শপথের রক্তকরবী
ভারতীয় গণনাট্য সংঘ ‘শপথ’ শাখার প্রযোজনায় বালুরঘাট নাট্যমন্দিরে ৫ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘রক্তকরবী’। এক ঝাঁক নতুন ছেলেমেয়ের স্বতঃস্ফূর্ত সাবলীল অভিনয়ে ক্লাসিক ‘রক্তকরবী’ প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। রক্তকরবীর এমন প্রাঞ্জল উপস্থাপনা ছুঁয়ে যায় পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহের দর্শকমনকেও। নন্দিনী—অন্তরা মুখোপাধ্যায়, চন্দ্রা সোমা মুখোপাধ্যায়, সর্দার—সন্তু রায়, অধ্যাপক—দেবাশিস চক্রবর্তী, মোড়ল—পলাশ মণ্ডল, গোসাঁই—শান্তনু মুখোপাধ্যায়, চিকিত্সক—অসীম সিংহ এবং ফাগুলালের ভূমিকায় কমলেশ দাসরা নিজেদের ছাপিয়ে গেছেন। অন্যান্য চরিত্রে যেমন, রাজা- হারান মজুমদার, মেজো সর্দার- চিন্ময় সরকার, গোকুল- শমিক দে ও কিশোরের ভূমিকায় অনুভব লাহিড়ী চরিত্রের দাবি মেটায়। বিশু পাগলের যথাযথ অভিনয় ও গান দর্শকদের অবাক করে। আবহসঙ্গীত, আলো এবং মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন যথাক্রমে শুভ্রশিখর মজুমদার, মৃদুল পাল এবং ঋতুপল দেব। শপথ-এর সম্পাদক হারান মজুমদার বলেন, “৫৬ বছর আগে বালুরঘাটে একবার রক্তকরবী হয়েছিল। তারপর উত্তরবঙ্গে আর কেউ রক্তকরবী মঞ্চস্থ করার সাহস দেখায়নি। দর্শকরা আপ্লুত হওয়ায় আমাদের সমষ্টিগত পরিশ্রম সার্থক।”
লেখা: তুহিনশুভ্র মণ্ডল
শারদ বিবৃতি
কোচবিহার-মাথাভাঙা থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘বিবৃতি’র শারদীয়া সংখ্যা। দেবাশিস দাসের সম্পাদনায় ‘বিবৃতি’র উপহারের ডালি ভরে উঠেছে সাহিত্যসম্ভারের নানা আঙ্গিকে। সেই সম্ভারে স্মৃতিকথা প্রবন্ধ ছড়া কবিতা গল্প এবং ঐতিহাসিক গল্পও আছে। গদ্য পদ্য দুই অংশেই খ্যাত-অখ্যাতের মেলবন্ধন। সংকলনের প্রবন্ধ-পর্ব তথ্যগুণে সমৃদ্ধ। গদ্য ও পদ্য তৈরি করে জলছবি রঙের অনুভূতি। অনুভূতিতে কখনও মন খারাপ, কখনও নস্টালজিয়া। অনাবিল শব্দধারা বুকের মধ্যে ঢেউ তোলে। তৈরি করে ভাললাগার অজস্র মুহূর্ত। গদ্য পদ্যের সীমারেখা মুছে বিবৃতির ক্যানভাসে ধরা থাকে সাহিত্যের সপ্তবর্ণ। ধরা থাকে এক জীবনের কত স্মৃতি।
লেখা: সুদীপ দত্ত।
নীল ছায়ানট
চেতনায় “গ্রামের স্কুল কাঁচা রাস্তা/আমি তখন বালিকা”। ক্রমে “মেয়ে বসন্ত হয়ে চৈত্রের দরবারে/ চোখের পাতায় বৃষ্টি” মাখা। “জানালায় অষ্টমীর কড়া-নাড়া সুর/ উনিশের মাটিতে শব্দ/সবুজ ঘাসে, ঝাপসা চোখের প্রশ্ন, শোননি বৃষ্টির কান্না?” প্রকৃতির “সাদা ক্যানভাস নীল রং/তুলিতে/আধো ঘুম/মৃদু কাঞ্চনজঙ্ঘা।” অথবা “বক্সার শাল সেগুনের সন্ধে”। প্রকৃতি এবং চেতনা গন্তব্য শেষ করে কবিতায়“—শুধু কবিতায় ঝড়ের নিঃশ্বাস/শুধু কবিতায় শরতের আশ্বাস”। অক্ষর-অক্ষর শব্দ কোলাজের এমন সুরে আন্দোলিত হয় নদী পাহাড় অরণ্য,এমনকী চরাচরও। কান পেতে শোনা যায় এক জীবনের নিজস্বতা।
রেবা সরকার তাঁর নিজস্বতাই আগাগোড়া ধরে রাখেন তাঁর কাব্যগ্রন্থ “নীল ছায়ানট”এ।
আশুতোষ স্মরণে সভা
আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম-সার্ধশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ‘স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষাভাবনা ও তার প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হল সম্প্রতি। আয়োজক মনীষী পঞ্চানন বর্মা জন্ম-সার্ধশতবর্ষ উদযাপন কমিটি, মাথাভাঙা। সভাপতি ডঃ আনন্দগোপাল ঘোষ আধুনিক ভারতীয় ভাষার উন্নতি ও স্বীকৃতি সাধনে, পাঠক্রম সংযুক্তিকরণে তাঁর অনবদ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, পঞ্চানন বর্মা এই অঞ্চলের শিক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগী ছিলেন।
শিক্ষার সর্বস্তরের কাঠামোতে উন্নতির জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। আলোচনায় ছিলেন অধ্যাপক জ্যোত্স্না পাল, দিনহাটা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাধন চন্দ্র কর, ডঃ অসীম রায় (অধ্যক্ষ গীতাঞ্জলি শিক্ষক শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়), ডঃ দিলীপ কুমার দে প্রমুখ।
লেখা: অনিতা দত্ত
রাজার শতবর্ষ
রাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনে বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে কোচবিহারে। তার মধ্যে অন্যতম রাজার ব্যবহৃত নানা স্মারক এবং তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে প্রদর্শনী। আগামী ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর এই প্রদর্শনী চলবে। নাম রাখা হয়েছে ‘জীবন ও কীর্তি’। প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা কোচবিহার আর্কাইভ ও দি ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি। আয়োজকরা জানাচ্ছেন, মহারাজার ব্যবহৃত মেডেল, মুদ্রা-সহ নানা নথিপত্র সেই প্রদর্শনীতে রাখা হবে। উদ্বোধন করার কথা জগদ্দীপেন্দ্রের ছোট ভাই ইন্দ্রজিত্ নারায়ণের মেয়ে রাজস্থানের কোটার মহারানি উত্তরা দেবীর। কোচবিহারের জেনকিন্স স্কুলে এই প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকবেন।
লেখা: নির্মলেন্দু চক্রবর্তী।
ছবির কার্ড
ইংরেজি নববর্ষকে সামনে রেখে গ্রিটিংস কার্ড আঁকো প্রতিযোগিতা হল ইসলামপুরে। রামকৃষ্ণপল্লি প্রাথমিক স্কুলে শান্তিরঞ্জন স্মৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৫০ জনেরও বেশি প্রতিযোগী যোগ দেন। সংস্থার অন্যতম সদস্য সুশান্ত নন্দী জানিয়েছেন, ১৩ ডিসেম্বর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার দেওয়া হবে।