‘দলবদল’। নিজস্ব চিত্র।
বিজেপি ছেড়ে তাদের দলে পাত্রসায়রের কয়েক হাজার মানুষ যোগ দিয়েছেন বলে সোমবার দাবি করল তৃণমূল। এ দিন বাঁকুড়ার পাত্রসায়র ব্লক কার্যালয়ে ওই যোগদান হয়। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিজেপির বুথ ও মণ্ডল স্তরের নেতা রয়েছেন বলে দাবি করেছেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি শ্যামল সাঁতরা। যদিও বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত অগস্তির পাল্টা দাবি, তাঁদের দলের কোনও বুথ সভাপতি তৃণমূলে যাননি।
জেলা তৃণমূল সভাপতি দাবি করেন, ‘‘বিজেপির নেতারা বহু মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট মিটতেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিজেপি নেতারা যোগাযোগ রাখেননি। তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার খবর রাখেননি। তাই তাঁরা তৃণমূলে এসেছেন।’’ তাঁর দাবি, প্রায় এগারোশো পরিবার থেকে সাড়ে চার হাজার মানুষ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সিংহ, ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি জিয়ারুল ইসলাম।
তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিউর গ্রামের বিশ্বনাথ রুইদাসের দাবি, ‘‘আমি বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলাম। ভোটে বুথে বিজেপিকে জিতিয়েছি। কিন্তু ভোট মিটতেই দলের নেতারা খবর নেন না। কোনও সমস্যা হলে বিধায়কও পাশে থাকেননি। এলাকার মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবেই ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন।’’ পাত্রসায়র ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপবাবু বলেন, ‘‘বিজেপির অনেকেই লিখিত আবেদন করেছিলেন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য। দলের উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেই তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছে।’’
ইন্দাস কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া অবশ্য দাবি করেন, ‘‘তৃণমূল সরকারি সুযোগ সুবিধা না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ ভোটারদের যোগদান করাচ্ছে। বিজেপির কেউ তৃণমূলে যাননি। অনেকেই খাতায়-কলমে দলের বুথ স্তরের পদে থাকলেও কাজ করতেন না। আমরা দলের কর্মীদের পাশে রয়েছি।’’
তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিজেএমটিইউ-এর দু’টি মণ্ডলের সভাপতি মিলন কর্মকার দাবি করেন, ‘‘দলের উচ্চ নেতৃত্ব খবর রাখেন না। এলাকার মানুষের উন্নয়ন করতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকতে হবে।’’
যদিও ওই শ্রমিক সংগঠনের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গোবিন্দ ঘোষের দাবি, ‘‘অনেকেই স্বার্থসিদ্ধির জন্যে দলে এসেছিলেন। স্বার্থসিদ্ধি না হওয়ায় তৃণমূলে যাচ্ছেন।’’ আর বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিতবাবুর দাবি, ‘‘যাঁরা নিজেদের আমাদের দলের বুথ সভাপতি বলে দাবি করছেন, তাঁরা কেউ ওই পদে ছিলেন না। পাত্রসায়রের সাধারণ মানুষ বিজেপির সঙ্গেই আছেন। তৃণমূল নাটক করছে।’’