গোলের পর পেত্রাতোসের উল্লাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।
মোহনবাগান ২ (ম্যাকলারেন, পেত্রাতোস)
চেন্নাইয়িন ০
আইএসএলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সোমবার ঘরের মাঠে তারা ২-০ গোলে হারিয়ে দিল চেন্নাইয়িন এফসি-কে। জেমি ম্যাকলারেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতোস গোল করলেন। তবে আরও বেশি গোল করার সুযোগ ছিল মোহনবাগানের। সের্জিয়ো লোবেরা দলের সামনে যে লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছিলেন তা পূরণ হল না পুরোপুরি।
ম্যাচের শুরুটা হয় চেন্নাইয়ের আক্রমণ দিয়ে। বাঁ দিক থেকে দৌড়ে বক্সে নিচু ক্রস রেখেছিলেন ইরফান ইয়াদওয়াদ। তবে মার্টিন সেই বল ধরার আগেই তা তালুবন্দি করেন মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল কাইথ। দু’মিনিট পরেই শুভাশিস বসু পাস দেন অনিরুদ্ধ থাপাকে। তবে অনিরুদ্ধ সেই বল ধরতে পারেননি।
প্রথম ১৫ মিনিট দুই দলই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ করছিল। তবে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মোহনবাগানের আক্রমণের ঝাঁজ বাড়তে থাকে। মোহনবাগানের ফুটবলারেরা নিজেদের মধ্যে বেশি পরিমাণে পাস খেলতে থাকেন। সুযোগ খুঁজতে থাকেন চেন্নাই রক্ষণের ফাঁক খুঁজে গোল করার। চেন্নাইও চেষ্টা করতে থাকে আক্রমণ আটকানোর। চেন্নাইয়ের বক্সে দু’জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন রবসন। সেই শট প্রতিহত হয়। ফিরতি বলে শট নিয়েছিলেন অনিরুদ্ধ। সেই শট আটকে দেন হামতে। কিছু ক্ষণ পরে পেত্রাতোসেরও একটি শট আটকে দেন চেন্নাইয়ের গোলকিপার।
সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মোহনবাগানের আক্রমণ। চেন্নাই যে কোনও মতে আক্রমণ সামলাচ্ছে সেটা বোঝাই যাচ্ছিল তাদের মরিয়া প্রয়াস দেখে। যে কোনও মুহূর্তে গোল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। হঠাৎই ছন্দপতন হয় ২৮ মিনিট নাগাদ। মোহনবাগানের মেহতাব সিংহ এবং চেন্নাইয়ের নওয়াজ় একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান। কিছু ক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। চেন্নাই কোচ তুলে নেন গোলকিপারকে।
বিরতির পর কয়েক মিনিটের জন্য মোহনবাগানের খেলায় ছন্দপতন দেখা যায়। আবার তারা শুরু করে আক্রমণের ঝড়। দু’বার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিস্টন কোলাসো। রবসনও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। মনে হচ্ছিল প্রথমার্ধে কোনও গোলই হবে না। আক্রমণ সত্ত্বেও গোল না হওয়ায় হতাশ মুখে বসেছিলেন সমর্থকেরা। তাঁদের মুখে হাসি ফোটান ম্যাকলারেন।
চেন্নাইয়িন বক্সের ঠিক আগে বল পেয়েছিলেন ম্যাকলারেন। চেন্নাইয়ের নতুন গোলকিপার শমীক এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর পাস দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ম্যাকলারেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও মোহনবাগানের দাপট বজায় থাকে। চেন্নাইয়িন ব্যস্ত ছিল রক্ষণ সামলাতেই। তবে সেই কাজে বেশি ক্ষণ সফল হয়নি তারা। ৬৫ মিনিটের মাথায় বাঁ দিক থেকে বক্সে ক্রস ভাসিয়েছিলেন শুভাশিস। দূরের পোস্টে থাকা পেত্রাতোস চলতি বলে শট মেরে গোল করেন। এর পরেই গ্যালারির কাছে গিয়ে বিখ্যাত স্টেনগান উচ্ছ্বাস করতে দেখা যায় তাঁকে। হোসে মোলিনার জমানায় কার্যত শেষ হয়ে যেতে বসেছিল তাঁর ফুটবলজীবন। লোবেরা দু’টি ম্যাচেই সুযোগ দিয়েছেন। সেই আস্থারই দাম রাখলেন পেত্রাতোস।
ম্যাচের শেষ দিকে কিছু ক্ষণ জেসন কামিংসকে নামিয়েছিলেন লোবেরা। একটি শটও নেন কামিংস। তবে গোল করতে পারেননি। ম্যাচ জিতলেও সুযোগ পেয়ে গোল করতে না পারার আক্ষেপ থেকে যাবে মোহনবাগান ফুটবলারদের।