গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে ২ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।’’
পূর্ব কলকাতার শহরতলি অঞ্চল আনন্দপুরের নাজিরাবাদে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। গত মঙ্গলবার এ কথা জানান রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার পর্যন্ত আনন্দপুরকাণ্ডে ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মোট ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কত, তা বলা যাচ্ছে না।
নিহতদের শনাক্ত করতে দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-তে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পরে নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করা যাবে। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার নিজেও সিএফএসএল-এ গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কোনও দেহাংশ পাওয়া যায় কি না। আনন্দপুরে গুদামের টিনের শেড উপড়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে এখনও। শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
অগ্নিকাণ্ডে গ্রেফতারির সংখ্যা এ পর্যন্ত তিন। শুক্রবার গ্রেফতার হয়েছেন মোমো সংস্থার দুই আধিকারিক। তার আগে গ্রেফতার হয়েছেন গুদামের মালিক তথা ডেকরেটরের ব্যবসায়ী গঙ্গারাম দাস। শুক্রবার ধৃত দু’জনকে আদালতে হাজির করানো হলে তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।