সংস্কৃতি যেখানে যেমন...

মালদহের আবৃত্তি শিক্ষা ও চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে পালিত হল রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও কবি রজনীকান্তের সার্ধশতবর্ষ স্মরণ অনুষ্ঠান। উদ্বোধক অধ্যাপক বিকাশ রায় শিশুমনে সহজপাঠ, শিশু ভোলানাথ, খাপছাড়া-র ছড়াগুলির প্রভাব তুলে ধরেন। শিশু ও কিশোররা একক নিবদেনে শোনায় দামোদর শেঠ।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৫ ০২:৪৬
Share:

ছড়ায় কবিতায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ

Advertisement

মালদহের আবৃত্তি শিক্ষা ও চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে পালিত হল রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও কবি রজনীকান্তের সার্ধশতবর্ষ স্মরণ অনুষ্ঠান। উদ্বোধক অধ্যাপক বিকাশ রায় শিশুমনে সহজপাঠ, শিশু ভোলানাথ, খাপছাড়া-র ছড়াগুলির প্রভাব তুলে ধরেন। শিশু ও কিশোররা একক নিবদেনে শোনায় দামোদর শেঠ। আমাদের ছোট নদী, সংশয়ী রবীন্দ্র কবিতা ও ছড়াগুলি। বিভিন্ন কবিদের কলমে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক কবিতা শোনা যায় অনুষ্কা দাস বর্মা, সোহাঞ্জনা দত্ত এবং দেবলীনা দাসের কণ্ঠে। ‘উৎসারিত আলো’ এবং ‘রবীন্দ্রনাথ’ কবিতার কোলাজ দু’টি ছিল মনোগ্রাহী। রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন মানবী ঘোষ, মৃত্যুঞ্জয় সিংহ। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘শেষের রাত্রি’ অবলম্বনে শ্রুতি নাটকটি ছিল উপভোগ্য। অংশ নেন রীনা দাস, সুতপা দাস, সুশান্ত সাহা এবং ইন্দিরা দাস। দ্বিতীয় সন্ধ্যায় ছিল শিশু কিশোরদের একক নিবদনে রজনীকান্ত সেনের ছড়া ও কবিতা—স্বাধীনতার সুখ, উচ্চনীচ, মিলন, পরিহাসের প্রতিফলন ইত্যাদি। নজরুলগীতি শোনালেন শ্রেয়স চৌধুরী ও মৌমিতা দাস। ভাল লাগে সৌম্যজিৎ দাসের নজরুলের ‘খাদুদাদু’, সুমন সোরেনের ‘লিচুচোর’, সৃঞ্জয়ী দাসের ‘হিন্দু মুসলমান’ ও সাগ্নিক সাহার ‘নব আগমনী’ কবিতাগুলি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও রজনীকান্তের ঈশ্বর ভাবনা সম্পর্কে আলোচনা করেন অধ্যাপক শক্তিপদ পাত্র, ত্রিদিব সান্যাল। তাঁরা তুলে ধরেন এঁদের ঈশ্বরের মিল ও অমিলের দিকগুলি। ঋষভ রায় ও সাগ্নিক দাসের দ্বৈত আবৃত্তি ‘ক্ষমা করো হজরত’ বেশ ভাল লাগে। নজরুলেন নাটক ‘শিল্পী’ অবলম্বনে পরিবেশিত শ্রুতি নাটক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। এতে অংশ নেন রিনি মজুমদার, শম্পা সাহা,অমৃতা দত্ত ও সুশান্ত সাহা। আবহে অমিতাভ মুখোরাধ্যায়। ছিল পাঠ, আবৃত্তি ও গানের সমন্বয়ে পরিবেশিত আলেখ্য ‘সার্ধশতবর্ষে কান্তকবি রজনীকান্ত সেন’। নজরুলের ‘রক্তাম্বর ধরণী মা’ কবিতাটি দ্বৈত কণ্ঠে আবৃত্তি করে শোনান আদিত্য সাহা ও সাদমান আসিক।

Advertisement

লেখা ও ছবি: অনিতা দত্ত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জীব-বৈচিত্র দিবস ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস যৌথ ভাবে উদযাপিত হল বালুরঘাট পুরসভার সুবর্ণতট সভাগৃহে। এই উপলক্ষে বসেছিল আলোচনাসভা। জীব-বৈচিত্র ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পূর্তমন্ত্রী শংকর চক্রবর্তী। স্থানীয় জীব-বৈচিত্র ও তার সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেন জীব-বৈচিত্র পর্ষদের গবেষণা আধিকারিক ড. অনির্বাণ রায়। আলোচনা সূত্রে উঠে আসে রাইখর মাছের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে রাইখর উৎসব ও বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পরিকল্পনার কথা। টাঙ্গা ফরেস্টে দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদ হেলমিনথোস ট্যাকিস জিলেনিকাকে সংরক্ষণ করার বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়। আলোচনা হয় স্থানীয় পাখি ও বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের কথাও। অংশ নেন বালুরঘাট ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক শুভজিৎ গুপ্ত, দিশারী সংকল্পের সম্পাদক তুহিনশুভ্র মণ্ডল। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধক দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক তাপস চৌধুরী। আয়োজক বালুরঘাট ব্লক জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা সমিতি, দিশারী সংকল্প, বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতি এবং বালুরঘাট কলেজের ইকো ক্লাব। ছিল পরিবেশ বিষয়ে ক্যুইজে অংশ নেন ছাত্রছাত্রীরা। সবশেষে প্রদর্শিত হয় বিশ্ব উষ্ণায়নের ওপর তথ্যচিত্র অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ।

স্মরণে আলোচনা সভা

জলপাইগুড়ির পাঁচিরাম নাহাটা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় উদযাপন করল পঞ্চানন বর্মার সার্ধ-শতবর্ষ। স্মরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বসেছিল আলোচনাসভা। বিষয়— পঞ্চানন বর্মার কর্মসাধনা। মুখ্য বক্তা অধ্যাপক দীপককুমার রায় জানান, সাহিত্যচর্চা, সমাজসংস্কার, নারী জাগরণ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থানকে পঞ্চানন বর্মা তুলে ধরেছিলেন। নৈতিক গঠন, নীতিশিক্ষা ও ঐতিহ্য চেতনা জাগরণের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। তাঁর এই কর্মসাধনার কথা ছাত্রছাত্রীদের জানার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন দীপকবাবু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন, অধ্যাপক সত্যরঞ্জন রায়, স্কুল পরিচালন সমিতির সম্পাদক কৃষ্ণ রায়, প্রধান শিক্ষক জগদীশচন্দ্র রায়-সহ আরও অনেকে। লোকসঙ্গীতে উত্তরের মাটির সুরের সুবাস ছড়িয়ে দেন শিল্পী দুর্গা রায়।

বছরভর কুঁড়ি থেকে কুড়ি

বালুরঘাট শিল্পীমঞ্চের বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠান ‘কুঁড়ি থেকে কুড়ি’ শীর্ষক ষষ্ঠ পর্বের নিবেদনে ছিল ‘নজরুল চর্চা’ ও ‘নাটকের কলরব’। দু’দিনের এই আয়োজনে প্রথম দিন নজরুলগীতির কোলাজে ‘প্রথম প্রদীপ জ্বালো’, মনে পড়ে আজ’, পরদেশি মেঘ’, ‘সৃজন ছন্দে আনন্দে’, ‘অঞ্জলি লহ মোর’ সম্মেলক কন্ঠে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শোনালেন মধুছন্দা ভট্টাচার্য, মৌমিতা ঘোষ, প্রান্তিক রায় ও বিমান দাস। দেবারতি অধিকারী ও রঞ্জনা সরকারের আবৃত্তি উপভোগ্য। রাজর্ষি গোস্বামী গাইলেন ‘কার মঞ্জির রিমিঝিমি’ এবং ‘এলো বধূ ফিরে এসো’। শুনতে ভাল লাগে সৌম্যদীপ বাগচীর ‘জানি জানি তুমি আসিবে ফিরে ’ ও ‘এসো হে সজল ঘন দেয়া’। তবলায় যথাযথ সংগত করেন দেবাশীষ খাঁ, সুদীপ্ত রায়, তাপস দাস, টোটন সরকার ও তাপস মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দিনের নিবেদনে ছিল নাটক। বুদ্ধদেব বসুর ‘প্রথম পার্থ’। শ্রুতি নাটকে অংশ নেন কমল দাস ও স্বাতীলেখা কুণ্ডু। মঞ্চস্থ হয় সৃজন নাট্যগোষ্ঠা প্রযোজিত নাটক ‘সাবধান গৃহস্থের নাটক’। অণু নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ সাহা। বালুরঘাট নাট্যকর্মীর প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হল একাঙ্ক নাটক ‘পাওনা গণ্ডা’। সম্পর্ক মূল্যহীন, অর্থই মূল্যবান। সম্পর্কের মূল্যায়ন হয় অর্থে, টাকাপয়সার নিরিখে। এ নাটক তাই জানাল। রচনা ও নির্দেশনা মনোজ গঙ্গাপাধ্যায় ও নিরূপ মিত্র।

রাজবংশী অভিধান

‘পুণ্যভূমি খলিসামারি পঞ্চানন বর্মা মেমোরিয়াল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে মাথাভাঙা ঝংকার ক্লাব প্রেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুনঃপ্রকাশিত হল ‘রাজবংশী ভাষার অভিধান’। কলীন্দ্রনাথ বর্মনের এই অভিধানটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন দিনহাটা কলেজের অধ্যক্ষ সাধন কর। রাজবংশী ভাষার এই প্রথম অভিধানটির পুনঃমুদ্রন ঘটল আনন্দগোপাল ঘোষ, অরবিন্দ ডাকুয়া ও গিরীন্দ্রনাথ বর্মনের সম্পাদনায়। আনন্দগোপাল ঘোষ জানান, পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে স্থান পেয়েছে কোচবিহারের রাজদরবারের সাহিত্য। তাই সুধীমহল ও ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবেই অভিধানটি পুনঃপ্রকাশিত করা হল। অনুষ্ঠানে উপস্থত ছিলেন মাথাভাঙা পুরসভার পুরপতি লক্ষপতি প্রামানিক, ড. তুষারকান্তি চক্রবর্তী প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মাথাভাঙা মহকুমার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রী ও নব গঠিত পুরবোর্ডের সদস্যদের ট্রাস্টের তরফ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়।

ইতিহাসের উত্তরাধিকার

ইতিহাস লেখকের দায়বদ্ধতা হল তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সত্যের প্রতিষ্ঠা করা। ‘মনীষী পঞ্চানন বর্মা ও তাঁর আন্দোলনের উত্তরাধিকার’ গ্রন্থে সেই দায়বদ্ধতা বহন করলেন আনন্দগোপাল ঘোষ। গ্রন্থের প্রবন্ধ থেকে প্রবন্ধে তুলে আনলেন বহু আজানা তথ্য। জানালেন, রাজবংশী ক্ষত্রিয় সমিতির আন্দোলনের ফলে জলপাইগুড়ি, দিনাজপুর এবং কোচবিহারের বিরাট অংশ ধর্মীয় কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। বিবেকানন্দের বর্ণ ও জাতপাত সম্পর্কিত ভাবনায় সঙ্গে পঞ্চানন বর্মার ভাবনার যথেষ্ট মিল ছিল—এমন তথ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রের কোনও রচনাতেই যে পঞ্চানন বর্মার উল্লেখ পাওয়া যায় না, সে কথাও জানিয়েছেন লেখক। গ্রন্থের প্রত্যেক পৃষ্ঠাতেই লেখক কি এ ভাবে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে একটি মহাজীবনের প্রকৃত সত্তার সন্ধান দিলেন? নাকি ফেলে আসা অতীতকে অনায়াস দক্ষতায় তুলে আনলেন বর্তমানে?

লেখা ও ছবি: সুদীপ দত্ত

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement