প্রতীকী ছবি।
সরকারি নিয়ম বলে, হাসপাতালে আনার পথে কারও মৃত্যু হলে দেহ ময়না-তদন্তে পাঠাতে হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, মৃত যদি করোনা রোগী হয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু মঙ্গলবার গভীর রাতে হাওড়ার ফুলেশ্বরের কোভিড হাসপাতালে আনার পথে মৃত করোনা সংক্রমিত কলকাতার দুই মহিলার পরিবারের লোকজন আগেই ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ দাবি করে বসলেন। এর জেরে বিস্তর টানাপড়েনের পর অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা এক জনের দেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হল প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে। অন্য মৃতদেহটিও অ্যাম্বুল্যান্সেই প্রায় ১৫ ঘণ্টা পড়ে রইল ওই হাসপাতালের সামনে।
জেলার এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘‘এ ভাবে দীর্ঘক্ষণ করোনা সংক্রমিতের মৃতদেহ ফেলে রাখা বা তা নিয়ে ঘোরাঘুরি খুবই বিপজ্জনক। সংক্রমণের আশঙ্কা বহু গুণ বেড়ে যায়। অ্যাম্বুল্যান্সের দরজা খোলা থাকলে বা কেউ উঁকিঝুঁকি মারলেও সংক্রমিত হতে পারেন।’’
হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস বলেন, ‘‘দুই পরিবারকেই মৃতদেহ ময়না-তদন্তের জন্য দিতে বলা হয়েছিল। একটি পরিবার রাজি না হয়ে দেহ নিয়ে চলে যায়। অন্য পরিবার রাজি হতে অনেক দেরি করে। পুলিশ সেই দেহটি ময়না-তদন্তে পাঠায়।’’
ফুলেশ্বরের ওই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের তরফে চিকিৎসক শুভাশিস মিত্র বলেন, ‘‘আমরা ওই রোগিণীদের চিকিৎসা করিনি। ওঁরা পথেই মারা যান। তাই বলা হয়, আমাদের পক্ষে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য স্বাস্থ্য দফতরে যোগাযোগও করিয়ে দিই।’’
আরও পড়ুন: ডিসান বন্ধই থাকা উচিত, বলল কমিশন
দুই মহিলার মধ্যে এক জনের বাড়ি উত্তর কলকাতার বেথুন কলেজের কাছে। অন্য জনের তারাতলায়। দু’জনেই প্রথমে অন্য জায়গায় ভর্তি ছিলেন। করোনা রিপোর্ট
পজ়িটিভ আসায় স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশমতো দু’জনকেই মঙ্গলবার গভীর রাতে আধ ঘণ্টার ব্যবধানে ফুলেশ্বরের কোভিড হাসপাতালে আনা হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে পরীক্ষা করে দু’জনকেই মৃত বলে জানান চিকিৎসকেরা। এর পরে দু’জনের পরিবারের লোকই ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ চেয়ে বসেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজি হননি।
এক মহিলার স্বামীর দাবি, তাঁকে মানিকতলার হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে স্ত্রীকে প্রথমে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে গিয়েও ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ মেলেনি। তাঁরা আবার ফুলেশ্বরে আসেন। ফের একই দাবি করেও না-মেলায় বেলা ২টো নাগাদ তাঁরা দেহ নিয়ে ফিরে যান। সেখান থেকে কলকাতা পুরসভার লোকজন দেহ নিয়ে যান। মহিলার স্বামী বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য দফতরের কথামতোই ফুলেশ্বরে স্ত্রীকে এনেছিলাম। কেন ময়নাতদন্ত করাতে যাব? মৃতদেহ নিয়ে ১২ ঘণ্টা রাস্তায় ঘুরলাম। ২৪ হাজার টাকা অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া দিলাম। প্রশাসন সাহায্য করল না।’’
অন্য মহিলার পরিজনরা অবশ্য অন্য কোথাও যাননি। বিকেল ৫টা নাগাদ দেহটি ময়না-তদন্তে পাঠায় পুলিশ।
(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।
• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)