অনিকেতের দেহ ফিরল বাড়িতে

ছেলের মৃত দেহ গ্রামে পৌঁছতেই, জ্ঞান হারালেন মা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জানা ছিল না, ছেলের চরম পরিণতির কথা। আত্মীয় পরিজনেরা তাঁকে জানিয়েছিলেন, ছেলে অসুস্থ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০০:৪৮
Share:

ছেলের মৃত দেহ গ্রামে পৌঁছতেই, জ্ঞান হারালেন মা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জানা ছিল না, ছেলের চরম পরিণতির কথা। আত্মীয় পরিজনেরা তাঁকে জানিয়েছিলেন, ছেলে অসুস্থ। সুস্থ হলেই, তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। তাই, একমাত্র ছেলের মৃত দেহ দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না মা মল্লিকা বাগদী।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বিকেলে লাভপুরের গোপালপুর জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের পিছনে একটি পেয়ারা গাছে গলায় দড়ি নিয়ে ঝুলতে দেখা যায় মল্লিকাদেবীর একমাত্র ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অনিকেত বাগদীকে। সেই খবর পাওয়ার পরই, কয়েক জন পাড়া-প্রতিবেশী সহ স্কুলে পৌঁছন অনিকেতের বাবা বাসুদেব বাগদি। কিন্তু এ দিন সকাল পর্যন্ত স্ত্রীকে ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা জানানো হয়নি। বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর এ দিন বেলা চারটে নাগাদ ময়ূরেশ্বরের মহুরাপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় অনিকেতের মৃত দেহ। তার পরেই কান্নায় ভেঙে পরেন মল্লিকাদেবী।

কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না কেউই। পড়শিরা ভিড় জমান বাড়িতে। তারই নাঝে অনিকেতের দাদু হারাধন বাবু জানান, ৬ জানুয়ারি স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কার্ড করতে শেষ বাড়ি এসেছিল অনিকেত। তখনই জানিয়েছিল ছাত্রাবাসের ছেলের তাকে র‍্যাগিং করে। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম, সব ঠিক হয়ে যাবে। স্কুল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু তার পরিণতি যে এই হবে ভাবতে পারিনি!

Advertisement

অনিকেতের বাবা বাসুদেববাবু বলেন, ‘‘এ দিন মৃতদেহ নিয়ে আমরা স্কুলে ওর বন্ধুদের দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওই পথে যেতেই দেয়নি। ছেলের পারলৌকিক কাজ মিটে যাওয়ার পরে, স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাব।’’ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাতী মণ্ডল এ দিনও বলেন, ‘‘এই বিষয়ে যা বলার, পুলিশকে বলেছি। নতুন করে কিছু বলার নেই।”

পুলিশ জানায়, মৃতদেহ নিয়ে স্কুলে যেতে দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement