কর্মসূচি বামেদের

সাফল্য ধরে রাখতে টানা আন্দোলন

বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে দার্জিলিং জেলাতেও প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেন বামপন্থীরা। শুক্রবার দুপুরে শিলিগুড়ির মিত্র সম্মিলনী হলে রাজ্যের ১১৩টি বামপন্থী গণ সংগঠনের যৌথমঞ্চ ‘বেঙ্গল প্ল্যাটফর্ম অব মাস অর্গানাইজেশনে’র (বিপিএমও) একটি কনভেনশন হয়েছে।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৫ ০২:৪৫
Share:

সূর্যকান্ত মিশ্রের উপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল। —নিজস্ব চিত্র।

বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে দার্জিলিং জেলাতেও প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেন বামপন্থীরা। শুক্রবার দুপুরে শিলিগুড়ির মিত্র সম্মিলনী হলে রাজ্যের ১১৩টি বামপন্থী গণ সংগঠনের যৌথমঞ্চ ‘বেঙ্গল প্ল্যাটফর্ম অব মাস অর্গানাইজেশনে’র (বিপিএমও) একটি কনভেনশন হয়েছে। সেখান থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নানা দাবিতে সরব হয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে শিলিগুড়ি ও লাগোয়া এলাকায় টানা পদযাত্রা, সভা, কনভেনশনের ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষক থেকে শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি কর্মী, শ্রমিক সংগঠন, অবসরপ্রাপ্ত পেনভোগী, ছাত্র-যুব ও মহিলাদের নানা দাবির সঙ্গে চিট ফান্ডের প্রতারিতদের টাকা ফেরৎ এবং দোষীদের শাস্তির দাবি-সহ ১৫ দফা দাবি আন্দোলনের সামনে রাখা হয়েছে।

Advertisement

সেই সঙ্গে দার্জিলিং জেলার জন্য চা বাগান সমস্যা, পাহাড়ের জিটিএ হস্তক্ষেপ বন্ধ বা ইএসআই হাসপাতাল নির্মাণের দাবিও তোলা হয়েছে। এই দাবি গ্রাম থেকে শহর সবর্ত্র আন্দোলনের ডাক গিয়ে আদতে বামপন্থীরা বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিই শুরু করে দিল বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করছেন। এমনকি, এদিনের কনভেনশনে বিভিন্ন বক্তরা রাজ্যের তৃণমূল সরকারের পরিবর্তনের জন্য এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ডাকও দেন। এমনকী, ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে টানা এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন কনভেনশনে আসা বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

জেলা বামফ্রন্ট আহ্বায়ক তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেন, ‘‘বিপিএমও গোটা রাজ্য আন্দোলন শুরু করেছে। শাসক দল একে ভয় পাচ্ছে। তাই রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকেও সংগঠনের মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। আমরা দেরিতে হলেও মানুষের এই দাবিদাওয়া নিয়ে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র পদযাত্রা, সভা করব। আর শিলিগুড়ির মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে। মহকুমা পরিষদ এবং পুরসভা ভোটে তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।’’

Advertisement

উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বামপন্থীদের এই যৌথমঞ্চ ১৫ দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। দার্জিলিং জেলায় পুরসভা, মহকুমা পরিষদ নিবার্চন, বোর্ড গঠন এবং তার সঙ্গে কালীপুজো, ছটপুজো পড়ে যাওয়ায় দেরিতে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের জেলার আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ তথা সিপিএম নেতা সমন পাঠককে। দায়িত্বে রয়েছেন বামফ্রন্ট্রের সমস্ত শরিক-সহ বিভিন্ন গণ সংগঠনের নেতারা।

তাঁদের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, আগামী বছর বিধানসভা নিবার্চন। তার আগে মহকুমা পরিষদ এবং পুরসভা নির্বাচনের সাফল্যকে ধরে রেখে টানা মাঠে ময়দানে থাকার রণকৌশন নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ে বামপন্থীদের বাস্তব অবস্থায় মেনে নিয়েই আন্দোলন শিলিগুড়ির মহকুমার সমতল এলাকা এবং লাগোয়া ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। সমতলের প্রতিটি বুথে কর্মীদের তৈরি রাখা, বুথ ও ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মী বাছাই করে বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও এই সংগঠনের কর্মসূচির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। এটা বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি। আর এ জেলায় চা শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে রেখে চা বলয়েও সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা জারি থাকবে।

সংগঠনের জেলার আহ্বায়ক সমনবাবু বলেন, ‘‘জিটিএতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ হচ্ছে। বিভিন্ন বাগানে দুর্দশা চলছে। বাগান বন্ধ হচ্ছে। শ্রমিকেরা খেতে পাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় দাবি দাওয়ার সঙ্গে জেলায় আমরা এগুলিকেও রেখেছি। আপাতত সমতলে আন্দোলন হলেও পাহাড়ের বিভিন্ন দলকেও আমরা একসঙ্গে যোগ দিতে অনুরোধ করব। আর এটা শুধুমাত্র ভোটের জন্য নয়, মানুষের সমস্যা, লড়াই-এর আমরা যে তাঁদের পাশে আছি, থাকব তা বোঝাতেই আন্দোলন।’’

এদিন কনভেনশনে আপাতত ঠিক হয়েছে, ২৩ নভেম্বর শিলিগুড়ির পাঁচটি ওয়ার্ডে, ২৪ নভেম্বর নকশালবাড়ি, হাতিঘিসা চা বাগান এলাকায়, ২৫ নভেম্বর শিলিগুড়ির ১৭টি ওয়ার্ডের টানা পদযাত্রা, সভা হবে। একইভাবে ফুলবাড়ি, ডাবগ্রাম এলাকায় আন্দোলন চলবে। প্রতিটি জায়গায় একাধিক এলাকায় ছোট ছোট মিছিল ও সভা করা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement