বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।— নিজস্ব চিত্র
কেউ শ্রমিক, কেউ চাষি বা কেউ মজুরের ছেলে। কারও মা ক্যান্সারে আক্রান্ত, চিকিৎসার টাকা নেই। তাঁদের কাছে হঠাৎই এক সুবর্ণ সুযোগ। দৌড় প্রতিযোগিতায় জিতে পুরস্কার পেলে তা দিয়েই কেনা যাবে ওষুধ, মিটবে দেনা কিম্বা উঠে যাবে পড়াশোনার খরচটুকু।
এমনই পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি পুরসভা আয়োজিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় প্রথম যিনি সেই রাজেশ শায়ের বাবা শ্রমিকের কাজ করেন। দ্বিতীয় দুলু সরকার এবং তৃতীয় হাসিবুল হকের অবস্থাও একই রকম। চতুর্থ সুবোধ মহন্তের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। পুরস্কারের ২০ হাজার এখন মায়ের ওষুধ ও পথ্য কেনার সম্বল।
চেক হাতে সুব্রত মহান্ত । — নিজস্ব চিত্র
সুবোধের বাড়ি বোলবাড়ি এলাকায়। বাবা নগেনবাবু দিন মজুর। মা আরতিদেবী ক্যান্সার রোগাক্রান্ত। দাদা বিয়ে করে আলাদা থাকে। দিদি ছিল বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এক ছোট বোন রয়েছে। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়।
বোলবাড়ি স্কুল থেকে গতবার উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ময়নাগুড়ি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তবে মায়ের অসুস্থতার পর সমস্যা আরও বেড়েছে। পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। তিনি বলেন, ‘‘এখন একটাই চিন্তা মাকে কি করে ভাল করব।’’ স্কুলে থাকতে দূরপাল্লার দৌড় প্রতিযোগিতায় যোগ দিতেন। এখন সেই দৌড়কে মূলধন করেই আর্থিক এগোতে চাইছেন। অসহায় গলায় সুবোধ বলেন, ‘‘যেখানেই পুরস্কার মূল্য দেওয়া হচ্ছে বলে খবর পাই, সেখানেই যোগ দিই।’’ এ বছর সে জলপাইগুড়িতেই আরএসএর ম্যারাথনে দ্বিতীয় হয়ে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। আলিপুরদুয়ারে ৩ হাজার এবং দিনহাটায় প্রথম হয়ে ২ হাজার। সুবোধের কোচ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, “দূরপাল্লার দৌড়ে ও বরাবরই ভাল। এখন মায়ের চিকিৎসার জন্য যেভাবে ও দৌড়ে বেড়াচ্ছে তা ওর দৌড়ের পক্ষে ক্ষতিকর। তবু পরিবারের স্বার্থই আগে।”