মাইক নিয়ে প্রতিবাদে বৃদ্ধ খুন, গ্রেফতার চার 

মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের ওই ঘটনার পরে হারাধনের ছেলে বিকাশ মাল পুলিশের কাছে আদিত্য-সহ দশ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার পুলিশ ওই প্রাক্তন সেনাকর্মীর স্ত্রী রুনা মৌলিক, বাবা অজিত মৌলিক, বন্ধু সন্তু মণ্ডল ও রাজীব চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে।

Advertisement

কৌশিক সাহা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৪:০৯
Share:

বিদ্যাদেবীর আরাধনায় তারস্বরে বাজানো হচ্ছিল মাইক। সোমবার সকালে স্থানীয় এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মা পুজো উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করেন, ‘‘কাল থেকে ছেলেটার পরীক্ষা। মাইকটা বন্ধ রাখলে খুব ভাল হয়।’’ দুপুর পর্যন্ত সেই অনুরোধ রেখেছিলেন পুজো উদ্যোক্তারা। কিন্তু বিকেলের পর থেকেই ফের গর্জে ওঠে মাইক।

Advertisement

এ বার কিঞ্চিৎ রুষ্ট হয়েই মাইক বন্ধ করতে বলেন ওই পরীক্ষার্থীর পড়শি হারাধন মাল (৬৬)। তাঁকে সমর্থন করেন আরও কয়েক জন। অভিযোগ, পুজোর উদ্যোক্তা তথা প্রাক্তন সেনাকর্মী আদিত্য মৌলিক ও তাঁর সঙ্গীরা লাঠি ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন তাঁদের। কান্দি হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মারা যান হারাধন। গুরুতর জখম তরুণ মাল ও রাজকুমার মাল ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের ওই ঘটনার পরে হারাধনের ছেলে বিকাশ মাল পুলিশের কাছে আদিত্য-সহ দশ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার পুলিশ ওই প্রাক্তন সেনাকর্মীর স্ত্রী রুনা মৌলিক, বাবা অজিত মৌলিক, বন্ধু সন্তু মণ্ডল ও রাজীব চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত অজিত মৌলিক, রুনা মৌলিকদের দাবি, ‘‘আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। ওই ঘটনার সঙ্গে আমরা কেউ জড়িত নই। আমাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।’’ মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।’’ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতী পুজো উপলক্ষে রবিবার থেকে তারস্বরে মাইক বাজিয়ে মত্ত অবস্থায় নাচানাচি করছিলেন আদিত্য ও তাঁর সঙ্গীরা। মণ্ডপের পাশেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রঞ্জিত মালের বাড়ি। তাঁর মা অনিতাদেবী সোমবার সকালে মাইক বন্ধের অনুরোধ করেন। কিন্তু বিকেলের পরে ফের তারস্বরে মাইক বাজানো শুরু হলে প্রতিবাদ করেন হারাধন মাল ও অনিতাদেবীরা। অভিযোগ, অনিতাদেবীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। হারাধন মাল ও অন্যদের বেধড়ক মারধর করেন আদিত্যরা।

Advertisement

কান্দি হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে রাজকুমার মাল বলেন, “অনিতা আমার আত্মীয়। মারধর করতে দেখে আমি তাঁকে বাঁচাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আচমকা ওরা লাঠি, অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়। গ্রামে বহু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আছে। সকলেরই অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু হাজার অনুরোধেও ওরা কান দেয়নি।”

জখম তরুণ মালের অভিযোগ, ‘‘প্রাক্তন ওই সেনাকর্মী গ্রামের কয়েক জনকে নিয়ে একটি বাহিনী তৈরি করেছে। তাদের নিয়েই ও দৌরাত্ম্য করে বেড়ায়। ওর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’’ হারাধনের ছেলে বিকাশ বলছেন, ‘‘মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবেই বাবা শুধু ওদের মাইকটা বন্ধ করতে বলেছিল। তার জন্য যে ওরা বাবাকে খুন করে ফেলবে তা ভাবতেই পারছি না!’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement