Prevent Cow Smuggling

গরু পাচার রুখতে নির্দেশ পুলিশের

রাজ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভবানী ভবনের এই নির্দেশ বিশেষ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৭:৩২
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিরোধী দলে থাকার সময় বারবার রাজ্যের বেআইনি গরু পাচার নিয়ে সরব ছিল বিজেপি। গরু পাচারের তদন্তে নেমে সিবিআই-ইডি একাধিক তৃণমূল নেতাকে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে। পালাবদলের পরে এ বার গরু পাচার রুখতে পদক্ষেপ করল প্রশাসন। সূত্রের খবর, গরু পাচার রুখতে পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবন। রবিবার নির্দেশ পাঠিয়ে বলা হয়েছে, গরু পাচার যাতে না-হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। গরু কেনাবেচার বেআইনি হাটও বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

পুলিশের একাংশ বলছে, পাচার বা বেআইনি হাট যে নিষিদ্ধ, তা পুলিশের পদস্থ কর্তারা ভাল ভাবেই জানেন। কিন্তু রাজ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভবানী ভবনের এই নির্দেশ বিশেষ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’।

পুলিশের খবর, গরু পাচারে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত গবাদি পশুর হাট যাতে খোলা থাকে, তা-ও নিশ্চিত করতে বলেছে ভবানী ভবন। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে গরু পাচারের অভিযোগ বেশি। ওই জেলাগুলির পাশাপাশি বীরভূম-সহ কিছু জেলায় গরু কেনাবেচার বেআইনি হাট চলে বলেও অভিযোগ। অতীতে বিরোধীরা বারবারই অভিযোগ করেছেন যে পুলিশের একাংশ এই গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। ওই পুলিশকর্মীদের পূর্বতন শাসক দলের সঙ্গে সংস্রবের অভিযোগও উঠেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওই পুলিশ অফিসারদের একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। পুলিশের একাংশ বলছে, ওই ‘অভিযুক্ত’ পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে এ বার প্রশাসন পদক্ষেপ করে কি না, তা নিয়েও বাহিনীর অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে।

পুলিশের খবর, রবিবার ওই নির্দেশের পরেই এসপি এবং কমিশনারদের অফিস থেকে থানাগুলিকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে রাতে রাজ্য এবং জাতীয় সড়কে নজরদারি বাড়াতে হবে। মূলত রাতেই গরু বোঝাই ট্রাক যাতায়াত করে। তাই এ ব্যাপারে কড়াকড়ি করতে হবে। গবাদি পশু নিয়ে যাওয়া গাড়িকে নিয়মমাফিক তল্লাশি এবং নথি পরীক্ষা করতেও বলা হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনে রবিবার রাত থেকেই তল্লাশি শুরু হয়েছে। কোনও ভাবে যাতে পাচারকারীরা ছাড় না-পায়, সে ব্যাপারেও নজরদারি শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছে, অতীতেও কোনও নির্দেশ এলে গোড়ার দিকে কড়াকড়ি থাকত। পরে সে সব শিথিল হয়ে বিভিন্ন অবৈধ কাজ ছাড় পেয়ে যেত। এ বারেও তারই পুনরাবৃত্তি হয় কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন