সংস্কৃতি যেখানে যেমন

নাট্যসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হল মালদহের দুর্গাকিঙ্কর সদনে। আয়োজক মালদহের ড্রামাটিক ক্লাব। এক দিনের এই নাট্যসন্ধ্যায় প্রথমে মঞ্চস্থ হয় ক্লাবের নিজস্ব প্রযোজনা নাটক ‘বাদশা বেগম’। প্রফুল্ল রায়ের কাহিনি অবলম্বনে নাট্যরূপ দিয়েছেন সৌমেন্দু ঘোষ।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:১৫
Share:

বনজোছনার গল্পে ফিরল হারানো গ্রাম

Advertisement

নাট্যসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হল মালদহের দুর্গাকিঙ্কর সদনে। আয়োজক মালদহের ড্রামাটিক ক্লাব। এক দিনের এই নাট্যসন্ধ্যায় প্রথমে মঞ্চস্থ হয় ক্লাবের নিজস্ব প্রযোজনা নাটক ‘বাদশা বেগম’। প্রফুল্ল রায়ের কাহিনি অবলম্বনে নাট্যরূপ দিয়েছেন সৌমেন্দু ঘোষ। নির্দেশনা দেবাশিস সরকার। দ্বিতীয়ার্ধে মঞ্চস্থ হয় আমন্ত্রিত নাটক জলপাইগুড়ির দর্পণ নাট্যসংস্থার ‘বনজোছনা’। লেখিকা রোশনি রায় পরিচারিকা কুহুর মুখে ভূতের গল্প শোনেন। কুহু সে সব গল্প ছেলেবেলায় শুনেছেন ঠাকুমা বনজোছনার কাছ থেকে। শিশুদের শৈশব এখনও বেঁচে আছে যে গ্রামে, তার গল্প যে সব শিশুদের জন্য। যেখানে কম্পিউটার কি ইন্টারনেট নেই। বিদ্যেবুদ্ধি জ্ঞানবিজ্ঞানের রাজত্বে সত্যিকারের ভূতেরা কী আসে? রচনা— মনোজ মিত্র, নির্দেশিকা-রীনা ভারতী।

Advertisement

সোহাগত গানে উদযাপন

Advertisement

বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালন করল আদিবাসী সাদ্রী সুসার অ্যাসোসিয়েশনের উত্তরবঙ্গ শাখা। কালচিনি ব্লকের রাজাভাত চা-বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অতিথিবরণ করা হয় প্রথা মেনে সাদ্রী ভাষায় নৃত্যগীতের মধ্য দিয়ে, উত্তরীয় পরিয়ে, পা ধুইয়ে মঞ্চে নিয়ে আসা হয় অতিথিদের। আদিবাসী দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন সংস্থার সভাপতি প্রশান্ত কুমার লোহারা, ড. সুধাংশু কুমার সরকার, প্রমোদ বর্মন, অধ্যাপক সত্যরঞ্জন রায় প্রমুখ।

আলোচনায় অধ্যাপক দীপক কুমার রায় জানান, কালচিনি ব্লকে যে ভাবে সাদ্রী ভাষার চর্চা হচ্ছে, এ রাজ্যে তার দৃষ্টান্ত বিরল। বর্তমানে উত্তরবঙ্গে আদিবাসী সমাজে ভাষাগত ভাবে সাদ্রী ভাষাভাষী মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ। সে ক্ষেত্রে সাদ্রী ভাষায় পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা হলে এই আদিবাসী সমাজ মূল ধারার সঙ্গে নিজেদেরকে অতি সহজেই যুক্ত করতে পারবে। অনুষ্ঠানে মোহিতলাল লোহারা রচিত সাদ্রী ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার গ্রন্থ ‘বীরপাইক’ প্রকাশিত হয়। আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন অধ্যাপক দীপককুমার রায়। মঞ্চে সোহাগত গীত ও ডমকচ নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় আদিবাসী শিল্পীরা।

লেখা ও ছবি : অনিতা দত্ত

কবির জন্মজয়ন্তী

সম্প্রতি নেপালি কবি ভানুভক্তের ২০১তম জন্মজয়ন্তী পালন করল মালবাজার পরিমল মিত্র স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। ভানুভক্ত রচিত রামায়ণ পাঠ করল রোশনী ভুজের, মায়াদেবী শর্মা, ডোমা শেরপা, পূজা শর্মা, প্রেমিকা লামা, রবি বিশ্বকর্মা এবং অভ্যাস দর্জিরা। কবির রচিত রামায়ণে বিভিন্ন চরিত্রের বিশিষ্টতা এবং স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যক্ষা উমা মাজি। প্রকাশিত হয় অধ্যাপক আমির দর্জির ভজনের অ্যালবাম ‘অনুরাগ’। লক্ষ্মীপ্রসাদ দেওকোটার ‘যাত্রী’ কবিতাটির সুরারোপ করেছেন নারায়ণ গোপাল। গাইলেন সুরেশ ভুজলে, মায়াদেবী শর্মা, ডোমা শেরপা। নেপালী পোষাকে সজ্জিত হয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন রেশমা প্রধান, নির্মলা রাইরা। ছাত্রছাত্রীরা নেপালি, ওড়িয়া এবং বাংলা গানের সুরে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন কবিকে।

ষোলো কন্যের গপ্পো

‘‘ষোলো কন্যের গপ্পো’’ শোনালেন সুচন্দ্রা ভট্টাচার্য। তাঁর ‘‘ষোলো কন্যে’’র জীবন আবর্তিত হয় সরল বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাসে ধরা থাকে ব্রতকথা। তন্তর মন্তর। তাবিচ কবচ। কখনও বা প্রথম ভালবাসা। তাদের জীবনপথে পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপূরক। একই সঙ্গে তারা বহন করে ‘‘তিন ঝাঁক উলু, ধাপুলি পিঠে, নিকোনো গোয়াল, আচার বিচার’’ এমন সব ঝাপসা বাঙালিয়ানা। এর মধ্যেই ছায়া ফেলে সম্পর্কের জটিল টানাপোড়েনে। নিষ্পাপ সারল্য মাখা ভাষায় লেখক সেই ভাঙাগড়ারই গল্প শোনান। তাঁর গল্পে স্বেচ্ছায় ধরা দেয় প্রকৃতিও। শুধু কি বিষয়বিন্যাস এবং অলঙ্করণ? অনাবিল ভাষা আর প্রকৃতিও যে পাঠককে ছুঁয়ে যায়!

লেখা ও ছবি: সুদীপ দত্ত

কবিতা স্মরণিকা

‘‘কবিতা মানে শুধুই শব্দের সমাহার নয়’’— জানালেন অঞ্জনকুমার দাস। কবিতাকে স্বাগত জানালেন শিপ্রা চক্রবর্তী, ‘‘জ্যোৎস্না সরিয়ে নিঃশব্দে এসো’’। কবিতা বলল, ‘‘চরম ফাঁক আর ফাঁকিবাজির এক সঙ্কটময় মুহূর্তের ভেতর দিয়ে অহর্নিশ আমাদের যাপন। তবু যদি একটু আলো দিতে পারি’’। সেই আলোকশিখায় ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠল ইসলামপুর ‘‘উত্তরবঙ্গ সাহিত্য উৎসব’’ স্মরণিকার (সম্পাদনা: মনোনীতা চক্রবর্তী) এক ঝাঁক কবিতা। সেই সব কবিতা যেন গাঁথা থাকে ‘হৃদয়ের পঞ্চম প্রকোষ্ঠ’’তে।

রাখি ‘বন্ধন’

গাছে রাখি বেঁধে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিল দক্ষিণ দিনাজপুরের অযোধ্যা কেডি বিদ্যানিকেতনের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। স্কুল সংলগ্ন পাকুড় গাছে রং-বেরঙের রাখি বেঁধে তারা গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোর শপথ নেয়। শিক্ষক পলাশ মণ্ডলের লেখা নাটক ‘বন্ধন’ (নির্দেশনা- তুহিনশুভ্র মণ্ডল)-এর নির্বাচিত অংশ অভিনয় করে প্রহ্লাদ, সঞ্চিতা, তনয়, সৌরভ, পাপাই ও প্রিয়ারা। গাছের সঙ্গে মানুষের আত্মিক বন্ধনের কথাই ছিল নাটকের বিষয়।

আলোচনাচক্র

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে পঞ্চানন বর্মার সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হল এক আলোচনাচক্র। ড. আনন্দগোপাল ঘোষ বঙ্গীয় হিন্দু সমাজ রক্ষায় রাজবংশী ক্ষত্রিয় সমিতির অবদান এবং কামতা কোচ রাজ্যের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করেন। শুরুতে শিলিগুড়ি পঞ্চানন স্মারক সমিতির সম্পাদক চিত্তরঞ্জন বর্মন জানান, মনীষী পঞ্চানন বর্মা যেহেতু রংপুর সাহিত্য পরিষদের পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই তাঁর সার্ধশতবর্ষে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ এই আলোচনাসভার আয়োজন করেছে। প্রাক্তন সাংসদ প্রসেনজিৎ বর্মন পঞ্চানন বর্মার জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বর্তমান বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা বঙ্গীয় আইনসভায় পঞ্চাননের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনাচক্রটির সভাপতিত্ব করেন বারিদবরণ ঘোষ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement