ভাঙা হল ‘অবৈধ’ বালিখাদানের অফিস। —নিজস্ব চিত্র।
বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে দফায় দফায় ‘অবৈধ’ বালিখাদানে হানা বাঁকুড়ায়। বুলডোজ়ার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বালি কারবারিদের অস্থায়ী অফিসঘর। ‘বেআইনি’ খাদান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হল বালি উত্তোলনে ব্যবহৃত একাধিক পে-লোডার, ট্র্যাক্টর, বাইক, ল্যাপটপ থেকে নগদ টাকা।
দ্বারকেশ্বর নদের তীরবর্তী বাঁকুড়ার ছাতনা থানার অন্তর্গত কাঁকি গ্রামে সম্প্রতি অভিযান চলে। অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সরব স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে ছাতনা থানার কাঁকি গ্রাম লাগোয়া দ্বারকেশ্বর এবং ডাংরা নদীর মিলনস্থলে গড়ে ওঠা চর থেকে বালি উত্তোলন করে অবাধে পাচারের কাজ চলত। পে-লোডার, ট্র্যাক্টরের সাহায্যে চলত লক্ষ লক্ষ টাকার বালির কারবার। গায়ের জোরে নদীর ধারে থাকা স্থানীয়দের জমিদখল করে বালি কারবারিরা গড়ে তুলেছিল অফিসঘর ও বালি পরিবহণের রাস্তা।
সেই অফিস থেকেই পরিচালনা হত বালি কারবারের যাবতীয় নজরদারি। চোখের সামনে অবৈধ কারবারে সরকারি কোটি কোটি টাকা রাজস্বের ক্ষতি দেখে চুপ থাকেননি স্থানীয়েরাও। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু অভিযোগ, প্রতি বারই মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবৈধ বালির কারবার রুখতে কড়া অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এলাকার অবৈধ বালিঘাটগুলি বন্ধের ব্যপারে তৎপর হয়ে ওঠেন ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ। কাঁকি গ্রাম লাগোয়া অবৈধ বালিঘাটের কথা জানতে পেরে তড়িঘড়ি সেখানে হাজির হন বিধায়ক। বালিঘাটেই তলব করা হয় ছাতনা থানার পুলিশ, ছাতনা ব্লক প্রশাসন এবং ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকদের। তাঁদের উপস্থিতিতে বিধায়কের নেতৃত্বে বুলডোজ়ার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ‘অবৈধ’ বালিখাদানের অফিস।
ওই বালি খাদানে ব্যবহৃত তিনটি পে-লোডার, একটি ট্র্যাক্টর, একটি বাইক, ল্যাপটপ এবং বেশ কিছু নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। বুধবার দুপুরে আবার একবার ওই বালি খাদানে গিয়ে ওই প্রশাসনিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘‘এক শ্রেণির আধিকারিকদের মদতে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ বালিঘাট থেকে মাসের পর মাস তৃণমূলের নেতারা কোটি কোটি টাকা লুট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য জুড়ে এই অবৈধ কারবার বন্ধের। অবিলম্বে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে।’’