বেড়ানোটা বাঙালির মজ্জায় তাই পেশা হোক ঘুরে-বেড়িয়ে

গোড়ার কথা হল ঘুরে-বেড়াতে ভালবাসেন কিনা। বেড়ানো বাঙালির রক্তে থাকলেও এমন অনেকে আছেন, যাঁরা ঘরের কোণে লেপ-কাঁথা টেনে ঘুমোতে পছন্দ করেন বেশি। সেই দলে পড়লে ‘ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম’ নিয়ে পড়ার কথা গোড়াতেই মাথা থেকে বের করে দিন।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৩:১৫
Share:

গোড়ার কথা হল ঘুরে-বেড়াতে ভালবাসেন কিনা। বেড়ানো বাঙালির রক্তে থাকলেও এমন অনেকে আছেন, যাঁরা ঘরের কোণে লেপ-কাঁথা টেনে ঘুমোতে পছন্দ করেন বেশি। সেই দলে পড়লে ‘ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম’ নিয়ে পড়ার কথা গোড়াতেই মাথা থেকে বের করে দিন। কারণ, অজানাকে জানা, অদেখাকে দেখা আর অচেনাকে চেনার আগ্রহ না থাকলে ট্যুরিজম সেক্টরে টিকে থাকা কঠিন। পাশাপাশি একটু চটপটে, ইংরেজি-সহ একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারার দক্ষতা থাকলে বৈচিত্র্যময় এই দেশে ভ্রমণের পেশায় কাজের সুযোগ প্রচুর। শুধু ট্র্যাভেল এজেন্ট বা ট্যুর অপারেটর হিসাবে নয়, এয়ারলাইনস, ট্রান্সপোর্ট, হোটেল —নানা ক্ষেত্রে চাকরি রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে এই মুহূর্তে এক কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ট্যুরিজম সেক্টরে কাজ করছেন এবং আগামী কয়েক বছরে আরও তিন কোটি ৭০ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

Advertisement

সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট—বিভিন্ন ধরনের কোর্স রয়েছে। আন্ডার গ্র্যাজুয়েটে ‘ব্যাচেলর ইন ট্যুরিজম স্টাডিজ’, পোস্ট গ্র্যাজুয়েটে ‘মাস্টার অফ ট্যুরিজম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’, ‘মাস্টার ইন ট্র্যাভেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’, ‘ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে’ এমএ করা যায়। ডিপ্লোমা কোর্সে ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট, এয়ারলাইন ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের মতো কিছু অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত কোর্স রয়েছে। তবে, যে কোনও বিষয়ে স্নাতক হওয়ার পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েটে ‘ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম’ নিয়ে পড়তে পারলে কাজের ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি।

এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রমণ মন্ত্রকের অধীনে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্র্যাভেল ম্যানেজমেন্ট’ (আইআইটিটিএম) একেবার উপরের দিকে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট (পিজিডিএম) কোর্স করায় এরা। এআইসিটিই অনুমোদিত এই কোর্স এমবিএ-র সমতুল্য। ইনদওর ও গ্বালিয়র শাখায় পড়ানো হয় ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্র্যাভেল’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস উইথ ফোকাস অন ট্যুরিজম অ্যান্ড লজিস্টিক্স’। ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড লেজার’ নামে আর একটি পিজিডিএম কোর্স রয়েছে গ্বালিয়রে। নয়া দিল্লির শাখা প্রতিষ্ঠানেও ওই কোর্সটি আছে। নেলোরে পিজিডিএম হয় ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড কার্গো’-তে। ভর্তির জন্য ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্নাতক পাশ করা ন্যূনতম যোগ্যতা। এছাড়াও একটা লিখিত পরীক্ষা হয়। তারপর গ্রুপ ডিসকাশন ও ইন্টারভিউ। আইআইএম-ক্যাট, এক্সএটি, ম্যাট বা এটিএমএ পাশ করা প্রার্থীদের অবশ্য লিখিত পরীক্ষাটা দিতে হয় না। দু’বছরের এই কোর্স করার পর মোটামুটি একশো শতাংশ প্লেসমেন্ট। আরও জানতে www.iittm.org।

Advertisement

পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’বছরে ট্যুরিজমে এমবিএ করা যায়। এমনি ম্যানেজমেন্টের পড়াশোনার পাশাপাশি এই কোর্সে ট্যুরিজম মার্কেটিং, ট্র্যাভেল অপারেশন, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, রিসর্ট অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি পড়ানো হয়। ভর্তি পরীক্ষার নোটিস বেরোয় মার্চ-এপ্রিলে। www.pondiuni.org দেখুন।

এমবিএ করা যায় হায়দরাবাদের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’, কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ’, কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট’-এ। কেরালা রাজ্য সরকারের ট্যুরিজম দফতরের অধীনে ‘কেরালা ইনস্টিটিউট অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্র্যাভেল স্টাডিজ’-এও দু’বছরের এমবিএ কোর্স হয়।

ট্যুরিজম নিয়ে পড়ানো হয় সিমলার হিমাচল প্রদেশ ইউনিভার্সিটি, বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি, আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, পঞ্জাব ইউনিভার্সিটি, অসমের ডিব্রুগড় ইউনিভার্সিটি-র সেন্টার অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ভূবনেশ্বরের রিজিওনাল কলেজ অফ ম্যানেজমেন্ট-এ। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ট্যুরিজম স্টাডিজ বিবিএ কোর্স করায়। ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস টিকেটিং অ্যান্ড সিআরএস-এর উপরে একটা ডিপ্লোমা কোর্সও করায় ওরা।

ডিপ্লোমা কোর্স করা যায় মুম্বইয়ের স্যার ভিটলদাস থ্যাকারসে কলেজ অফ হোম সায়েন্স থেকে। নিউ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি’-র উপরে যেমন বিএ অনার্স করা যায়, তেমনই ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সও হয়।

আমাদের রাজ্যে সরকারি-বেসরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়। কলকাতার জর্জ কলেজ, গার্ডেন সিটি, হেরিটেজ, পৈলান, দুর্গাপুরে অ্যাডভান্সড ইনফরমেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, শিলিগুড়ির অ্যাভালন অ্যাকাডেমি আছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ অনার্স করা যায় ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি’-র উপর। তিন বছরের এই কোর্সের জন্য দ্বাদশ স্তরে ৪৫ শতাংশের বেশি নম্বর পেতে হবে।

পড়াশোনার পর সবচেয়ে বেশি যে কাজ পাওয়া যায়, সেটা হল ট্র্যাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটরের। পর্যটক ছাড়াও ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি অফিসের অাধিকারিকদের বাইরে যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করাটা মূল কাজ। এছাড়াও ইভেন্ট ম্যানেজার, টিকেটিং অফিসার, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এক্সপার্ট, ট্রান্সপোর্ট অফিসার, হলিডে কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ফিল্ড অফিসার-সহ হাজারো একটা পদ আছে। কাজ পাওয়া যায় থমাস কুক, কক্স অ্যান্ড কিংস, ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ ক্যাটারিং অ্যান্ড টিকেটিং কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি), মেক মাই ট্রিপ, স্নো লিওপার্ড অ্যাডভেঞ্চার, পার্লস ট্যুরিজম, সাউদার্ন ট্র্যাভেলস ইত্যাদি সংস্থায়। কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রমণমন্ত্রকে ট্যুর প্ল্যানার বা গাইড-সহ নানা ধরনের পদ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পদের জন্য স্টাফ সিলেকশনের পরীক্ষা হয়। এয়ারলাইনস-এ কাজ পাওয়া যায় ট্র্যাফিক অ্যাসিস্ট্যান্স, রিজার্ভেশন অ্যান্ড কাউন্টার স্টাফ ইত্যাদি পদে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ), ইউনিভার্সাল ফেডারেশন অফ ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ইউএফটিএএ), ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশনস ট্রান্সিসটরাইজেস অ্যাসিমিলিস (এফআইএটিএ) এয়ারলাইন ম্যানেজমেন্ট, এয়ার কার্গো-সহ বেশ কিছু ভ্রমণ সংক্রান্ত ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট কোর্স করায় তাদের অনুমোদিত কিছু প্রতিষ্ঠানে। এয়ারলাইনস-এ চাকরি পেতে স্নাতক পাশ করার পর এই রকম একটা কোর্স করে রাখতে পারেন।

এছাড়াও কার্গো সার্ভিস, লজিস্টিক, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, হোটেল —অনেক জায়গায় কাজের সুযোগ। নিজেরটা বুঝে নিতে হবে নিজেকেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement