প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে জোর করে মদ খাইয়ে, সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠল সেই কলেজেরই অন্য দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার মালদহ গৌড় কলেজের সাম্মানিক সংস্কৃতের ওই ছাত্র এই ঘটনার পরে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও হলদিয়ার একটি কলেজে ছাত্রদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠায় রাজ্য জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। তাই এ বার গৌড় কলেজের ছাত্রের অভিযোগটি পেয়েই শোরগোল পড়ে যায়। ওই ছাত্রকে দেখতে শুক্রবার সকালে মেডিক্যাল কলেজে যান গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপাল মিশ্র এবং ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। গোপালবাবু জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি তাঁরাও একটি তদন্ত কমিটি করবেন। তিনি বলেন, ‘‘অভিযুক্তরা চিহ্নিত হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’’
ওই ছাত্রের বাড়ি ইংরেজবাজারের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাটুলিতে। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, যারা তাঁকে নিগ্রহ করেছে, তাদের তিনি চেনেন না। তাঁর কথায়, ‘‘তবে ওদের দু’জনকে আমি কলেজে দেখেছি। ওদের এক জন কলেজে আগে এক দিন আমাকে চড়ও মেরেছিল।’’ ওই ছাত্রের দিদি বলেন, ‘‘ভাই ভয়ে আর কলেজে যাচ্ছিল না।’’ এমনকী, পরিচয়পত্র নিতেও কলেজে যাননি তিনি।
বৃহস্পতিবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ছিল। সেই কারণে এ দিন কলেজ ফাঁকা থাকবে ভেবে ওই ছাত্র এ দিন পরিচয়পত্র আনতে যান। কিন্তু তখনই তিনি ওই যুবকদের সামনে পড়ে যান। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এরপরেই এক যুবক আমাকে পাশের একটিঝোপে নিয়ে যায়। সেখানে তিন জন মিলে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে।
রাজি না হওয়ায় মারধর করে বুকে এবং বাঁ পায়ের হাঁটুর উপরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।’’ অভিযোগ, এরপরে জোর করে মদও খাওয়ানো হয়। তারপরে একটি ট্যাবলেটও খাইয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। ছাত্রটি অচৈতন্য হয়ে পড়লে ওই তিন যুবক তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায়। হুঁশ ফিরলে এক বন্ধুকে ফোন করে ডেকে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তিনি বাড়ি পৌঁছন। রাতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকেরা তাঁকে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাতেই তাঁর দিদি মালদহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
কিন্তু তারপরে ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ বাড়ছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। গৌড়
মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিরাঞ্জন মৃধা বলেন, ‘‘ঘটনাটি কলেজের বাইরে হয়েছে। তবে কলেজের কোনও ছাত্র জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছি। কেউ জড়িত থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস এই ছাত্রটিকে চেনেন। তিনি বলেন, ‘‘ও খুবই ভাল ছেলে। এই ঘটনার পেছনে যেই থাক, কেউ যেন পার না পায়।’’