘুরে শিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে এ দিন আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। তাপসবাবু বলেন, “সব হোমগুলির পরিকাঠামো নিয়ে যৌথ সমীক্ষা করে, তার রিপোর্ট একত্রিত করে আলোচনা করলে সমাধান সম্ভব। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব।”