হবে জয়
Coronavirus

আতঙ্ক নয়, গ্রামবাসীদের বোঝাচ্ছেন করোনা-জয়ী রফিক

রোগ নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। কিন্তু রোগী কেন একঘরে হবেন? এ লড়াই করোনা-ভ্রান্তি দূর করারওভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক রফিকের লালারসের নমুনার প্রাথমিক রিপোর্ট ‘পজ়েটিভ’ আসে।

Advertisement

তারাশঙ্কর গুপ্ত 

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২০ ০৪:২৬
Share:

গ্রামবাসীদের মুখোমুখি রফিক। নিজস্ব চিত্র

ভয়ে সিঁটিয়ে থাকার কিছু নেই। সতর্কতা আর স্বাস্থ্য-বিধি মেনে চললে করোনা কাছে ঘেঁষতে পারবে না। বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের শেওড়াবনি গ্রামের মানুষজনকে এ কথাই বোঝাচ্ছেন রোগকে হারিয়ে ফিরে আসা বছর বাইশের রফিক শেখ।

Advertisement

ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক রফিকের লালারসের নমুনার প্রাথমিক রিপোর্ট ‘পজ়েটিভ’ আসে। যে দিন গ্রামের ‘কোয়রান্টিন’ কেন্দ্র থেকে রফিককে ওন্দার কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন পরিস্থিতি অন্য রকম ছিল। তাঁর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দূর থেকেও কথা বলার সাহস পাচ্ছিলেন না গ্রামের অনেকে। দিন সাতেকেই ‘নেগেটিভ রিপোর্ট’ নিয়ে সুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে আসেন রফিক। আর তার পরে শুরু হয়েছে আতঙ্কের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই। এলাকায় সচেতনতা গড়ে তোলার কাজে ওই যুবককে পাশে পাচ্ছে পঞ্চায়েত সমিতিও।

বাবা বাবুলাল শেখ জানান, মুম্বইয়ের একটি গয়নার দোকানে বছর সাতেক কাজ করছেন রফিক। গত ২৭ মে ফিরে এসে গ্রামের একটি ‘কোয়রান্টিন’ কেন্দ্রে ওঠেন। প্রাথমিক নমুনা ‘পজ়েটিভ’ আসায় তার কয়েকদিন পরেই এক রাতে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে সেখান থেকে ওন্দার কোভিড-হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন থেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। বাবুলাল বলেন, ‘‘গ্রামের অনেকে আমাদের দোকান-বাজারে যেতে মানা করে দেন। দূর থেকেও কথা বলতে তাঁরা ভয় পাচ্ছিলেন।’’ পাত্রসায়র ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রিয়দর্শী যশ জানান, এখন রফিক সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে রয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন: এক দিনে পাঁচ অপমৃত্যু

রফিক বলেন, ‘‘আমার কোনও উপসর্গ ছিল না। ডাক্তারবাবুরা সাহস দিতেন। তাঁদের থেকে অনেক কিছু জেনেছি। সে সব গ্রামের সবাইকে শেখাচ্ছি।’’ যে বন্ধুরা সে দিন দূর থেকে দেখতেও ভয় পেয়েছিলেন, তাঁরা এখন রফিকের অভিজ্ঞতা শুনছেন। পরামর্শ নিচ্ছেন। রফিক তাঁদের বোঝাচ্ছেন, ‘মাস্ক’ পরা, সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া আর পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা—মানলেই করোনার সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটা কমে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোবর্ধন শেখ বলেন, ‘‘আগে সব জানতাম না, তাই ওদের এড়িয়ে গেছি। এখন খারাপ লাগে। তবে রফিককে দেখে বুকে বল পেয়েছি। একটা রোগকে এত ভয় পেলে চলবে না।’’ রফিকের বন্ধু সুলেমান শেখ বলেন, ‘‘সে দিনের ব্যবহারের জন্য লজ্জিত। আসলে মোবাইলে নানা কথা দেখে-শুনে ভুল বুঝেছিলাম। এখন রফিকের সঙ্গে আমরাও সবাইকে বলছি, শোনা কথায় কান না দিতে।’’ রফিকের আর এক বন্ধু রফিক মীর বলেন, ‘‘এ রোগ যে কারও হতে পারে। মানুষের মনে ভয় জাঁকিয়ে বসলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেটাই এখন বুঝেছি।’’

পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সাজাহান মিদ্যা ওই এলাকারই বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘‘প্রথম কিছু দিন আতঙ্ক ছিল এলাকায়। এখন রফিককে নিয়েই অন্যদের বোঝাই, রোগের সঙ্গে লড়তে হবে, রোগীর সঙ্গে নয়।’’ বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য-জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‘নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, ‘মাস্ক’ পরে, দূরত্ববিধি বজায় রেখে চললে করোনাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement