শাস্তি চায় তৃণমূল, চাপানউতোর

আর্থিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকারের ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব হল তৃণমূল প্রভাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংগঠন। কিন্তু, বাম মনোভাবাপন্নরা সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনাচক্রে, অতীতে দিলীপবাবুর হয়ে দার্জিলিং জেলার বাম নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে সওয়াল করেছেন।

Advertisement

সৌমিত্র কুণ্ডু

শেষ আপডেট: ২১ অগস্ট ২০১৫ ০২:৫৯
Share:

আর্থিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকারের ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব হল তৃণমূল প্রভাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংগঠন। কিন্তু, বাম মনোভাবাপন্নরা সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনাচক্রে, অতীতে দিলীপবাবুর হয়ে দার্জিলিং জেলার বাম নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে সওয়াল করেছেন। খোদ প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দিলীপবাবুকে সাসপেন্ড করার জন্য উপাচার্যের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। ফলে, এবারও বামেদের তরফে দিলীপবাবু যাতে বড় কোনও শাস্তির মুখে না পড়েন সে জন্য নানা ভাবে চেষ্টা চলছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল প্রভাবিত কর্মীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও বাম মনোভাবাপন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সংগঠন জানিয়েছে, তাঁরা কর্মসমিতি যুক্তিগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত নিলে মেনে নেবেন।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সম্পাদক সমর বিশ্বাস বলেন, ‘‘যে দিন থেকে অভিযোগের বিষয়টি উঠেছে তখন থেকেই আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি। কোনও ব্যক্তি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণিত হলে তাঁকে বরখাস্ত করা হোক। সুপ্রিম কোর্টও লজিক্যাল কনক্লুসন নিতে বলেছে। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা ছাড়া অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সে সব নিয়েও ব্যবস্থা নিতে হবে।’’ ‌একই মত সংগঠনের সভাপতি বিকাশ চন্দ্র পালেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা কর্মসমিতির প্রাক্তন সদস্য অজিত রায় বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে এখনই বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। অনেক দিন ধরেই ওই বিষয়ে খোঁজখবর নিইনি। কী অবস্থায়, কী পরিস্থিতিতে রয়েছে জানা নেই।’’ দিলীপবাবুর বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে তৃণমূলের কর্মচারী সমিতি। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু কর্মচারী সমিতির সভাপতি গুরুচরণ রায় বলেন, ‘‘বিষয়টির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান জড়িত। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসমিতি কড়া ব্যবস্থা নিক।’’ বাম মনোভাবাপন্ন কর্মচারী সমিতি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি সজল গুহ জানান, তাঁরাও চান বিষয়টি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার তা নেওয়া হোক। দেরি না করে পদক্ষেপ করা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের সংগঠনের কর্মকর্তারা বিশদে কিছু বলতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে এবং বাইরে সমালোচনার ঝড় বয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিনান্স অফিসার প্রদীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘আইন মেনেই চলা উচিত।’’ একই রকম সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সংগঠনের সম্পাদক স্বপন রক্ষিতেরও।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর অ্যাসোসিয়েশন তথা ওয়েবকুপার রাজ্য সহ সভাপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দ্যুতীশ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দোষ করলে শাস্তি নিশ্চয়ই পেতে হবে। তবে সিদ্ধান্ত যেন আইনানুগ হয়। তাড়াহুড়ো করে যেন কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement