নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। — ফাইল চিত্র।
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে দেশছাড়া করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পরেই ফের আলোচনা শুরু হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটির বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়ে। ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ‘ট্রাম্প-পন্থী’ এই নেত্রী। ঘটনাচক্রে, অতীতে ভেনেজ়ুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের সমস্ত পদক্ষেপকেই সমর্থন করে এসেছেন তিনি। ভেনেজ়ুয়েলায় কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটাতে সামরিক হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন মাচাদো। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, মাদুরো দেশছাড়া হওয়ার পর কী বলছেন নোবেলজয়ী?
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্তও মাচাদোর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে একাধিক বার ট্রাম্পের সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন মাচাদো। গত ডিসেম্বরে সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী বলেছিলেন, তিনি মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কৌশলকে ‘সম্পূর্ণ ভাবে সমর্থন’ করেন। মাচাদো বলেছিলেন, ‘‘আমরা তথা ভেনেজ়ুয়েলার জনগণ ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ, আমি বিশ্বাস করি তিনি এই গোলার্ধে স্বাধীনতার একজন রক্ষক।’’ ট্রাম্পকে ভেনেজ়ুয়েলায় হস্তক্ষেপ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই মুহূর্তে মাচাদো সম্ভবত রয়েছেন নরওয়ের অসলোতে। গত মাসে সেখানেই তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তিনি। ভেনেজ়ুয়েলায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপন করে থাকার পর সেটি ছিল তাঁর প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিতি।
অনেকে বলছেন, মাদুরোর পর ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মাচাদোই। তা ছাড়া, ২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলায় ভোটের সময় মাদুরোর দলের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ যাঁরা তুলেছিলেন, তাঁদের একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন মাচাদো। সে জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ভোটে মারিয়াকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে শামিল হতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে ভেনেজ়ুয়েলার অনেকের মতে, আসল বিজয়ী ছিলেন মাচাদো। তেমনটাই মনে করেন মাচাদো নিজেও। কিন্তু মাদুরোর গ্রেফতারিই মাচাদোর ক্ষমতায় আসার জন্য যথেষ্ট নয়। ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ভেনেজ়ুয়েলায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক আর বিশ্বনাথন ‘দ্য উইক’-কে বলেছেন, ‘‘মাদুরো একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত পুতুলমাত্র। এখন যদি মাদুরোর মৃত্যুও হয়, তা হলেও বলা যায় না যে মাচাদো এখনই দেশ চালানোর সুযোগ পাবেন। কারাকাসের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা মার্কিনপন্থী সরকারকে ক্ষমতায় আসার আগে মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করবে।’’